ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯ || ৮ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ■ কাশ্মীরে গণহত্যার সতর্কতা জারি, ১০ আলামত প্রকাশ ■ সাতক্ষীরায় গোলাগুলিতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত ■ সৌদি আরবে ড্রোন হামলা ■ টেকনাফে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করলো রোহিঙ্গারা ■ সারেদেশে বজ্রপাতে নিহত ১২ ■ রাখাইনে প্রবেশ করতে চায় ইউএনএইচসিআর ■ এমপির পছন্দের ব্যক্তিই হবেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ■ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকে আরো ২০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ■ রোহিঙ্গাদের ফেরত না যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে যার প্রভাব ■  ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় ■ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন জিয়া
তুরস্ককে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ হস্তান্তর (ভিডিও)
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Sunday, 14 July, 2019 at 11:08 AM

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রুশ এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম দফাটি পাওয়ার কথা জানিয়েছে একদিন আগেই। শনিবার দ্বিতীয় চালানটিও তুর্কি বিমানবন্দরে পৌঁছে গেছে।

তুরস্ক রুশ এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম দফাটি পাওয়ার কথা জানিয়েছে একদিন আগেই। শনিবার দ্বিতীয় চালানটিও তুর্কি বিমানবন্দরে পৌঁছে গেছে। রাজধানী আঙ্কারার কাছে মুরটিড বিমানবন্দরে চতুর্থ একটি রুশ কার্গো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটির যন্ত্রপাতি নিয়ে অবতরণ করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হস্তান্তরের ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে শুক্রবার রুশ বিমান বাহিনীর তিনটি এন-১২৪ বিমান থেকে প্রথম চালানটি খালাস করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে তুরস্কের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তুরস্ক আড়াইশ’ কোটি ডলার ব্যয়ে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা ছাড়াও এ ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না। তারা বলছেন, এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান এবং এস-৪০০ ব্যবস্থা কাছাকাছি থাকা ঠিক নয়। এতে রুশ টেকনিশিয়ানদের এফ-৩৫ এর দুর্বলতা খুঁজে বের করে ফেলতে পারার আশঙ্কা আছে।

তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিলে তাদেরকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বের করে দেয়াসহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, চারটি উপায়ে কাজ করবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি।

প্রথমত, এটির দীর্ঘ-পাল্লার নজরদারি রাডার বস্তুকে খুঁজতে শনাক্ত করতে পারে। এরপর তা কমান্ড ভিহিকলের কাছে পাঠিয়ে দেয়। যেটা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এস-৪০০ ব্যবস্থাটি লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করে এবং কমান্ড ভিহিকল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নির্দেশ দেয়।
তৃতীয়ত, উৎক্ষেপণ উপাত্ত ক্যারিয়ার রকেটে পাঠানো হলে এটি ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
চতুর্থত, লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র যেতে সহায়তা করে সংশ্লিষ্ট রাডার।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর বলছে, এস-৪০০ ব্যবস্থায় উন্নত রাডার যোগ করা রয়েছে। অন্যান্য যুদ্ধবিমানসহ স্টেলথ টার্গেট খুঁজে বের করতেই এই ব্যবস্থা। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতেও এস-৪০০ ব্যবহার করা যাবে। এদিকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার মুরিটিড বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছে গেছে রুশ নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ এর প্রথম চালান। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে সিএনএন এমন তথ্য জানিয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে তুরস্কের সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠতার দিকে গেছে। বিপরীতে এটা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের জন্য বিপত্তি হয়েও দাঁড়িয়েছে। সিরিয়া সংকটের মতোই দুই দেশের মধ্যকার পরিস্থিতি আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বহু আগ থেকেই হুশিয়ারি করে আসছিলেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনলে উন্নত এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান আটকে দেয়া হবে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাধ্যমে এফ-৩৫ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে তুরস্ককে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে পারে পেন্টাগন। ভবিষ্যতের সামরিক বিমান হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এফ-৩৫ জেটকে।

ইতিহাসের সবচেয়ে দামি এই বিমানের প্রাণঘাতী হামলা ছাড়াও বৈচিত্রময় দক্ষতা রয়েছে। স্টেলথ সক্ষমতা, শব্দের চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন, প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতা ও সেনসর ফিউশন প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বিমান।

তবে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের দায়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে এস-৪০০ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাটো। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, তুরস্ক এই ব্যবস্থা সংগ্রহ করলে তাদের বাস্তবিক ও নেতিবাচক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১২ জুলাই থেকে দীর্ঘ পাল্লার আঞ্চলিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ মুরটিড বিমানবন্দরে আসা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম চালানটি এসে গেছে। রুশ সামরিক-কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে তাস জানিয়েছে, এস-৪০০ এর যন্ত্রাংশ বহনকারী আরেকটি বিমান শিগগিরই উড়াল দেবে। এরপর গ্রীষ্ণের শেষ দিকে সমুদ্রপথে ১২০টি গাইডেড মিসাইলের তৃতীয় একটি বহর তুরস্কে পাঠানো হবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে সবকিছু হচ্ছে। সব ধরনের বাধ্যবাধকতাই মেনে চলা হচ্ছে।



দেশসংবাদ/জেএ

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft