ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ || ২ শ্রাবণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ফলাফল দিতে পারায় খুশি প্রধানমন্ত্রী ■ মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ৪ জেনারেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ■ টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদককারবারি নিহত ■ যে কারণে গ্রেফতার হলেন মিন্নি ■ যেভাবে জানা যাবে এইচএসসি’র ফল ■ এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাশের হার ৭৩.৯৩ ■ সাক্ষী থেকে আসামি মিন্নি ■ তেজগাঁওয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৩ ■ পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত ■ একটি লোকও আহত হয়নি অথচ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে ■ মিয়ানমারকে টর্পেডো দিলো ভারত ■ অবশেষে গ্রেফতার হলেন মিন্নি
কেন এতো নিষ্ঠুর-নির্মম হয়ে ওঠছে মানুষ!
সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা :
Published : Friday, 5 July, 2019 at 11:29 PM, Update: 05.07.2019 11:35:21 PM

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিশ্চয়ই বসে নেই। খুন-গুম ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ আপরাধগুলোর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে তারা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন বাহিনীগুলোর এতো তৎপরতার মধ্যেও কেন বন্ধ হচ্ছে না এসব অপরাধ!

রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকার পাতা খুললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে খুন-ধর্ষণের মতো নির্মমতার খবর। কিছু খুন ও ধর্ষণের ঘটনা এতোই নির্মমভাবে ঘটছে, বিশ্বাসই করা যায় না যে এরাও মানুষ!। তনু ও নুসরাতের মতো প্রতিদিনই ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা কাণ্ড ঘটছে। পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে কুপিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা আর নয়ন বন্ডদের দায়ের কোপে নির্মমভাবে খুন হওয়া রিফাতের ঘটনা বিশ্বমিডিয়ায় আলোচিত হয়েছে। দেশবাসীও তা জেনেছে, কিন্তু এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটছে যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে না। নিবরেই চাপা পড়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতিকালে নারায়ণগঞ্জের দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের ঘটনা সব মহলে আলোচিত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ নগরীর সিদ্ধিরগঞ্জের একটি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফ আপত্তিকর ছবি তুলে ২০ এর অধিক ছাত্রীকে ব্লাকমেইল করে ধর্ষণ করার অভিযোগে গ্রেফতার হন। একই অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকও গ্রেফতার হয়। এদের রিমান্ডেও নেয়া হয়। এই দু’শিক্ষকের অপরাধের মাত্রা এতোই তীব্র হয় যে কেউ একজন র‌্যাব এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনা প্রকাশের কারণে আরেকটি বড় ঘটনারও প্রকাশিত হয়ে যায়। এই দু’শিক্ষকের ঘটনা টেলিভিশনে দেখে তৃতীয় শ্রেনীর একজন মাদ্রাসা ছাত্রী তার শিক্ষককে এভাবে টেলিভিশনে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তার মায়ের কাছে। পরে কৌতুহলি মা জানতে চাইলেন কেন কি হয়েছে? এক পর্যায়ে মায়ের কাছে ওই শিশুটি মাদ্রাসার প্রধানের সব অপকর্মের কথা খুলে বলেন এবং গ্রেফতারও হয় সেই শিক্ষক। পরে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। স্কুল কি মাদ্রাসা কোথায়ও নিরাপত্তা নেই ছোট্ট ছোট্ট কন্যা শিশুদের। বাবার বয়সী এসব ব্যক্তিরা এতোটাই নির্মম কেন হচ্ছেন, এটা কি কোন সামাজিক বিপর্যয় নাকি মহামারি আকাড়ে পরিণত হয়েছে?  শুধু কি শিক্ষক, চাচা এমনকি বাবার যৌন লালসার শিকার হচ্ছে কন্যারা।  

স্বামী শাশুড়ী ননদরা মিলে ঘরের বৌকে আগুন দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে পুড়িয়ে হত্যা করছে। মায়ের বাবার বাড়ির টাকায় ছেলে দোতালা বাড়ি নির্মাণ করলেও সেখানে মায়ের ঠাঁই হয় না। নির্জন অন্ধকার ঘরে থাকতে হচ্ছে গর্ভধারিণীকে। নিজের সন্তান জন্ম দেয়ার পর পলিথিনের ব্যাগে রাস্তায় বা কোন লোকালয়ে ফেলে যাচ্ছেন ‘মা’। হাসপাতালে শিশু জন্ম দেয়ার পর নবজাতককে রেখে মা উধাও হয়ে যাচ্ছে। ঘুমন্ত স্বামীকে ইট দিয়ে মাথা থেতলিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য ঠাণ্ডা মাথায় ছয় টুকরা করছে প্রিয়তমা স্ত্রী। রংপুরে আলোচিত অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা কিভাবে হত্যার পর লাশ গুম করেছেন স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক তা দেশবাসীর জানা রয়েছে। এসব দেখেও কি আমরা আামাদের সামাজিক চিত্র পাল্টে যাচ্ছে বলতে পারি না?

৫ জুলাইও নাটোরের বড়াইগ্রামে ঘটেছে আরেক নির্মমতা। আমিন হোসেন নামে এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। একইদিন শেরপুরের শ্রীবরদীতে বন্ধুর ছোড়া গুলিতে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম মো. আলেক মিয়া (২৪)। আশঙ্কাজনক ওই যুবক এখন ঢামেকে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বন্ধু সোহাগ বন্ধু আলেকের মাথায় গুলি করেন। বন্ধুত্বের সম্পর্কও মানুষকে নির্মমতা থেকে দূরে সরাতে পারছে না। একদিনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচার উপায় কী?





লেখক: সংবাদকর্মী
 
দেশসংবাদ/এসএস

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।।
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft