ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ || ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ জাসদ নেতা মিন্টু গ্রেফতার ■ ফের নির্বাচনের দাবিতে ইসিকে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট ■ নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ রোববার ■ বিবিসি’র সেই ভিডিও নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী ■ বিদেশিদের বিএনপির ভরাডুবির কারণ জানালেন শেখ হাসিনা ■ বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ■ সংবিধান লঙ্ঘনে ইসির বিচার দাবি খোকনের ■ শপথ গ্রহণে যাচ্ছে না ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা! ■ আ’ লীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে যুবলীগ নেতা নিহত ■ বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিল একেবারেই আইওয়াশ ■ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ টিআইবি’র ■  আ’লীগের জয়জয়কার, মুছে গেল বিরোধীরা
কে বসছেন পাকিস্তানের সিংহাসনে ?
দেশসংবাদ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 25 July, 2018 at 10:44 PM, Update: 26.07.2018 1:52:01 PM

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সহিংসতা ও নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনার কাজ। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফলাফলও আসতে শুরু করেছে। তবে চূড়ান্ত ফল পেতে অপেক্ষ করতে হবে আরো কিছুক্ষণ।  তবে এবার কে বসছে দেশটির মসনদে এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।  এরই মধ্যে এই সিংহাসনের দাবিদার হিসেবে ইমরানের খানের নামটিই জোরেসোরে উচ্ছারিত হচ্ছে। তবে ভোটের ফলাফল যেকোন দিকেই গড়াতে পারে। অবশ্য ক্ষমতায় যেতে হলে থলেতে ভরতে হবে কমপেক্ষ ১৩৭ আসন। অন্যথায় ধারস্ত হতে হবে অন্য দলের। 

তবে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন), নাকি সেনাবাহিনী-পুষ্ট বলে পরিচিত ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), অথবা বেনজির ভুট্টোর পুত্র বিলাওয়াল ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)! এ তিন দলের যে কোনটিই ক্ষমতায় আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। 

সেনাবাহিনীর গড়াপেটার গুঞ্জনসহ নানা আলোচনার মধ্যে বুধবার (২৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় পাকিস্তানজুড়ে। ভোটগ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রায় দুই কোটি নতুন ভোটারসহ ১০ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরপর শুরু হয় গণনা। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) ভোরের আগেই বেসরকারিভাবে পুরো ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

সরকার গঠনের জন্য ২৭২ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদে প্রয়োজন হবে ১৩৭টি আসন। কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে না পারলে সমমনা দলগুলো মিলে গড়বে জোট সরকার।

নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ১১ হাজার ৬৭৩ জন প্রার্থী। এরমধ্যে জাতীয় পরিষদ বা কেন্দ্রীয় সংসদে ৩ হাজার ৪২৪ জন এবং প্রাদেশিক পরিষদে প্রার্থী হয়েছেন ৮ হাজার ২৪৫ প্রার্থী। এরমধ্যে দলীয়ভাবে ৫ হাজার ৬৬১ জন প্রার্থী হলেও স্বতন্ত্রভাবে ৬ হাজার ১২ জন।

সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে পাঞ্জাব প্রদেশে ৮২০ জন, সিন্ধুতে ৪৪১ জন, খাইবার পাখতুনখওয়ায় ৩৩৫ ও বেলুচিস্তান প্রদেশে ১৭৩ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ৩৬ জন প্রার্থী লড়ছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাঞ্জাবে ৭১৪ জন, সিন্ধুতে ৩৭৩ জন, খাইবার পাখতুনখওয়ায় ৩৮৬ জন, বেলুচিস্তানে ১১৭ জন ও রাজধানীতে ৩৩ জন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নির্বাচন কমিশনে (ইসিপি) নিবন্ধিত ১২০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৯৫টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকার গঠনের লড়াইয়ে আগে থাকছে পিএমএল-এন, পিটিআই ও পিপিপি। বিশেষ করে নওয়াজের দল পিএমএল-এন ও ইমরানের দল পিটিআইয়ের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পিএমএল-এনের সমর্থকরা যেমন ভাবছেন, (দুর্নীতির দায়ে) নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে তার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, সেটা বিবেচনায় নিয়ে জনগণ তাদের ফের ক্ষমতায় বসাবে। অন্যদিকে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বেসামরিক শাসনে বিশ্বাসী নওয়াজের ওপর বরাবরই রুষ্ট সেনাবাহিনী। এই সেনাবাহিনীর হাতেই একবার ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল তাকে। 

অপরদিকে ইমরান খানকে বরাবরই পছন্দ করে প্রভাবশালী এই বাহিনী। নওয়াজের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে যে মামলা নিয়ে গিয়েছিলেন ইমরান, সেখানে পিটিআই প্রধানের পেছনে ছিল সেনাবাহিনীই। এই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইমরানের জন্য যে গড়াপেটার গুঞ্জন উঠেছে, ফলাফলে তারই প্রকাশ ঘটবে।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট তারকা ও পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে এগিয়ে রেখেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। এক প্রতিবেদনে ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অধিনায়ক ইমরান খানই রয়েছেন এগিয়ে।

মধ্য-ডানপন্থী পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের এই প্রধান দুর্নীতিবিরোধী প্ল্যাটফর্মে থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দেশটির তিনবারের প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি নওয়াজ শরিফের রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করছেন ৬৫ বছর বয়সী ইমরান।

এদিকে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা পাকিস্তানের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭১ হাজার সৈন্যসহ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৮ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়। যদিও কোয়েটা, লারকানা, খোজদার, সোয়াবি ও কোহিস্তানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে কোয়েটায় আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ গেছে ৩১ জনের। তবে অন্য এলাকাগুলোতে সেনা নিরাপত্তায় ভোট হয় অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ।

দেশসংবাদ/এসএম



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft