ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ || ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ উবারসহ ৯ রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত অনুমোদন ■ বাংলাদেশ একটা আজব দেশ ■ বিএনপি সভাপতি এখন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক! ■ মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার ২২ মাস পর আদালতে মামলা ■ হজ ব্যবস্থাপনা সহজ করুন ■ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ■ এসএ গেমস ফুটবলে শ্রীলংকাকে হারালো বাংলাদেশ ■ বীরত্বে পদক পাচ্ছেন ডিজিসহ বিজিবির ৬০ সদস্য ■ ডাক ও টেলিযোগাযোগের নতুন সচিব নূর-উর রহমান ■ মৌরিতানিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৫৮ শরণার্থীর মৃত্যু ■ নয়াপল্টনে বিএনপির ৭ কর্মী আটক ■ আপিল বিভাগে বিএনপির আইনজীবীদের অবস্থান
এনামুল বাছির গ্রেফতার
দেশসংবাদ, ঢাকা
Published : Tuesday, 23 July, 2019 at 1:10 AM, Update: 23.07.2019 11:41:19 AM

এনামুল বাছির

এনামুল বাছির

ঘুষ নেয়ার মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করেছে দুদক। সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে দুদকের একটি দল রাজধানীর মিরপুর দারুসসালামের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

এনামুল বাছিরকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। এর আগে বাছিরকে গ্রেফতারের জন্য দুদকের টিম রাজধানীর শাজাহানপুর ও আজিমপুরে তিন দফা অভিযান চালিয়েছিল।

এর আগে বুধবার পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদকের বরখাস্তকৃত পরিচালক এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন মামলার তদন্তে দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। তার সঙ্গে তদন্ত টিমে যুক্ত করা হয় দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান ও মো. সালাহউদ্দিনকে।

দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তারা বাছিরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযানে নামেন। কিন্তু বাছিরকে খুঁজে পাননি। শাহজাহানপুরের সরকারি বাসায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। তার স্ত্রী-কন্যাদেরও বাসায় পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার দুদক থেকে ডিআইজি মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা ঘুষের মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৮ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলাটি দায়েরের পরই এজাহারের কপি আদালতে পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এজাহার দেখে তা গ্রহণ করেন এবং প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওই দিন (২৮ আগস্ট) ধার্য করেন। এ ছাড়া ডিআইজি মিজানকে ঘুষ লেনদেনের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা।

এ আবেদনের ভিত্তিতে কারাগার থেকে মিজানকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। আগামী ২১ জুলাই তার উপস্থিতিতে এ মামলায় গ্রেফতার সংক্রান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

এদিকে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের ব্যাংক হিসাব চেয়ে দুদক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যে আবেদন করা হয়েছিল তার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার কোনো ব্যাংক হিসাবেই তেমন কোন অর্থের সন্ধান মেলেনি।

সেলারি অ্যাকাউন্টে ব্যাংকিং লেনদেনের বাইরে তার কোনো ধরনের লেনদেনের সম্পৃক্ততাও পাওয়া যায়নি। তিনি থাকেন সরকারি বাসায়। স্ত্রী চাকরি করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

তার স্ত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করেন। তিন সন্তানের মধ্যে দু’জন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ছেলে ছোট। চাকরিজীবনে ২৭ বছরে বাছিরের উল্লেখযোগ্য কোনো বড় তদন্ত নেই। তিনি বেশিরভাগ সময় ছিলেন ডেস্কের দায়িত্বে।

পরিচালকদের মধ্যে সিনিয়র তিনি। মহাপরিচালক হিসেবে পদোন্নতি না পেয়ে উচ্চ আদালতে রিটও করেছিলেন।

একটি সূত্র জানায়, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি তার সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ডিআইজি মিজানের কাছে নিজের সুখ-দুঃখের আলাপ করেন।

একটি গাড়ির অভাবে সন্তানকে স্কুলে আনা-নেয়ায় কষ্ট হয় বলে জানান। মিজান এ সুযোগটি নেন। তিনি বাছিরকে কাবু করতে নানা কৌশল আবিষ্কার করেন। তার ফাঁদেই পা ফেলেন বাছির।

এনামুল বাছিরের ব্যাংক হিসাবে টাকা নেই। তাহলে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে কী করেছেন? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি কিছু টাকা রিট মামলার পেছনে খরচ করেছেন। কিছু টাকা খরচ করেছেন স্ত্রীকে নামি স্কুলের প্রিন্সিপাল করার পেছনে।

এনামুল বাছির মঙ্গলবার তার ফেসবুক ফেজে নিজের অসুস্থতার বর্ণনা দিয়ে একটি পোস্ট দেন। এতে তার অনেক বন্ধু মন্তব্য করেন। তার একজনের জবাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে পদোন্নতি না পাওয়ার বিষয়ে হতাশার কথা বলেন।

বুধবার দুপুর পর্যন্ত সেই পোস্টটি ঝুলে ছিল। তবে দুপুরের পর থেকে তিনি তার ফেসবুক ওয়াল লক করে দেন। তিনি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, ডিআইজি মিজান তার কণ্ঠ জোড়া লাগিয়ে ঘুষের অঙ্কটা বের করে সেটা গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন।

কিন্তু তার এ দাবি টিকছে না ফরেনসিক রিপোর্ট ও পারিপার্শিক সাক্ষ্য-প্রমাণের কাছে। কারণ ডিআইজি মিজানও দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন দুদকের মামলা থেকে রক্ষা পেতে তিনি দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বাছিরকে। আর মামলায় এ অভিযোগের বিষয়বস্তুই তুলে ধরা হয়েছে।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২৪ জুন দুদক একটি মামলা করে। মামলায় তিন কোটি ২০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজান ছাড়াও তার স্ত্রী, ভাই ও এক ভাগ্নেকে আসামি করা হয়।

ওই মামলায় ১ জুলাই ডিআইজি মিজান হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট জামিন আবেদন নাকচ করে ডিআইজি মিজানকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

দেশসংবাদ/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  এনামুল বাছির গ্রেফতার  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft