ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ || ৯ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ বিআরটিসির লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায় ■ বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে ■ দেশে দরিদ্র সীমার হার অর্ধেকে নেমেছে ■ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র সবই করবে ■ সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরে নিহত ৯ ■ ভাগ্নিকে শ্লীলতাহানিতে বাধা দেয়ায় মামা খুন, গণপিটুনিতে বখাটে নিহত ■ শনিরআখড়ায় ব্রিজ ভেঙে খাদে ট্রাক, বন্ধ যান চলাচল ■ মারা গেলেন অরুণ জেটলি ■ অধ্যাপক মোজাফফরের মরদেহে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী ■ সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে গ্রেনেড হামলার মূলপরিকল্পনাকারীরা ■ কাশ্মিরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ ■ তিস্তায় গোসলে নেমে ২ শিশুর মৃত্যু
বসুন্ধরা প্রথমবারের মতো লীগ শিরোপা অর্জনের পথে
আব্দুর রশিদ শাহ, নীলফামারী
Published : Tuesday, 16 July, 2019 at 8:28 PM

লং পাস, থ্রু পাস, লিংক আপ, বল ছেড়ে দ্রুত জায়গা নেওয়া, শাখা-প্রশাখা মেলে সংঘবদ্ধ আক্রমণ ফুটবলের যত মুনশিয়ানা আছে সবই দেখায় অস্কার ব্রুজোনের দল। তাতে খেলা দৃষ্টি কাড়ে, গতি উত্তেজনা আনে আর প্রতিটা মুভ মনে হয় অর্থবহ।

মাঠে সফলতাও আসছে হাত ধরাধরি করে। ব্রাদার্সকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে কিংস। কিংসের পক্ষে একাই তিনটি গোলের হ্যাট্রিক করেন এক কালের  রং মিস্ত্রি মতিন মিয়া। অপর দুইটি গোল করে ইব্রাহিম ও বদলী খেলোয়ার রেয়াজুল করিম। তবে এই খেলায় কিংসের তিন বিদেশীর একজনও গোল করতে পারেনি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ফুটবলের দ্বিতীয় পর্বের লেগে মঙ্গলবার  দু’দল খেলতে নেমেছিল। ম্যাচটি ছিল নীলফামারীর শেখ কামাল আন্তর্জান্তিক স্টেডিয়ামে। প্রথম পর্বের লেগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়েছিল বসুন্ধরা কিংসরা।

নীলফামারীর নিজ ভেন্যুর মাঠের এই ম্যাচে পুনরায় সহজ জয় কুড়িয়ে নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। যদিও ম্যাচের প্রথমার্ধের স্কোরলাইন ছিল ২-০।

নিজেদের কুড়িতম ম্যাচে এটা নবাগত ও দ্য কিংস খ্যাত বসুন্ধরার উনবিংশ জয়। আগের ১ ড্রতে তাদের মোট পয়েন্ট ৫৮। তবে কিংরা এখনও ধরে রেখেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানটি। প্রথমবারের মতো লীগ শিরোপা অর্জনের পথে এগিয়ে গেল আরেক ধাপ বসুন্ধরার খেলোযাররা। পক্ষান্তরে নিজেদের বিংশতম ম্যাচ খেলে ব্রাদার্স ইউনিয়নের পয়েন্ট ওই আগের মতোই ১৬ নিয়ে ক্রমিক নম্বর ১১ থেকে  বারোতে নেমে এলো।

খেলা শুরুর প্রথম ছয় ও সাত মিনিটে কিংসের জোড়ালো আক্রমন ছিল । দুই দফায় গোলের সুযোগ হাত ছাড়া করে ডেনিয়াল ও ইমন মাহমুদ। ৯ মিনিটে ব্রাদার্সের আক্রোমনে মোস্তাকিম শাহরিয়ারের শুট লুফে নেয় কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো।  ১৩ মিনিটে কিংসরা আরেকটি গোলের সুযোগ নস্ট করে। ১৫ মিনিটে ডেনিয়েলে হেটে গোলের সুযোগ নসাৎ করে দেয় ব্রাদার্সের গোলরক্ষক সুজন।

১৭ মিনিটে মার্কস পায়ে বল পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ হয়। ১৮ মিনিটে কিংস এর ইমন ফাকা গোলপোস্ট পেয়ে তার বল গোলবার ঘেষে  মাঠের বাহিরে পাঠিয়ে দেয়। কিংসের জোড়ালো আক্রমন প্রতিক্ষনই চলে থাকে ।  কয়েক মিনিট পর পর চারটি কর্নার পেয়েও গোলের সুযোগ করতে পারেনি কিংস। তবে  ব্রাদার্সের ডি বক্সের ভেতর বল চাপিয়ে কিংস গোলের সুযোগ খুঁজতে থাকে। কিন্তু বারবারই তারা ব্যর্থ হচ্ছিল। ২১ মিনিটে মতিন মিয়ার একটি জোড়ালো শট প্রতিহত করে ব্রাদার্সের গোলরক্ষক সুজন নির্ঘাত একটি গোল রক্ষা করে।

২৪ মিনিটে ব্রাদার্সের ডি বক্সের ভিতর বল নিয়ে জোটলায় পায়ে বল পেয়ে মার্কস গোলবারে শট নিলেও সেই বল চলে যায় মাঠের বাহিরে। ২৫ মিনিটে একটি ফ্রি কিকে বখতিয়ারের হেড বিফল হয় গোল পেতে। ২৭ মিনিটে কিংসের আরেকটি জোড়ালো আক্রমনের বল প্রতিহত করে ব্রাদার্সের গোল রক্ষক সুজন।

২৯ মিনিটে কিংসের ডেনিয়ালের কর্নার শটে বল মার্কস হেড করলেও সেই বলটিও গোলবার ঘেষে মাঠের বাহিরে চলে যায়। তবে ৩২ মিনিটের জোড়ালো আক্রমন আর ব্যর্থ হতে দেয়নি কিংসের ইব্রাহিম। ইমনের কাছে বল পেয়ে তিনি সোজা বল পাঠিয়ে দেন ব্রাদার্সের জালে। এগিয়ে যায় কিংস ১-০ গোলে।

এরপর চলতে থাকে দুই দলের আক্রমন ও পাল্টা আক্রমন। ৩৯ মিনিটে কিংসের আরেকটি আক্রমন কাজে লাগিয়ে দেয় মতিন মিয়া। ডেনিয়েলের কাছে বল পেয়ে সেই বল ব্রাদার্সের জালে জড়িয়ে দেয় এক সময়ের রং মিস্ত্রী মতিন মিয়া। এগিয়ে যায় কিংস ২-০ গোলে। ৪২ মিনিটে কিংসের আরেকটি সুযোগ ছিল। কিন্তু না অপসাইডের কারনে নির্ঘাত আরেকটি গোল থেকে রক্ষা পায় ব্রাদার্স। ৪৩ মিনিটে ব্রাদার্সের মোস্তাকিম একাই বল নিয়ে কিংসের জালের জড়ানোর চেস্টা চালায় কিন্ত সেই বলটিও চলে যায় মাঠের বাহিরে।

৪৪ মিনিটে কিংসের আক্রমনে কর্নার পেলেও সেই বল ব্রাদার্সের  ঠেকাতে ডি বক্সের সামনে ফ্রি কিক পেয়ে যায় কিংস ।কিক নেয় বখতিয়ার।  গোল রক্ষক সুজন বল লুফে নেয়।
দ্বিতীয় হাফে  বল নিজেদের  মধ্যে নিয়ন্ত্রন রেখে কিংসরা খেলতে থাকে। ৪৯ মিনিটে কিংসের ডেনিয়েল ব্রাদার্সের ডি বক্সের কাছ থেকে  শট নিলে সুজন বল ছুয়ে কর্নারের মাধ্যমে গোল প্রতিহত করলেও পরেক্ষনেই কর্নারের বল পায়ে পেয়ে মতিন মিয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেয়। এগিয়ে যায় বসুন্ধরা ৩-০ গোলে।

৫২ মিনিটে ব্রাদার্সের আক্রমনে কিংসের ডি বক্সের কাছে ফ্রি কিক পায় ব্রাদার্স। কিক নেয় দক্ষিন কোরিয়ার পার্ক । কিন্তু কিংসের মানব প্রাচির সেই বল ঠেকিয়ে দেয়। ৫৩ মিনিটে পাল্টা আক্রমন চালায় কিংসের  মতিন মিয়া ও ডেনিয়েল। সেই বল কর্নারের মাধ্যমে ঠেকায় ব্রাদার্স। সেই কর্নারও কাজে লাগাতে পারেনি কিংসরা। এর মধ্যে আবার বসুন্ধরার এক গোল পাওয়া ইব্রাহিমকে বসিয়ে  মাঠে নামায় রেয়াজুল করিমকে।

ব্রাদার্স গোল পরিশোধের জন্য একাধিক চেস্টা চালালেও তারা ঠিতমতো কিংসের জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে আসছিল।

৬২ মিনিটে মার্কস ও বখতিয়ার নিজেদের মধ্যে বল আদান প্রদান করে ব্রাদ্রার্সের গোলবারে এগিয়ে যায়। সেই বল মার্কস  মতিন মিয়াকে হ্যাট্রিকের সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু  না মতিয়ান মিয়ার সেই বল ঠেকিয়ে দেয় ব্রাদার্সের গোলরক্ষক সুজন।

তবে ৬৭ মিনিটে সেই সুযোগ আর হাত ছাড়া করেনি মতিন মিয়া। জোড়ালো আক্রমনে ব্রাদার্সের গোল রক্ষককে পরাভুত করে জালে বল পাঠায় রং মিস্ত্রী মতিন মিয়া। এগিয়ে যায় কিংস ৪-০ গোলে।

৬৯ মিনিটে ব্রাদাসের একটি আক্রমন ঠেকাতে ফ্রি কিক দিয়ে বসে কিংস। ডি বক্সের সামনে সেই কিক নেয় খান মোহাম্মদ তারা। সেই বল সরাসরি গোলবারে মারলে বল লুফে  নেয় কিংসের গোলরক্ষক জিকো।

৭২ মিনিটে ব্রাদার্স পুনরায় আক্রমন চালায়। সুমন দাস কিংসের ডি বক্স থেকে বল কিংসের জালে প্রবেশের জন কিক নিলেও সেই বল গোলবারের অনেক উপর দিয়ে মাঠের বাহিরে চলে যায়।

৭৭ মিনিটে কিংসের ডি বক্সের ভেতর মার্কসের হেন্ডবলকে রেফারি এরিয়ে গেলে ব্রাদার্সের জোড়ালো আবেদনও কর্নপাত করেনি রেফারি নাহিদ। এতে পেনাল্টি পেতে বঞ্চিত হয় ব্রাদার্স। তবে ব্রাদার্স জ্বলে উঠে বার বার আক্রমন চালাতে থাকে কিংসের গোলবারে। ৮০ মিনিটে ব্রাদার্সের একটি সুযোগ হাত ছাড়া করে মোস্তকিম।

৮১ মিনিটে কিংসের ডেনিয়াল ব্রাদার্সের গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠানোর আগেই সেই বল উড়ে এসে নির্ঘাত গোল হতে রক্ষা করে ব্রাদার্সের ডিফেন্ডার খান মোহম্মদ তারা। ৮৩ মিনিটে ব্রাদার্সের আরেকটি আক্রমনের বল কিংসের গোলরক্ষক জিকো আটকিয়ে দেয়।

৮৫ মিনিটে একটু ভুল বোঝাবুঝিতে কিংসের জালে বল ঢুকতে ঢুকতে বেঁচে যায়। গোল রক্ষক জিকো ব্রাদার্সের সুজন বিশ্বাসের সেই বল আটকিয়ে দেয়। ৮৬ মিনিটে কিংসের আক্রমনে বখতিয়ারের দেয়া বল ব্রাদার্সের জালে ঢুকলেও তা অফসাইডের কারনে বাতিল হয়ে যায়। ৮৭ মিনিটে কিংসের আরেকটি আক্রমনে মার্কসের কাছে বল পেয়ে বখতিয়ার গোলবারে শট নিলে ব্রাদার্সের গোলরক্ষক সুজন তা ধরে ফেলেন। ৮৮ মিনিটে ব্রাদার্সের একটি আক্রমনকে বির্তকিত অপসাইডে আটকে যায়।

৮৯ মিনিটে কিংসের ডেনিয়েল বল নিয়ে ব্রাদার্সের ডি বক্সে ঢুকে পড়ে গোলরক্ষক সুজনকে কাটিয়ে বল নিয়ে জালে প্রবেশের আগেই ব্রাদারের্স উত্তমের কাছে ধরা খেয়ে আরেকটি গোল করতে ব্যর্থ হয়। তবে ৯০ মিনিটে কিংসের আরেকটি জোড়ালো আক্রমনে মার্কসের কাছে বল পেয়ে কাজে লাগিয়ে দেয় বদলি খেলোয়ার রেয়াজুল করিম। ৫-০ গোলে জয় পেয়ে কিংসরা খেলা শেষ করে। তবে খেলার অতিরিক্ত ৩ মিনিটেও ব্রাদার্সের খেলোয়ারা ছিল নিস্প্রাণ।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft