ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ২ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ জাসদ নেতা মিন্টু গ্রেফতার ■ ফের নির্বাচনের দাবিতে ইসিকে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট ■ নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ রোববার ■ বিবিসি’র সেই ভিডিও নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী ■ বিদেশিদের বিএনপির ভরাডুবির কারণ জানালেন শেখ হাসিনা ■ বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ■ সংবিধান লঙ্ঘনে ইসির বিচার দাবি খোকনের ■ শপথ গ্রহণে যাচ্ছে না ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা! ■ আ’ লীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে যুবলীগ নেতা নিহত ■ বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিল একেবারেই আইওয়াশ ■ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ টিআইবি’র ■  আ’লীগের জয়জয়কার, মুছে গেল বিরোধীরা
আবাসিক ভবনে কল-কারখানা, ব্যবস্থা নিচ্ছে না রাজউক-ডিসিসি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
Published : Sunday, 9 December, 2018 at 6:01 PM, Update: 09.12.2018 6:37:17 PM

রাজধানী ঢাকায় যে কেউ ইচ্ছে করলেই কল-কারখানা গড়ে তুলতে পারছে। এ বিষয়ে কঠোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় আইনে তোয়াক্কা না করে যে যার মত করে অবৈধভাবে শিল্প কারখানা গড়ে তুলছে। আর এসব শিল্প-কারখানার অধিকাংশ আবাসিক ভবনে গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব শিল্প-কারখানা নানা ধরনের দূষণ ছড়াচ্ছে। এসব জেনেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তর কোন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে কল-কারখানা করার আগে সিটি করপোরশেনের অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। আর এসব শিল্প কারখানা আবাসিক ভবনে গড়ে উঠলে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাজউকেরও রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এ আইন অমান্য করে যত্রতত্র গড়ে তুলছে অনুমোদনহীন ছোটবড় শিল্প-কারখানা। এর ফলে একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে ডিসিসি অন্যদিকে কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ক্যমিকেলে পরিবেশ দূষণ হয়ে নগরবাসীর নানা রোগ-ব্যাধী ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে অভিযোগ নগরবাসীর।

জানা গেছে, রাজধানীতে আইন অমান্য করে বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক গড়ে উঠছে এসব শিল্প-কারখানা। স¤প্রতি এক সেমিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জানিয়েছেন নগরীতে প্রায় তিন লাখ ছাট-বড় শিল্প-কারখানা রয়েছে। যার অধিকাংশই আবাসিক ভবনে অবস্থিত। এসব শিল্প-কারখানার বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, এসব শিল্প-কারখানার নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। আর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ কারখানার ভবনগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সেই সঙ্গে শব্দদূষণসহ নানা ধরনের দূষণ ঘটাচ্ছে ওইসব কারখানা। এই ঝুঁকির মধ্যেই বহু পরিবার সেখানে কিংবা আশপাশে বসবাস করছে।  

জানা গেছে, রাজধানীর তিন লাখ ছোট-বড় শিল্প-কারখানা রয়েছে। এরমধ্যে কমপক্ষে ৬০ হাজার রয়েছে অবৈধ। আর গড়ে ওঠা এসব শিল্প-কারখানাগুলোর শতকরা ৮০ ভাগই বিভিন্ন আবাসিক ভবন বা বাসাবাড়িতে অবস্থিত। যার বেশির ভাগের অবস্থান পুরান ঢাকায়। এসব ভবনের অধিকাংশই আবার পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। বেশির ভাগ কারখানাতেই ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিকসহ নানা ধরনের দাহ্য পদার্থ ও জ্বালানি তেল। যেকোনো মুহূর্তে এসব ভবন ভেঙে পড়তে পারে এবং সেখানে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পুরান ঢাকার একাধিক শ্রমিক জানান, এসব কারখানার অধিকাংশেরই কোনো ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই।  

জানা গেছে, কোনো আবাসিক এলাকায় জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা হুমকি হতে পারে এমন কোনো কারখানা বা দোকানের অনুমতি নেই পরিবেশ অধিদফতরের। পুরান ঢাকাসহ রাজধানীতে ইতিমধ্যে যেসব কারখানা গড়ে উঠেছে, তার শতকরা ৭৮ ভাগেরই কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এসবের মধ্যে অধিকাংশ কারখানা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের কথা বলে ডিসিসির ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে ।

এসব কল-কারখাার মধ্যে রয়েছে, গাড়ির গ্রেজ, ওয়ার্কশপ, ব্যাটারি ঢালাই, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক পাখা ও তার, আচার, চকোলেট, বিস্কুট। এছাড়াও রয়েছে বিপুলসংখ্যক ঝালাই কেমিক্যাল, রেক্টিফায়েড স্কিরিট, নানা ধরনের সুগন্ধি, আতশবাজি, পটকা, সাইকেল, নাটবল্টু, খেলনা, প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কারখানা। একই সাথে রয়েছৈ, নকল প্রসাধনী সামগ্রী, বিভিন্ন ধরনের গহনা, জুতা, স্যান্ডেল, রাবার, রং, সলিউশন, ব্লিচিং পাউডার, ওয়াশিং সামগ্রী,ফার্নিচার, বুটিকের কারখানাসহ অন্যান্য। একটি সূত্র মতে, রাজধানীতে এধরনের প্রায় আড়াই লাখ ছোট-বড় কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানাতে ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিকসহ নানা ধরনের দাহ্য পদার্থ ও জ্বালানি তেল। নগরীতে দূষণমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় প্রতিনিয়তই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের জন্য পরিবেশ অধিদফতর, ডিসিসি, রাজউক, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের সমন্বয়হীনতা ও অনিয়ম-দুর্নীতিকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারখানায় ব্যবহৃত বিষাক্ত কেমিক্যাল বাতাসের সঙ্গে মিশে গিয়ে একদিকে, পরিবেশ দূষিত করছে অন্যদিকে, গ্যাসে ফুসফুস ক্যান্সার, চোখের সমস্যা, চর্মরোগ, আমাশয়, জন্ডিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে নগরবাসী। সূত্রমতে, পরিবেশ দূষণ নির্গমন আইন লঙ্গন করলে প্রথম বারের জন্য এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পরবর্তী দফায় একই অপরাধের জন্য ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে পরিবেশ দূষণ করতে কেউ দিধাবোধও করছে না। পরিবেশবিদ ড. এম এ মতিন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত মহানগরের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন শহরের বাইরে গড়ে তুলতে হবে। পরিকল্পিত নগর গড়তে হলে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর ভূমিকা পালন করা উচিত।

দেশসংবাদ/এসআই

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft