ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ || ২৮ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগ নেতা নিহত ■ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হলেন ৫৮ কর্মকর্তা ■ বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হলেন শফিউল আলম ■ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ■ র‌্যাগিং বন্ধে বিশেষ সেল হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ■ যুবলীগের ‘বয়সসীমা’ নির্ধারণে ভাবনা ■ বিএনপি নেতা মেজর হাফিজের জামিন ■ বিশ্ব এখন বাংলাদেশের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে চায় ■ কারাগারে অনিককে কেউ মারধর করেনি ■ ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ ■ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি বন্ধে হাসিনা-খালেদাকে বিবাদী করে রিট ■ রাজীবের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ
মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে সৈয়দ কায়সারের আপিল শুনানি শুরু
দিদারুল আলম, ঢাকা
Published : Wednesday, 10 July, 2019 at 2:11 PM

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আনা আপিলে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সার আজ শুনানি শুরু হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বেঞ্চে এ আপিল মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। এ আপিল বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা এবং বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান।

আদালতে কায়সারের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনকারী হবিগঞ্জ মহকুমার রাজাকার কমান্ডার ও শান্তি কমিটির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৫২ জনকে হত্যা-গণহত্যা, ২ নারীকে ধর্ষণ, ৫ জনকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় এবং দুই শতাধিক বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন এবং ষড়যন্ত্রের ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ১৪টিই প্রমাণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে প্রথমবারের মতো অন্য অপরাধের পাশাপাশি ধর্ষণের দায়েও ফাঁসির আদেশ পান কায়সার। সাঁওতাল নারী হীরামনি ও অপর নারী মাজেদাকে ধর্ষণের অপরাধ দু’টি প্রমাণিত হয় রায়ে। ওই দুই বীরাঙ্গনা নারী ও ধর্ষণের ফলে বীরাঙ্গনা মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়া যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্যও দেয় সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে ফাঁসির সাজা বাতিলে আপিল করেন কায়সার। ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পক্ষে মোট ৫৬টি যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি।

কায়সারের বিরুদ্ধে ৪৮৪ পৃষ্ঠার ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধকালে সৈয়দ কায়সার প্রথমে হবিগঞ্জ মহকুমার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫০০/৭০০ স্বাধীনতাবিরোধী লোক নিয়ে পাক-সেনাদের সহযোগিতা করতে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ নামে একটি বাহিনী গঠন করেন। তিনি নিজে ওই বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ‘কায়সার বাহিনী’ নামাঙ্কিত এ বাহিনীর নিজস্ব ইউনিফর্মও ছিল। এ বাহিনীর মাধ্যমে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বৃহত্তর কুমিল্লায় হত্যা, গণহত্যা, মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালান। তিনি পাক-সেনাদের পথ দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালান। রায়ের পর্যবেক্ষণে কায়সার বাহিনীকে পাক-সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনী বা অক্সিলারি ফোর্স না বললেও রায়ে বলা হয়, এ বাহিনী ও সৈয়দ কায়সার ভিক্টিম ও অপরাধ সংঘটনস্থল এলাকাগুলোর মানুষের কাছে ঘৃণিত হয়ে থাকবেন।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/জেএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মুক্তিযুদ্ধ   মানবতাবিরোধী   অপরাধ   যুদ্ধাপরাধ   মৃত্যুদন্ড  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft