ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ || ৪ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ অবশেষে জিব্রাল্টার ছাড়ল সেই ইরানি ট্যাংকার ■ ২০২৩ সালের মধ্যে সব স্কুলে দুপুরের খাবার ■ সেনা সদস্যকে গুলি করে হত্যা ■ ডেঙ্গু দমন নিয়ে অসন্তোষ হাইকোর্টের ■ ঢাকা মেডিকেলে দু'পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত ২০ ■ ফিলিস্তিনে ইসরাইলের রকেট হামলা ■ ঘুষ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে ■ কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে ■ ব্যারিস্টার মওদুদের জন্য দেশটা পিছিয়ে গেছে ■ এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২৪ ■ শিগগিরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ■  বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৭
বারোমাসি থাই আমের নার্সারিতে সফল বেকার যুবক সজল
জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
Published : Wednesday, 31 July, 2019 at 12:40 PM, Update: 31.07.2019 1:13:22 PM

চুয়াডাঙ্গার জীবনননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের বেকার শিক্ষিত যুবক সজল বারোমাসি থাই জাতের আমের নার্সারি করে আর্থিক ভাবে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। তার বারো মাসি থাই আমের নার্সারির আলোচনা এখন জেলা জুঁড়ে। যুবক সজলের প্রচন্ড মনোবল আর কঠোর পরিশ্রম তাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছে।

সজল প্রথমে পরিক্ষা স্বরুপ নার্সারি করলেও এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারি ব্যবসা শুরু করেছেন। নার্সারির পাশাপাশি তিনি নিজেও বারো মাসি আমের চাষ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে আম বাজারজাতও করেছেন। তার দেখাদেখি এলাকার চাষীরা জমিতে আম চাষে ঝুঁকছেন।

জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে সজল আহমেদ ওরফে সজল(৩০) লেখাপড়া শিখে চাকুরি নামের সোনার হরিণের পিছনে না ছুটে পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত এবং এলাকার কৃষকদের জমি লিজ নিয়ে হাইব্রিড জাতের পেঁয়ারা ও থাই জাতের বারোমাসি আমের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন।

বর্তমানে তিনি তিন বিঘা জমিতে থাইজাতের বারোমাসি আমের নার্সারি গড়ে তুলেছেন। তার নার্সারিতে বর্তমানে প্রতিটি বারোমাসি থাই আমের চারা ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য নার্সারি থেকে তার নার্সারিতে চারার দাম একটু কম হওয়ায় চাষিরা প্রতিদিনই তার নার্সারিতে ভিড় করছেন।

আম চাষি সজল বলেন,আমাদের এলাকায় ফুল বাবু কিংবা পেঁয়ারা বাবু হিসাবে ব্যাপক পরিচিত বাবু ভাইয়ের বারোমাসি থাইজাতের আমের চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমিও থাইজাতের আমের চাষে ঝুঁকে পড়ি। প্রথমে আমি পরিক্ষা স্বরূপ তিন বিঘা জমিতে থাই জাতের বারোমাসি আমের নার্সারি গড়ে তুলি। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমি নার্সারিতে সফলতাও পেয়েছি।

আমার দেখাদেখি এলাকার অনেক চাষি থাই জাতের আম চাষ শুরু করেছেন। আমার নার্সারিতে বর্তমানে ৬০-৭০ হাজার বারোমাসি আমের চারা রয়েছে। প্রতিটি চারা ১৫০ টাকা হারে বিক্রি করতে পারলে তা থেকে প্রায় ৯০ লাখ টাকা আয় করা যাবে। কোন আগ্রহী কৃষক চারা কিনতে চাইলে ০১৯৪৩-৮৬০৪৪২ ও ০১৯১০-৯২৮২১২ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন। নার্সারিতে এখন মুকুল ও ফলন্ত চারাও পাওয়া যাচ্ছে। এসব চারা লাগানোর সাথে সাথে আম পাওয়া যাবে।

সফল আম চাষি সজল আরো বলেন,থাইজাতের বারোমাসি আম অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পাকার পরও ২০ দিন পর্যন্ত কোন ফ্রিজিং ছাড়া রাখা সম্ভব। বারো মাসই আম পাওয়া যাবে এবং ঢাকার বাজারে থাইজাতের আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এক বিঘা জমিতে বাগান করতে করতে ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হবে। তবে এক বিঘা বাগান থেকে প্রতি বছরে দুই লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

জমিতে চারা লাগানোর এক বছরের মাথায় পরিপূর্ণ ভাবে আম পাওয়া যাবে এবং একবার বাগান করতে পারলে টানা ২৫-৩০ বছর ফলন পাওয়া যাবে। আমার নার্সারিতে শুধু থাইজাতের বারোমাসি আমের চারাই নয়,সেখানে পরিক্ষা স্বরূপ বারি-১১ জাতের আম,মাল্টা,থাই পেঁয়ারা,থাইজাতের গোলাপ জাম ও থাই আপেল কুলের নার্সারি করা হচ্ছে। আমার বিশ্বাস সেখানেও সফলতা পাওয়া যাবে।

উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, থাইজাতের বারোমাসি আমের চাষ করে ইতিমধ্যেই অনেকেই ঈর্শ্বণীয় সাফল্য পেয়েছেন। এ জাতের আম বছরে তিনবার ফল দেয়। বাজারে দাম ও চাহিদা ভাল। অসময়ে উৎপাদিত প্রতি কেজি আম বাজারে ২০০-৩০০ টাকার কমে পাওয়া যাবে না। এ খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। এ আম দেশীয় চাহিদা পুরণ করে বিদেশ রপ্তানি করা সম্ভব।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আলো

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।।
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft