ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ || ৭ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৯৪ ডাক্তার ও ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী ■ তিনদিনে ৬৫৮ বাড়িতে অভিযান, ডেঙ্গু পাওয়া গেছে ৫৬ বাড়িতে ■ ভারত নয় পাকিস্তান যুদ্ধের চেষ্টা করছে ■ ছুটিতে গেলেন সেই তিন বিচারপতি ■ সোমবার বেতিসের বিপক্ষে জাদু দেখতে পারেন মেসি ■ রোহিঙ্গাদের প্ররোচণাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ■ হাইকোর্টের ৩ বিচারপতিকে কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ ■ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দায় আ.লীগকে নিতে হবে ■ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সব অনিয়মের সাথে জড়িত ■ সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে ১১১ সুপারিশ ■ ঠাকুরগাঁওয়ে দু’বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ ■ শুরু হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, চলছে সাক্ষাৎকার
সাঙ্গু নদীর পর্যটনকেন্দ্র ও শতবছরের ঐতিহ্য হারানো ‘খোদার হাট’
সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্
Published : Monday, 29 July, 2019 at 11:19 AM, Update: 29.07.2019 11:39:24 AM


ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূতিকাগার চন্দনাইশ বীর চট্টলার একটি স্বনামধন্য উপজেলা হিসেবে পরিচিত। এই জনপদে ইতিহাস সমৃদ্ধ করা অনেক খ্যাতিমানরা যেমনি জন্মগ্রহণ করেছেন তেমনি আছে হাজার বছরের ঐতিহ্য।

আছে - ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নান্দনিক সৌন্দর্যের মনোমুগ্ধকর সব জায়গা।  ধোপাছড়ি পাহাড়ের সৌন্দর্যরূপ, ঐতিহাসিক সাঙ্গু (শঙ্খ) নদী,  নদীর উপর নজরকারা ব্রিজের আশেপাশে সম্ভাবনাময় টুরিস্ট জোন, কাঞ্চননগরের চা বাগান ইত্যাদি।  

চন্দনাইশ থানার অন্তর্গত এখানে এলে বিশ্বের যেকোনো পর্যটকের মন কারবেই।  চারদিকে সবুজের সমারোহ আর প্রকৃতির রূপলাবণ্যে এনে দিয়েছে নতুনত্ব। ব্রিজের উপর দাড়িয়ে নদীর সৌন্দর্য আর নৌকা, স্টিমার যোগে লোকেদের ভ্রমণ দেখার আনন্দটাই আলাদা।  আমরা যখন গিয়েছিলাম ঈদ আনন্দে শতশত নারী-পুরুষের ভীর জমেছিল শঙ্খের তীরে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় - প্রতি বৃহস্পতিবার-শুক্রবারেও এখানে আসেন বিপুল পরিমাণ জনসাধারণ।  সরকার, স্থানীয় সাংসদ সহ প্রশাসন যদি সঠিক দৃষ্টি দেয় আগামীতে এটিই হতে পারে বিনোদনের জন্য সবচাইতে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র।

এখানকার সবচেয়ে প্রাচীন হাটগুলোর মধ্যে ‘খোদার হাট’র  খ্যাতি পুরো চট্টগ্রামে সুনাম ছিল। কিন্তু,  এখন আর নেই আগের সেই সুখ্যাতি।  আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগেও ছিল এই হাটের প্রাণচাঞ্চল্য। প্রতি রবিবার ও বুধবারে প্রায় ১০-১৫ হাজার লোকের জনসমাগম হতো এখানে।  বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রেতারা সদাই নিয়ে আসতো।

নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার যোগে বান্দরবন, ধোপাছড়ি, দোহাজারী সহ নানান জায়গা থেকে আসতো কাঁচা সবজি সহ বাঁশ, শীতলপাটি, চাটাই, হাতপাখা সহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।  ভীরের কারণে অনেক ছোট ছেলেমেয়ে হারিয়ে যেত, ওদের খোজার জন্য মাইকের ব্যবহার করতে হতো।  হাটের নামকরণ সম্পর্কে ষাটোর্ধ কয়েকজনের কাছে তথ্য পাওয়া যায় - এখানকার বাসিন্দাদের সাথে সাতকানিয়া চরতির লোকেদের প্রতিনিয়ত মারামারি ঝগড়া হতো, তাই স্থানীয় জনসাধারণরা এর পবিত্রতা রক্ষার্থে মহান সৃষ্টিকর্তার নামে "খোদার হাট" নাম দেন। এরপর থেকে নাকি আজ পর্যন্ত আর কোন ঝামেলা হয়নি।
 
অনেকে আবার `গরিঙ্গা হাট' নামেও ডাকেন। বর্তমানে এই নামটিই লোকমুখে বেশী উচ্চারিত হয়। এখন নেই সেখালের আধুনিকতার ছোয়ায় জৌলুশ হারিয়েছে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী হাটটি। প্রতি বাজারবারে ৫০০ লোকও হয়না, বিক্রেতাও আসেন হাতেগোনা কয়েকজনমাত্র।

চন্দনাইশে যার যার ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার্থে আরো তিনটি হাট-বাজার আছে। এগুলো হচ্ছে,  ভগবান হাট (মগ), কালিহাট (হিন্দু) ও খোদার হাট (মুসলমান)।

লেখক : কবি, ছড়াকার ও প্রাবন্ধিক
সদস্য : চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি)


দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft