ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ || ৪ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ২০২৩ সালের মধ্যে সব স্কুলে দুপুরের খাবার ■ সেনা সদস্যকে গুলি করে হত্যা ■ ঢাকা মেডিকেলে দু'পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত ২০ ■ ফিলিস্তিনে ইসরাইলের রকেট হামলা ■ ঘুষ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে ■ কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে ■ ব্যারিস্টার মওদুদের জন্য দেশটা পিছিয়ে গেছে ■ এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২৪ ■ শিগগিরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ■  বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৭ ■ চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ পাঠানো হবে ■ ভুলের চোরাবালিতে আটকে রাজনীতিতে শূন্য বিএনপি
স্বপ্নাদ্য
তরীকূল মামুন তরী
Published : Saturday, 27 July, 2019 at 1:47 PM, Update: 27.07.2019 1:51:52 PM

স্বপ্নাদ্য
তরীকূল মামুন তরী

তার সাথে আমার দেখা হয় খুবই অদ্ভুতভাবে। স্পষ্ট মনে আছে সেদিন ছিল মঙ্গলবার। কথায় আছে, কোনো কাজে তাড়াহুড়ো করতে গেলে সেখানেই সবচেয়ে বেশি দেরি হয়। আর আমার মতো অলস মানুষের নামের সাথে 'বিলম্ব' শব্দটি অদৃশ্যভাবেই যেন ট্যাগ করা আছে। তাই লেট করে দেরি করাটা এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

মাস্টার্স পাশ করে টানা এক বছর বেকার থাকার পরে মাত্র সেইদিন একটা চাকরি পেয়ে ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল! চাকরি জয়ের খবরে আম্মা তাঁর শখের রাতাজোড়া রেঁধে গ্রামের আত্মীয়দের খাওয়ালেন। সবাই হাসিমুখে খেল, হয়তো আমার আখেরের জন্য দোয়াও করল। আমিও অতি উত্তেজনায় কেজি খানেক রসমালাই একাই সাবাড় করে ফেললাম! জীবনের সুখময় সময়ের শুরুটা উদযাপন না করাটা রীতিমতো অন্যায় হয়ে যায়।

কোম্পানি আমায় কুষ্টিয়া পোস্টিং দিয়েছে। নতুন এলাকায় বলতে গেলে তেমন কিছুই চিনি না। অফিস কলিগের পরামর্শে তার সাথে অফিসের পাশেই সস্তাদরের এক মেসে উঠলাম। শুরু হলো কর্পোরেট জীবন। আমিও উপভোগ করার চেষ্টা শুরু করলাম।

আমার মেসের বোর্ডাররা প্রায় সবাই অকেজোর কেজো। তাদের কেজো কাজের শুরুটা হয় ভোর বেলায় বাথরুমের সিরিয়াল দেওয়া থেকে। বাংলাদেশই হয়তো পৃথিবী একমাত্র দেশ যেখানে বাথরুমে যাওয়ার জন্য লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়াতে হয়। নিয়মিত বাথরুমে সিরিয়াল দিতে দিতে আমার এখন পায়খানা ভীতি জন্ম নিয়েছে। মাঝেমাঝে মনে হয় মানুষ না হয়ে কাক হলেই হয়তো ভালো হতো। প্রয়োজন পড়লেই সুবিধা মতো কারো ঘাড়ে কর্ম সাবাড় করতে পারতাম। মানব জন্ম এমনিই যে চাইলেও অনেক কিছু করা হয়ে ওঠে না।

সেদিন সকালেও বাথরুমের সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার সামনের জনের হয়তো খুব অসুবিধে হচ্ছিল। সে কিছুক্ষণ পর পর বাথরুমের দরজায় টোকা দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলছে, 'ভাই, কাইন্ডলি একটু শটকার্টে সারেন। বাথরুম তো আর ঘুমানোর জায়গা না!'

বাথরুমের ভেতরেরজন গুনগুন করে গান গাচ্ছিল।
সে গান থামিয়ে উত্তর দিল, 'সকালের কাজটা কি আর দ্রুত করা যায় ভাই? বোঝেনই তো, পেট ফ্রেশ মানে সারাদিনটা ফ্রেশ, হা হা হা!'

আমার সামনের লোক এবার অধৈর্য হয়ে বলল, 'একটু কন্সিডার করেন ভাই। আগামী দুইমিনিটের মাঝে বের না হলে কিন্তু কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে!' ভেতরেরজন রেগে গিয়েই উত্তর দিল, 'ধুর্মিয়া! যা খুশি তাই করেন আমি ক্লিয়ার না করে বের হতে পারব না!'

সামনের জন এবার দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 'শ্লা তুই দশ গোনার ভেতরে বের না হলে আমি দরজার সামনেই বসে পড়ব!'

তারপর সামনের লোকটি সাত পর্যন্ত গুনেই সত্যি সত্যি দরজার সামনে বসে পড়ল। কিছুক্ষণ পরেই ছড়ছড় শব্দ আর তীব্র গন্ধে পরিবেশ গরম হয়ে উঠল। আমি মন খারাপ করে সেদিনের প্রাতঃকৃত্য না সেরেই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

"আশা নীড়" বাড়ির সামনে থেকে মাথা নিচু করে হেঁটে যাচ্ছি। হঠাৎ কাঁধের ওপর টুপ করে তরল জাতীয় কিছু পড়তেই চমকে আকাশের দিকে তাকালাম। ঠিক সেই মুহূর্তে ছাদের ওপর থেকে রিনরিনে হাসির শব্দ ভেসে এলো। ছাদের ওপর আঠারো-বিশ বছরের এক এলো চুলের তরুণী দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়ে আছে আমার দিকেই। তার হাসিটিও হয়তো আমাকে উদ্দেশ্য করে। জানি না কেন ওই হাসি দেখেই আমার সমস্ত শরীর ঝনঝন করে কেঁপে উঠল! অজানা এক বিষাদে ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল! আমি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। তখন আঠাশ বছরের নিজেকে যেন চিনতে পারছিলাম না। তীব্র শূন্যতায় নিজেকে বড় বেশি দুঃখী মানুষ মনে হচ্ছিল! শুধু এইটুকু বুঝেছিলাম, আজ থেকেই হয়তো আমার জীবনে নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে!

তারপর থেকে দিনের মধ্যে বহুবার কারণে অকারণে ওই নীল রঙা বাড়িটার সামনে থেকে হেঁটে গেছি, শুধু এক নজর মেয়েটিকে দেখার আশায়। ভাগ্য ভালো থাকলে মাঝেমাঝেই মেয়েটির দেখা মেলে। কখনো সে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চা খায়, কখনো ছাদে ঘুড়ি ওড়ায়। মেয়েটি আমায় দেখে অবাক হয়, মাঝেমাঝে রিনরিনে শব্দে হেসে ওঠে। তার বাড়ির দারোয়ান সন্দেহের চোখে আমার দিকে তাকায়ে থাকে, কখনো কখনো বাড়ির ভেতর থেকে জোড়া অ্যালসেশিয়ান বিকট ঘেউঘেউ শব্দে তেড়ে আসে। কুকুরের তাড়া খেয়ে মাঝেমাঝে রাস্তার মাঝে আছাড় খাই। এইসব কিছু মিলেই জীবন চলতে থাকে। মাঝেমাঝে ইচ্ছে হয় মেয়েটার সাথে কথা বলি, কিন্তু পরক্ষণেই ইচ্ছেটাকে সংবরণ করি। আমার কল্পনা মেয়েটিকে নিয়ে আলাদা একটা পৃথিবী তৈরি করে। আমি কল্পনাকে বাস্তবে মুখোমুখি করতে সাহস পাই না।

হয়তো দেখা যাবে মেয়েটির কাছাকাছি গেলে কল্পনার পুরোটুকু নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জানি এইসব বড় লোকের সুন্দরি মেয়েদের পেট ভরা হিংসা থাকে। তারাও কাজের মেয়েদের সাথে অকারণে দুর্ব্যবহার করে। আড়ালে তারাও গালি দেয়, মানুষকে নিয়ে কুৎসা গায়। কিন্তু আমার কল্পনায় যে রমণীকে তৈরি করেছি, সে পবিত্র। তার আঁচলভরা মায়ের মমতা, নির্ভরতার কাঁধে বন্ধুত্বের আলিঙ্গন, বুকের বাঁ-পাশটায় আমার জন্য এক পৃথিবী আশকারা আর ভালোবাসা জমা।

বাস্তবটা ধরতে গিয়ে আমি কল্পনাকে নষ্ট করতে চাই না!

ছেলেবেলা থেকে অভাবটাকে সঙ্গি করেই বড় হয়েছি। স্বপ্নগুলোকে সবসময় বিলাসী মনে হতো। আর এই স্বপ্নের সাথে মিশে যেত একরাশ অতৃপ্তি। তাই ঘুরেফিরে স্বপ্ন বিলাসগুলো দুঃখবিলাস হয়ে যেত। আমি বড় বেশি দ্বিধায় ভুগতাম। বাস্তব আর কল্পনার মধ্যকার মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বলয়ে আটকে যেতাম। বলয়টা পার করার মতো মানসিক জোর তাই কখনওই হয়ে ওঠেনি।

তখন সবে কলেজ পাশ করেছি। কাজের মাঝে টিউশনি ছাড়া আর তেমন কিছুই করি না। বাবা তখন মাঝেমধ্যেই এটা-সেটা আবদার করত।

একবার বলল, "মনা আমার খুব ইচ্ছে হজ্ব করব।"

নিম্নবিত্ত পরিবারে হজ্ব করার মতো আর্থিক সঙ্গতি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বাবার ইচ্ছেটা অপূর্ণ থেকে গেল। তিনি দিনরাত আফসোস করতে লাগলেন। একদিন বাজার থেকে ফিরে এসে আম্মাকে আড়ালে বললেন, তার খুব বাগদা চিংড়ী খেতে ইচ্ছে করছে।

রাতে বাড়ি ফিরতেই আম্মা আমাকে ঘটনাটা জানালেন। আমার কিঞ্চিৎ মন খারাপ হলো। পরদিন কয়েকটা ঘের ঘুরে বিশাল সাইজ দেখে কয়েক পিস বাগদা কিনে আনলাম। যাক বাবার একটা আবদার তো অন্তত পূরণ করতে পারলাম!

বয়স্ক মানুষ সেদিন খুশিতে অতিরিক্ত ভাত খেয়ে ফেলেছিলেন। সেই খাওয়াটাই তাঁর জীবনে কাল হয়ে গেল। তিনবার ডায়রিয়া আর দু'বার বমি। বাবা একদম নেতিয়ে পড়লেন। মাঝরাতে ডাক্তার ডাকা সম্ভব হয়নি। আমরা ভোর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকলাম। ভোর ঠিকই হলো কিন্তু বাবাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো না। তিনি আমার হাতে মাথা রেখেই কাতরাতে কাতরাতে মারা গেলেন। তাঁর মৃত্যুটা শোকের থেকেও আমাকে অবাক করেছিল বেশি। নিম্নবিত্ত জীবনে ছোট একটা খাওয়ার চাহিদা পূরণ হতেই তিনি বিদায় নিলেন। হয়তো বাগদাচিংড়ী শুধুমাত্র উপলক্ষ ছিল। কিন্তু আমার তখন থেকেই একটা বদ্ধমূল ধারণা হলো- আমাদের কখনওই জীবনের সব চাহিদা পূরণ করতে চাওয়া উচিৎ নয়। কারণ কিছু চাহিদা শুধুমাত্র অপূর্ণ থাকার জন্যেই সৃষ্টি হয়।

সে ছেলেবেলা থেকে তিলেতিলে গড়া অনেক স্বপ্নের অকালমৃত্যু নিজের চোখের সামনে দেখেছি। একেকটা স্বপ্ন ভাঙে আর নতুন কোনো উপলব্ধি এসে ভেতরটা আচ্ছন্ন করে রাখে। বাস্তব জীবনের লাগাম আমাদের কাছে থাকে না, কিন্তু কল্পনার লাগাম আমরা চাইলেই নিজেদের হাতে রাখতে পারি। আমার জীবনে হয়তো কোনো সেকেলে ঘরোয়া টাইপ মেয়ে আসবে, হয়তো তাকে ভালোও বাসব। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখব। কিন্তু ছাদের এই তরুণীকে নিয়ে গড়া স্বপ্নটি সারাজীবন বেঁচে থাকবে।

অফিস আমায় প্রোমোশন দিয়েছে। সাথে একটা এলিয়েন গাড়ি। মেয়েটির বাড়ির গলি দিয়ে গাড়ি ঢুকবে না বলে আমি গাড়ি ব্যবহার করি না।

শীত যায় বর্ষা আসে, ওই তরুণীকে নিয়ে আমার কল্পনা বাড়তেই থাকে। কল্পনায় আমি তার নাম দিয়েছি শঙ্খ! শঙ্খ প্রায় সারাক্ষণই আমার সাথে থাকে। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ব্যাগ গুছিয়ে দেয়। দুপুরে আমরা এক সাথে খাই। মাঝেমাঝে বিকেলে রিকশায় ঘুরে বেড়াই। অফিস আমায় ফ্ল্যাট দিয়েছে। আমি শঙ্খকে নিয়ে নিউমার্কেটের দোকান ঘুরে ঘুরে ফ্লাট সাজানোর জিনিস কিনতে থাকি। বিছানায় কী রঙের চাদর হবে, জানালার পর্দা কেমন হবে, ব্যালকনিতে কোন ফুলের টব রাখা হবে, আমার কফির কাপ কোন ব্রান্ডের হবে, সবকিছু শঙ্খ ঠিক করে দেয়। আমি নির্দ্বিধায় শঙ্খ'র সব কথা মেনে নিই। শঙ্খকে আমি নিজের অস্তিত্ব থেকে আলাদা করতে পারি না। সে ছাড়া আমার জীবনটা আর কে-ই বা সাজিয়ে দেবে! সারাদিন অফিস শেষে ফিরে এসে শঙ্খকে নিয়ে ব্যালকনিতে বসে চা খাই। কখনও-কখনও আবদার করে বলি, "শঙ্খ কোল পেতে দে!" শঙ্খ কোল পেতে দেয়, আমি তার কোলে মাথা রেখে আরামে চোখ বুঝি।

জোছনা রাতে শঙ্খ'র হাত ধরে ছাদে চলে যাই। মাঝেমাঝে সে কিন্নরকণ্ঠে গান গায়। অপূর্ব এক ঘোর লাগা মূর্ছনায় আমার সময়গুলো কাটতে থাকে। বেঁচে থাকাকে বড় আনন্দময় মনে হয়!

আমি শঙ্খর সাথে এই যোগাযোগটার নাম দিয়েছি "মন্টারনেট"। ইন্টারনেট যেমন আমাদের হাতের মুঠোয় সম্পূর্ণ পৃথিবীটাকে তুলে দিয়েছে। আমরা চাইলেই যে কারো সাথে যখন খুশি যোগাযোগ করতে পারি। আমিও তেমনি মন্টারনেট দিয়ে যখন খুশি শঙ্খকে আমার সামনে হাজির করতে পারি।

সেদিন অফিস ক্যান্টিনে এক কলিগ বলল, 'মনোয়ার সাহেব, বয়স তো আর কম হলো না এবার বিয়ে করে ফেলুন।'

আমি তার কথায় উত্তর দিই না। ইদানীং শঙ্খর বাড়ির সামনে তেমন যাওয়া হয় না। বেশ কিছুদিন ধরে তাকে দেখতে পাই না। আগে বাড়ির দারোয়ান আমায় দেখলে অবাক হতো কিন্তু এখন করুণার চোখে তাকায়। অফিসে প্রায় প্রতিদিন আমাকে অনেক ধরনের অশ্লীল মন্তব্য হজম করতে হয়।

"মানোয়ার সাহেবের মেশিনে মনে হয় সমস্যা আছে।"

কেউ কেউ সেধে এসে পরামর্শ দিতে চায়।

"মনা ভাই, দেশে অনেক উন্নত চিকিৎসা আছে। ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিলেই ঠিক হয়ে যাবে! আর কতদিন হাতের দ্বারস্থ হয়ে দিন পার করবেন, হা হা হা!"

আমি কারো কথায় কোনো প্রতিবাদ করি না। শঙ্খকে নিয়ে আমার জীবন বেশ ভালো ভাবেই তো চলে যাচ্ছে! তবুও মাঝেমাঝে তীব্র মন খারাপ আমায় আচ্ছন্ন করে রাখে!

একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখি সিঁথির চুলগুলো কেমন পাতলা হয়ে গেছে। রঙটাও ফিকে লাগছে। অতিরিক্ত সেভ করার কারণেই কি না জানি, সবগুলো দাড়ি পেকে গেছে।

সবই বয়স বাড়ার লক্ষণ। এদিকে আম্মা মৃত্যুশয্যায়। ছেলের বউ দেখে মরার ইচ্ছে তাঁর। গ্রাম থেকে মামা এসে বিয়ের জন্য খুব চাপ দিতে থাকে। এক সময় তারা আমার জন্য মেয়ে পছন্দ করে ফেলে। আমি আম্মার কথা চিন্তা করে মেয়েকে না দেখেই বিয়েতে রাজি হয়ে যাই। মেয়ে যেমনই হোক আমার কিছুই যায় আসে না! বিয়ের পরে ঘরসংসার করব, বাচ্চা লালনপালন করব। একসময় বুড়ো হয়ে মারা যাব। জীবন তো এভাবেই কেটে যায়। আমার বিয়ের খবরে শঙ্খ খুব মন খারাপ করে। আমি ওকে আশ্বাস দেই। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ঠিক ততদিন ছাদের এলো চুলের তরুণী হয়েই শঙ্খ বেঁচে থাকবে। তেমনি উচ্ছ্বল পবিত্র হয়ে। বাকি জীবনে হয়তো আরো অনেক স্বপ্ন দেখব, কিছু স্বপ্ন ভাঙবে কিছু পূর্ণ হবে। কিন্তু আমার কল্পনার শঙ্খকে কখনোই স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে না! জীবনের হয়তো অন্য সবকিছুর বিনিময়ে হলেও আমাদের অন্তত একটি স্বপ্নকে আজন্ম বাঁচিয়ে রাখতে হয়!

হঠাৎ হঠাৎ শঙ্খ'র বাড়ির সামনের গলিটার কাছে গিয়ে দাঁড়াই। আজকাল ব্যালকনিটা ফাঁকা থাকে। নতুন বউয়ের জন্য নিউমার্কেট ঘুরে গয়না কিনেছিলাম, সেটা শঙ্খকে দেখানোর শখ ছিল। কিন্তু শঙ্খ ইদানীং সহজে আর আমার সামনে আসে না। বেচারি অভিমান করেছে। শুধু আমার কোনো অভিমান হয় না। শঙ্খদের বাড়ির গেটে আগের মতো দারোয়ান দাঁড়িয়ে থাকে, এখনো মাঝেমাঝে জোড়া অ্যালসেশিয়ান আমাকে তাড়া করে ছুটে আসে। আমি ঠিক সেই আগের মতোই রাস্তায় আছড়ে পড়ি। কোনো কিছুতেই অভিমান হয় না। বরং বেঁচে থাকাটা বড় বেশি আনন্দের মনে হয়। আমি বেঁচে আছি; স্বপ্নগুলোও বেঁচে আছে, থাকবে। প্রতিমুহূর্ত মনে হয় পৃথিবীতে এখন আমার মতো সুখী আর ভাগ্যবান মানুষ বড় কম, বড় বেশি কম!

দেশসংবাদ/জেএ

সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।।
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft