ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ পরমাণু বোমা! ■ একটু পানি চেয়েছিল মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকা আবরার ■ রিমান্ডের প্রথম দিনেই র‍্যাবের কাছে সম্রাট ■ যুবলীগের কোন দুর্নীতিবাজ যেন গণভবনে না আসে ■ টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক কারবারি নিহত ■ মদিনায় বাসে আগুন, ৩৫ ওমরাহ যাত্রী নিহত ■ সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ করতে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ■ বড় ভাইয়ের নির্দেশে আবরারকে ডেকে এনে মারা হয় ■ কুষ্টিয়ায় কৃষক হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ চারজনের ফাঁসি ■ সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ ডেকেছে ঐক্যফ্রন্ট ■ ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ■ ফের কাশ্মীরে গোলাগুলি, ৩ সন্ত্রাসী নিহত
নেত্রকোনায় ১১ টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত
ভজন দাস, নেত্রকোনা
Published : Thursday, 11 July, 2019 at 7:27 PM

টানা চার দিন ব্যাপী অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে নেত্রকোনার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর দুই উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ১১ টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। কয়েকশত পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বন্যার্থদের সাহায্যে চাউল বরাদ্দসহ শুকনো খাবার বিতরণ করছে।



জানাযায়,জেলার কলমাকান্দায় ও দুর্গাপুরে ফের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে রয়েছে হাজারো মানুষ। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। উপজেলা সদরের সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের পাকা সড়ক ও কাচাঁ সড়ক তলিয়ে গিয়ে স্থানীয় ভাবে ওই সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ডুবে গেছে অনেক পুকুর ও মাছের ঘের। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়া। এ অবস্থায় পানিবন্দি ওইসব পরিবারের লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিগত দু’সপ্তাহ আগেও এ দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বর্তমানে কলমাকান্দা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বড়খাপন,খারনৈ, কলমাকান্দা সদর, রংছাতী ও পোগলা ইউনিয়ন। অপরদিকে দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া, কাকড়গড়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নের ৮ গ্রামে পানি ঢুকে পরেছে ।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুয়েল সাংমা জানান, বৃষ্টি আর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি ঢলের পানিতে কলমাকান্দা উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের সবকয়টিতেই কমবেশি পানি ঢুকেছে। এর মধ্যে রংছাতিসহ চারটি ইউনিয়নে বেশি পানি ঢুকেছে। এতে নিচু এলাকার ৪০ থেকে ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিন শতাধিক পরিবারের সদস্য বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদেও তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম জানান,পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কুল্লাগড়া, কাকড়গড়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নের ৮ গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। এই গ্রামগুলোর প্রায় দুইশ’পরিবার বাড়ি ছেড়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভবনগুলোতে উঠেছেন।

তাদের জন্যে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে। শুকনো খাবারের মধ্যে চিড়া, মুড়ি, গুড়, তেল, লবন, ডাল ও চাউলসহ জরুরি প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী রয়েছে।
 
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, জেলার সোমেশ্বরী, উব্ধাখালি,কংশও ধনু নদীর পানি বাড়ছে। অতিবৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের ফলে দুর্গাপুরে সুমেশ্বরী নদীর বিপদসীমার ৬৫ সেঃমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে,কলমাকান্দায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১.৫০সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে গত চারদিন ধরে পানি উঠানামা করছে। বৃষ্টি ও ঢলের গতি বাড়লে পানি বাড়ে আবার গতি কমলে পানি কমে। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ সেন্টিমিটার পানি উঠানামা করছে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, দুই উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন করে মোট ২০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার পর প্রয়োজনীয় সাহায্য দেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার থেকে নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে জেলার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ী ও হাট-বাজার হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক জায়গায় নদীর কুল উপচে নিন্মাঞ্চলের অনেক বাড়ি-ঘরে ঢলের পানি ঢুকছে শুরু করেছে। আমন ধানের বীজতলা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আংশকা করা হচ্ছে।

এদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের ইন্দ্রপুর এলাকায় একটি সেতু ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক বিভাগ সেতুটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  নেত্রকোনা   গ্রাম   প্লাবিত  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft