ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ জাসদ নেতা মিন্টু গ্রেফতার ■ ফের নির্বাচনের দাবিতে ইসিকে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট ■ নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ রোববার ■ বিবিসি’র সেই ভিডিও নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী ■ বিদেশিদের বিএনপির ভরাডুবির কারণ জানালেন শেখ হাসিনা ■ বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ■ সংবিধান লঙ্ঘনে ইসির বিচার দাবি খোকনের ■ শপথ গ্রহণে যাচ্ছে না ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা! ■ আ’ লীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে যুবলীগ নেতা নিহত ■ বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিল একেবারেই আইওয়াশ ■ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ টিআইবি’র ■  আ’লীগের জয়জয়কার, মুছে গেল বিরোধীরা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের সোনা কি বদলানো সম্ভব?
দেশসংবাদ, ঢাকা :
Published : Monday, 23 July, 2018 at 10:01 AM, Update: 23.07.2018 12:52:09 PM

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা রাখা সোনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টের সোনা বদল হয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভল্টের সোনা বদলানোর কোনও সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার (মহাব্যবস্থাপক) আওলাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মহানিরাপত্তা ভেদ করে ভল্টের ভেতর থেকে একটি সুচও বদলানোর সুযোগ নেই। শুল্ক গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনে যে চাকতি বদলানোর কথা বলা হচ্ছে, সেই চাকতি বদল হয়নি। এয়ারপোর্টের কাস্টমস অফিসার ও গুদাম সংরক্ষক হারুন সাহেব যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন, ঠিক ওইভাবেই আছে। এ ব্যাপারে হারুন সাহেব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিতভাবেও জানিয়েছেন।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা জমা রাখার সময় ওই চাকতিতে যিনি সোনার পরিমাপ করে বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করেছিলেন, ব্যাংকের তালিকাভুক্ত সেই স্বর্ণকার গিয়াস উদ্দিনও বলছেন, চাকতি বদল হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভল্টের সোনা কোনোভাবেই বদলানোর সুযোগ নেই।’

যদিও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভল্টে ভিজিআর নম্বর ১১১০১৪ মূলে জমা করা মোট ৩ দশমিক ৩ কেজি ওজনের গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিংয়ের বদলে যথাক্রমে অন্য ধাতুর চাকতি ও রিং পাওয়া গেছে।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোনা হিসেবে জমা হলেও প্রকৃত যাচাই-বাছাইয়ে সোনা পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ভল্ট এলাকাকে ‘মহানিরাপত্তা এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সোনা জমা রাখা ভল্টে ঢুকতে গেলে কলাপসিবল গেট ছাড়াও ছয় স্তরের নিরাপত্তা পার হতে হয়। এ ছাড়া গেট পার হওয়ার সময় কার্ড পাঞ্চ করতে হয়। ঢোকার সময় ও বের হওয়ার সময় দেহ তল্লাশি করা হয়। যে ভল্টে সোনা থাকে তাকে বলা হয় ‘বুলিয়ন ভল্ট’। ভল্টের প্রধান ফটক থেকে বুলিয়ন ভল্ট পর্যন্ত তিনটি দরজা আছে। প্রতিটি দরজায় রয়েছে আলাদা আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই ভল্টের ভেতরে আলাদা আলমারি আছে। সেগুলোর জন্য আছে আলাদা আলাদা চাবি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ভল্টে কেউ ইচ্ছে করলেই ঢুকতে পারবে না। মূল ভল্টে (বুলিয়ন) প্রবেশের জন্য তিনটি চাবির দরকার হয়। এগুলো থাকে তিনটি পক্ষের কাছে। এর একটি থাকে সোনা জমা রাখা কাস্টমস বা শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে তিনজনের উপস্থিতি ছাড়া ভল্টে ঢোকার কোনও সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ একটি স্থান। যে ভল্টে সোনা রাখা হয় সেটি ছয় স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিচালনা করা হয়। কাজেই ভল্ট থেকে কোনোকিছু বদলানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল সাইডের একজন যুগ্ম পরিচালক এবং ক্যাশ সাইডের একজন যুগ্ম পরিচালকের যৌথ পরিচালনায় এবং সইয়ে লেনদেন পরিচালিত হয়। তাদের হাতে থাকা পৃথক দুটো চাবিও পৃথক দুটো নিরাপদ স্থানে জমা রাখা হয়।’
ম মাহফুজুর রহমান জানান, কোনও অনুমোদিত পরিদর্শক, এমনকি খোদ গভর্নরও যদি এই ভল্টে প্রবেশ করতে চান, তাহলে তাকেও নির্ধারিত পদ্ধতিতে লিখিত অনুমতি নিয়ে রেজিস্টারে প্রবেশের কারণ ও সময় উল্লেখ করতে হয়। এছাড়া ভল্টের ভেতর, দরজা ও বারান্দা সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত। এমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় থেকে কোনোভাবেই সোনা সরিয়ে ফেলা বা বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটোয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা জমা রাখার জন্য অনেকগুলো আইনি প্রক্রিয়া ও ধাপ পার হতে হয়। শুধু তা-ই নয়, জমা রাখা সোনা ভল্ট থেকে বের করতে চাইলেও আইনি প্রক্রিয়ায় ডজনখানেক ধাপ পার হতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে এক রতি সোনাও বের করার সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, আদালত যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে সোনা রাখতে বলেন তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে অনুমতি চেয়ে আদালতের রায়ের কপিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় আবেদন করতে হয়। এরপর ওই সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সোনাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়ে আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত স্বর্ণকার নতুন করে সোনার ওজন করেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে কষ্টিপাথরে সোনার মান যাচাই করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে সব সোনা একটি পট অথবা কৌটার মধ্যে রাখা হয়। এরপর ওই কৌটার মুখে ছোট একটি তালা লাগানো হয়। এরপর কৌটাটিকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়ে সিলগালা করা হয়। সেই প্যাকেটের ওপর সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগের একজন কর্মকর্তা আড়াআড়িভাবে সই করেন। এরপর কৌটার বা পটের চারদিক দিয়ে ছোট ছোট পিন গেঁথে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ধাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ছয় স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার করে ভল্টের মধ্যে ঢোকানো হয়। পরে ব্যাংক, কাস্টম হাউস অথবা এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই সোনার মান নির্ধারণ করে ব্যাংক গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে রসিদ দেয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতেও এ-সম্পর্কিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

দেশসংবাদ/MMH


আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশ ব্যাংক   ভল্ট   সোনা   শুল্ক   গোয়েন্দা   তদন্ত   অধিদফতর  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft