ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ || ২ শ্রাবণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ৪ জেনারেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ■ টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদককারবারি নিহত ■ যে কারণে গ্রেফতার হলেন মিন্নি ■ যেভাবে জানা যাবে এইচএসসি’র ফল ■ এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাশের হার ৭৩.৯৩ ■ সাক্ষী থেকে আসামি মিন্নি ■ তেজগাঁওয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৩ ■ পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত ■ একটি লোকও আহত হয়নি অথচ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে ■ মিয়ানমারকে টর্পেডো দিলো ভারত ■ অবশেষে গ্রেফতার হলেন মিন্নি ■ প্রাণের ব্রেডের মধ্যে জ্যান্ত কেঁচো
ইসলামপুরে চরাঞ্চলে যমুনার ভয়বহ ভাঙ্গন
ওসমান হারুনী, জামালপুর
Published : Sunday, 7 July, 2019 at 12:26 PM

ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের চরশিশুয়া থেকে চেঙ্গানিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাটি গত ৪০ বছরে দুই দফা যমুনা নদী ভাঙ্গনের শিকার হলো। সম্প্রতি ওই এলাকাটিতে আবারো শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। এবছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনা গর্ভে বিলীন হচ্ছে সাপধরী জনপদ।  

সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, সাপধরী ইউনিয়নের ঘনবসতিপূর্ণ ২০টি গ্রামই ১৯৮০ সনেও সড়ক পথে ইসলামপুর উপজেলা শহরের সাথে সংযুক্ত ছিল। তখন ওই চরের কৃষি নির্ভর মানুষগুলো খুবই সুখি ও সমৃদ্ধশালী ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সাপধরী ইউনিয়নের কৃষি নির্ভর মানুষগুলোর সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৮০ সন থেকে ২০১৯ সন পর্যন্ত সময়ে এলাকাটি দুই দফা যমুনা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।

ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি থেকে চরশিশুয়া হয়ে চেঙ্গানিয়া পর্যন্ত এলাকায় ১৯৮০ সনের বর্ষা মৌসুমে যমুনার বামতীরে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। এরপর কয়েক বছরের অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে এলাকাটি সম্পূর্ণরুপে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তখননই এই এলাকাটি সম্পূর্ণরুপে উপজেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই সময় এলাকাটির বাসিন্দারা ঘরবাড়ী ভেঙ্গে আশ পাশের গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেন। কেহ নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর বন্দরে চলে যান। অনেকেই যমুনার পেটে জেগে উঠা সাপধরী ইউনিয়নের অন্য ছোট ছোট চরে বসতি গড়ে কষ্টের জীবন ধারণে বাধ্য হন।

এরপর ২০০১ সনে সাপধরী ইউনিয়নের সিংহভাগ ভুমি যমুনার পেট থেকে জেগে বসতি স্থাপন ও চাষের উপযোগী হয়ে উঠে। সেখানে আবারো শুরু হয় নতুন করে বসতি স্থাপন এবং কৃষি নির্ভর সুখের জীবন শুরু হলেও সুখটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ গত ৪০ বছরের মাথায় সম্প্রতি এখানে আবারো শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন।

ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের মন্ডলপপাড়া গ্রামের ফজলুল হক, চরশিশুয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান, সবজল চৌধুরী ও ফজল প্রামানিক জানান, ১৯৮০ সনে এলাকাটি নদী ভাঙ্গনের দুই এক বছরের মাথায় এখানে যমুনার পেটেই দুই একটা ছোট ছোট চর জাগতে থাকে। একপর্যায়ে যমুনার সাপধরী ইউনিয়নের পুর্বদিকে কয়েক কিলোমিটার সরে যায়।

এদিকে যমুনার পেটে জেগে উঠা ছোট ছোট চরগুলো একত্রিত হয়ে ২০০১ সনে বিশাল উচু চরে রুপান্তরিত হয়। এতে সাপধরী ইউনিয়নের সিংহভাগ ভুমি বসতি স্থাপন ও চাষের উপযোগী হয়ে উঠে।

তখন থেকেই এখানে আবারো শুরু হয় নতুন করে বসতি স্থাপন। বিশেষ করে ১৯৮০ সনে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া মানুষগুলো আবারো এলাকায় ফিরে আসে। এখানে আবারো গড়ে উঠে ঘনবসতি। নতুন চরেই ফের শুরু হয় তাদের কৃষি নির্ভর সুখের জীবন। এভাবেই কেটে যায় প্রায় ২০টি বছর। কিন্তুু বিধি বাম। গত ৪০ বছরের মাথায় সম্প্রতি এই এলাকাটিতে আবারো শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন।

ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের চরশিশুয়া গ্রামের বাসিন্দা আমীর উদ্দিন, চেঙ্গানিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন জানান, এবছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই সাপধরী ইউনিয়নের চরশিশুয়া থেকে চেঙ্গানিয়া পর্যন্ত এলাকাটিতে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। এবার পূর্বদিক থেকে শুরু হয়েছে যমুনার ভাঙ্গন।

ফের নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঠ। এবার যমুনা নদী এখানে পশ্চিম তীর ভেঙ্গে গভীর হয়ে পশ্চিম দিকেই সরে যাচ্ছে। হয়তো আবারো এখানেই টানা ২০ বছর যমুনার ¯্রােত উজান থেকে ভাটিতে প্রবাহিত হবে।

ইসলামপুরের চরশিশুয়া গ্রামের বাসিন্দা সন্দেস সেক বলেন, আগে শুনেছি নদীর এই কুল ভাংগে ওই কুল গড়ে। আর এখন দেখি নদীর দুই কুলই ভাংগে। নদী ভাঙ্গুক আর না ভাঙ্গুক চরাঞ্চলবাসীর প্রত্যাশা এখানে পূর্বের ন্যায় আবারো জেগে উঠবে নতুন চর।

কারণ এই  এলাকাটিতে পূর্ব থেকেই ২০ বছর চর থাকে ২০ বছর নদী থাকে। তাই নদীভাঙ্গা মানুষগুলো তাদের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে আশ পাশের গ্রামে এবং সাপধরী ইউনিয়নের অন্য ছোট ছোট চরে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।





তিনি আরো বলেন, যমুনা নদীর ভাঙ্গা গড়ার সাথে যুদ্ধ করেই তার বাপ দাদাও এক চর থেকে  আরেক চরে বসবাস করেছেন। এভাবেই যুগযুগ ধরে সুখে দুঃখে আবর্তীত হচ্ছে ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের নদীভাঙ্গা অসহায় মানুষগুলোর জীবনযাত্রা।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।।
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft