ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ || ২ পৌষ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ বিজয় দিবসের স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত ■ খালেদা জিয়ার শরীর খুবই খারাপ ■ রাজাকারের তালিকায় গোলাম আরিফ টিপু! ■ স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও দেশ আজ গণতন্ত্রহীন ■ পুলিশের নৃশংস হামলায় রক্তাক্ত জামিয়া, হতবাক শিক্ষার্থীরা ■ বাজারে আসছে ২০০ টাকার নোট ■ পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির হুঁশিয়ারি ■ দিল্লি পুলিশ সদর দফতর ঘেরাও, রাতভর বিক্ষোভ ■ জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল ■ রাতভর বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাস, রণক্ষেত্র দিল্লী ■ প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর হত্যা, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত ■ বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি
গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর)
Published : Friday, 5 July, 2019 at 2:17 PM

হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে গত (২০১৮-১৯) অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে চাহিদার অধিকাংশ পণ্যই এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি হলেও শুল্কমুক্ত পণ্য বেশী আমদানি এবং ভারতের ফারাক্কা বাঁধ সংস্কারের প্রভাবেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও কাস্টমসের বৈষম্যনীতির কারণে কাঁচা ফল, মাছসহ অধিক শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হিলি স্থলশুল্ক স্টেশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে নাই।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত (২০১৮-১৯) অর্থ বছরে ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন। এর বিপরীতে আদয়ে হয়েছে ২৩৩ কোটি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি


গত অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাই মাসে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রথম মাসেই ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার বাড়তি রাজস্ব আদায় হলেও আগস্ট মাসে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ২১ লাখ। সেপ্টেম্বর মাসে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। অক্টোবর মাসে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। নভেম্বর মাসে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার। ডিসেম্বর মাসে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। জানুয়ারিতে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মার্চ মাসে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এপ্রিল মাসে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৩ হাজার। মে মাসে ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ২২ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এবং জুন মাসে ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারন উর রশিদ হারুন বলেন, কাস্টমসের দ্বিমুখী নীতির কারণেই হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো, দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি করা পণ্য পরীক্ষা করে ঠিক যেটুকু পণ্য থাকবে সেই পরিমাণ পণ্যের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে উল্টো নিয়ম, গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের প্রথা চালু করা হয়েছে। এর ফলে একজন আমদানিকারক একটি ট্রাকে ১০ টন ফল আমদানি করলেও গাড়ির চাকা অনুযায়ী তাকে ১৪ থেকে ১৫ টনের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিড়ম্বনা রয়েছে যেমন একই পণ্য অন্যান্য বন্দর দিয়ে কম মূল্যে শুল্কায়ন করা হলেও হিলি স্থলবন্দরের ক্ষেত্রে বাড়তি মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়।

হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি


এর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি করলে বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া এসব শুল্কযুক্ত পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে হওয়ার কারণে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যায় যেখানে অন্য বন্দর দিয়ে কম সময়ে ছাড় দেওয়া হয়। এসব লোকসানের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছেন। তবে দেশের অন্য বন্দরগুলোর মতো হিলি স্থলবন্দর পরিচালনা করা হলে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি যেমন বাড়বে তেমনি বন্দরের রাজস্ব আহরণও বাড়বে।’

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাস থেকে ভারতের ভেতরে ফারাক্কা ব্যারেজের সংস্কার কাজ চলার কারণে বন্দর দিয়ে পাথরসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি একেবারে বন্ধ ছিল। এছাড়াও বন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি না হওয়া এবং বেশিরভাগ পণ্যই শুল্কমুক্ত ও কম শুল্কযুক্ত হওয়ার কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

দেশসংবাদ/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  হিলি স্থালবন্দরে ৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft