ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯ || ৮ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ সারেদেশে বজ্রপাতে নিহত ১২ ■ রাখাইনে প্রবেশ করতে চায় ইউএনএইচসিআর ■ এমপির পছন্দের ব্যক্তিই হবেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ■ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকে আরো ২০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ■ রোহিঙ্গাদের ফেরত না যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে যার প্রভাব ■  ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় ■ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন জিয়াউর রহমান ■ বাংলাদেশের অশুভ শক্তিকে পরাভূত করতে হবে ■ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৯৪ ডাক্তার ও ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী ■ তিনদিনে ৬৫৮ বাড়িতে অভিযান, ডেঙ্গু পাওয়া গেছে ৫৬ বাড়িতে ■ ভারত নয় পাকিস্তান যুদ্ধের চেষ্টা করছে ■ ছুটিতে গেলেন সেই তিন বিচারপতি
মফস্বল সাংবাদিকতার সমস্যা ও সম্ভাবনা
অ আ আবীর আকাশ
Published : Friday, 2 August, 2019 at 8:36 PM, Update: 02.08.2019 9:30:52 PM

সাংবাদিকতা এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং তার উপরে মফস্বল কেন্দ্রিক সংবাদ ও সাংবাদিকতা আরো ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকি নিয়ে মফস্বলের সাংবাদিকতা করছেন তরুণ উদ্যমী চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারী কিছু শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত জনেরা। দেশে সংবাদপত্র টিভি ও রেডিও সাংবাদিকতার বিপ্লব ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমকে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অনিবার্য এক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মেনে নেয়া হচ্ছে দেশ চালিকার প্রধান চার খুঁটির চতুর্থ খুঁটি হিসেবে। তবুও  শহরের সাংবাদিকতাকে মূল্যায়ন করা হলেও মফস্বল সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করা হয় না তেমনি ভাবে। মফস্বল সাংবাদিকতা ছাড়া কি জাতীয় সংবাদ দিয়ে মিডিয়ার টিকে থাকবে? একেবারেই না, কিছুতেই সম্ভব নয়। মফস্বল সংবাদ সাংবাদিকতাও গণমাধ্যম টিকে থাকার প্রধানতম পুঁজি। যদিও মিডিয়া পরিচালনা করার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। আমি যা বোঝাতে চেয়েছি তা হল মফস্বল বাদ রেখে কি গণমাধ্যম এগোবে?

সংবাদপত্রের যাত্রা বহু প্রাচীন হলেও বিংশ শতাব্দীতে এসে এর আমূল পরিবর্তন হয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। শুধু তাই নয় রাখছে অগ্রণী ভূমিকাও। রাজধানী ঢাকার বাহিরে ও মফস্বলে এর ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাংবাদিকতা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিপুল সম্ভাবনার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। আমার মফস্বল সাংবাদিকতার ২২ বছর ও সম্পাদক জীবনের ১৯ বছর অভিজ্ঞতার আলোকে আজকের সংবাদিকতার সমস্যা ও সম্ভাবনার  নিয়ে কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করব।

আমি ১৯৯৭ সাল থেকে স্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা অ্যালান এর মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার সুবাদে সাংগঠনিক খবর লেখা শুরু করি। সম্পাদক মরহুম আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও সাপ্তাহিক দামামা পত্রিকার সম্পাদক মরহুম গোলাম রহমান আমার সাংগঠনিক খবর লেখার হাত দেখে অন্য সব খবরাখবর লেখার জন্য বলেন। সে সময় থেকেই আমার সংবাদ সাংবাদিকতার বীজ বপন হয়। তবে আজকে মফস্বল সাংবাদিকতা বলতে যে জিনিসটা তার সাথে আরও কত কি ঘটনা রটনা শ্রম-ঘাম ত্যাগ-তিতিক্ষা জড়িয়ে আছে তা আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।

প্রথমে আমরা জানব যে `মফস্বল সাংবাদিকতা কাকে বলে?' মফস্বল সাংবাদিকতা বলতে-` রাজধানী কি বা পত্রিকা ছাপানোর শহর থেকে দূরে মফস্বল ভিত্তিক জেলা উপজেলা সমূহের যে সাদ্য দু:সাদ্যকে লালন করে সংবাদ ও সাংবাদিকতার চর্চা করেন, মানে সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের জন্য প্রকৃত সত্য ঘটনার আলোকে সংবাদ তুলে আনা হয়, তাকে মফস্বল সংবাদ, সাংবাদিকতা বলে। 'এ মফস্বল সংবাদ ও সাংবাদিকতা গণমাধ্যম এর একটি অপরিহার্য অংশ।

এ পর্যন্ত যতগুলো সমস্যা প্রতিকূলতা বৈরিতা সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে আমি কয়েকটি চিহ্নিত করে তার আলোকে ধারাপাত করব। বাংলাদেশ মফস্বলে মুদ্রণ (প্রিন্ট মিডিয়া) গণমাধ্যমে (সংবাদপত্র) সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা প্রধান দুই ধরনের। ১. স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ সাংবাদিকতা ও  ২. জাতীয় পত্রিকার সংবাদ সাংবাদিকতা। বাংলাদেশে সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ১৯৯১ সালে চালু হওয়ার পর থেকে জাতীয় স্থানীয় বহু সংখ্যক দৈনিক সাপ্তাহিক মাসিক ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে।এ বিপুল সংখ্যক কাগজের দায় দায়িত্ব পালনের জন্য আবার বহু সংখ্যক লোকবলের (সাংবাদিক) প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশে এ বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক সংবাদকর্মী সমস্যা ও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্যই আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

 ১.মফস্বল সাংবাদিকতার সমস্যা:

আমাদের দেশে মফস্বল সাংবাদিকতার সমস্যা নানামুখী ও বহুমাত্রিক। মফস্বল সাংবাদিকতা বহুমাত্রিক সমস্যাকে আবার চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। (ক) সরকার পক্ষ সংশ্লিষ্ট সমস্যা। (খ) মালিকপক্ষ সংশ্লিষ্ট সমস্যা। (গ) সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট সমস্যা। (ঘ) সাংবাদিকদের মাঝে নিজস্বতা নিয়ে সমস্যা।

 এবার এসব ইস্যুগুলো নিয়ে ক্ষুদ্র আলোকপাত করছি।

(ক) সরকারপক্ষ সংশ্লিষ্ট সমস্যা:

সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দায়িত্ববোধ অব্যাহত রাখার বিভিন্ন পর্যায়ে সরকার বা প্রশাসন থেকে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় এ পর্যায়ে সব সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। সাংবাদিকরা সরকারি তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের প্রশাসনিক ও সহযোগিতা সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে বাধা নিষেধ আরোপ সত্য প্রকাশের কারণে ক্ষিপ্ত অন্যদিকে অসৎ শক্তিমানের আক্রোশ ও আক্রমন থেকে সুরক্ষা প্রদানে সরকার ও প্রশাসনের অনীহা সহযোগিতা প্রভৃতি সাধারণত সাংবাদিকতার জন্য সরকার পক্ষ সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য সমস্যা।

 সত্য সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে সরকারি বাধা-নিষেধ প্রকাশে গোপনে কৌশলে রয়েছে এমনকি নানাবিধ ধারা সৃজন করে আইনের কব্জায় ফেলে মোকদ্দমা রুজু করে। রয়েছে সরাসরি কোনো সরকারি চাকরিজীবী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করা যাবে না। যদি একান্তই খবরাখবর লিখতে হয় তাহলে অভিযুক্ত কর্তা বা ব্যক্তির পূর্বানুমতি নিতে হবে। কথা হচ্ছে যিনি অভিযুক্ত তিনি কখনও কোন দেশে কি সাংবাদিকদের অনুমতি দিয়েছেন-`  আমার বিরুদ্ধে যা জেনেছন সত্য, এবার সংবাদ প্রকাশ করেন'। এমন ধারা সৃজন হওয়া মানে আমাদের গণমাধ্যমের জন্য চরম হাসির খোরাক।

সরকারপক্ষ সংশ্লিষ্ট সমস্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদেরও এখন বাহুশক্তির বিস্তার ঘটেছে। তাদের বিরুদ্ধেও সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে অনীহা অসহযোগিতার মাত্রা চরম আকার ধারণ করছে ক্রমশ। সমাজের অসৎ শক্তিমান পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন ভূমি ভেদ করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে।

আইনের টেরাটোপে পড়ে গণমাধ্যম কি দিনকেদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে? যদি তাই হয় তাহলে দেশ ও দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা অধিকার ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র চরম হুমকির মুখে পড়বে। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার  উপায় হচ্ছে -সরকার ও তার প্রণীত ক্ষতিকর যে কয়েকটি আইনের ধারা রয়েছে তা রদ করে গণমাধ্যমকে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা। সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট গঠন করে সাংবাদিক সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করা। তাহলে দেশে ফিরে আসবে গণতান্ত্রিকতা, সৎ সাংবাদিকতার  পাশাপাশি সত্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ লেখার প্রবণতা।

(খ) মালিকপক্ষ সংশ্লিষ্ট সমস্যা:

জাতীয় স্থানীয় যা-ই বলি সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের মালিক পক্ষ থেকে উৎপন্ন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় মফস্বল সাংবাদিকতা ও সাংবাদিককে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মালিক এর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে কিছু কিছু সংবাদপত্রের মালিক বিত্তবান ও পুঁজিবাদ। যারা মোটেও সংবাদ সাংবাদিকতা ঘরানার কেউই নন। প্রকৃত সাংবাদিক কেউ পত্রিকার মালিক হতে চাইলে নানাবিধ সমস্যার উৎপত্তি ঘটে। পুঁজিবাদ শিল্পপতি ধনীদের বেলায় তা সহজেই ঘটে যায়।ইদানিং কিছু স্থানীয় পত্রিকার মালিকানাও চলে যাচ্ছে তৈলবাজদের হাতে। যারা আদতে সংবাদ সাংবাদিকতা কি বোঝে না। পুঁজিবাদ শিল্পপতিদের ও রাজনৈতিক নেতার হাতে পত্রিকা যাওয়া মানে তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক চরিত্র আড়ালে রাখার জন্য কি বা পত্রিকাকে নিজের স্বার্থে ইচ্ছেমতো ব্যবহারের সুযোগ পায়। আর তাতে করে সাদা কালো হলুদ বর্ণের সাংবাদিকতা শুরু হয় এসব পত্রিকাগুলোয়।
এতে করে প্রকৃত সংবাদকর্মীরা সাংবাদিকতার নীতিচ্যুত হওয়ার কষ্টে ভোগেন।  কিন্তু তারা এসব কার্যক্রম থেকে নিজেদের প্রতিবাদ করার কিবা প্রতিবাদী হওয়ার সাহস দেখাতে পারেন না। বেতন-ভাতা না পাওয়া এসব সাংবাদিকতার জন্য কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বেতন ভাতা খোদ রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরেও অনেকে পান না। যে কোন সময় নিয়োগ বাতিল, চাকরীচ্যুত হওয়ার চিন্তাও মফস্বল সাংবাদিকতার জন্য একটা হুমকি।

(গ)সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট সমস্যা:

সমাজের স্তরে লুকিয়ে থাকা অসততা, শঠতা, হীনতাসহ নানা অসঙ্গতি, ইতিবাচক বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা কি বা প্রতারণার মত ঘটনাগুলো সংবাদ আকারে পত্রিকায় প্রকাশ করেন  মফস্বল সাংবাদিকরা। সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষমতাবান অসৎ ব্যক্তিবর্গ সাংবাদিকতার এমন ভূমিকায় ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হন। তারা নানামাত্রিক চল বল ও কৌশল প্রয়োগ করে সংবাদকর্মীদের সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখার অব্যাহত চেষ্টা করে। অন্যদিকে অসৎ জালিয়াত চক্র নিজেদের পথের কাঁটা বিবেচনা করে সংবাদকর্মীদের হত্যার চেষ্টা ও করে। আমরা জেনেছিও যে বাংলাদেশের সংবাদ সাংবাদিকতাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের মফস্বল ভিত্তিক সংবাদ চর্চা করা, মফস্বল সাংবাদিকতার জন্য সমাজ-রাষ্ট্রের অসৎ ক্ষমতাবান চক্রটি একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে পরিলক্ষিত হয় আমার কাছে।

(ঘ) সাংবাদিকদের আপন সংশ্লিষ্ট সমস্যা:

মফস্বল সাংবাদিকদের মধ্যে নিজস্ব কিছু সমস্যা আছে যা রাজধানী কি বা বিভাগীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ধরন ও প্রকৃতিগত সম্পূর্ণ আলাদা। তবে জাতীয় ও স্থানীয় যা-ই বলি সকল সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণের সমস্যাটি একই ধরনের। সামান্য কিছু এর দৃঢ়তা একতা  মফস্বলে প্রবল। যা বলছিলাম মফস্বল সাংবাদিকদের আপন সংশ্লিষ্ট সমস্যা হলো- তারা একে অপরে হিংসা, অহংকারবোধ থাকায় প্রতিটি জেলা উপজেলায় একাধিক প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ নানা সংগঠন বিদ্যমান।

মফস্বলে সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে কেউ কেউ অপসাংবাদিকতাও করছে। রাজনৈতিক নেতাদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে তৈল মর্দন করছে, প্রশাসনিক কর্তাদের পায়ের তালু চাটতেও দেখা যায় এরা মূলত বিভিন্ন অফিসে মাসিক মাসোহারা বহন করে। এদের কারণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। গণমাধ্যমের লোগো বা স্টিকার মোটরসাইকেলে বা প্রাইভেটে ও মাইক্রোবাসে সাঁটিয়েই  শুরু করে রাত পোহালে ধমকের সাংবাদিকতা। কিছু কিছু মফস্বল সাংবাদিকের মধ্যে এর প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। এরা সত্য উদঘাটনে না গিয়ে সংবাদ খোঁজ না করে অফিসে অফিসে হানা দেয় তেলের বোতল হাতে তৈল মর্দনের  উদ্দেশ্য নিয়ে। এদের কাছে সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি (এথিকস) পরিলক্ষিত হয় না। কিছু ক্ষেত্রে তারা সংবাদ বিক্রি করছেন।আবার সংবাদ বিকৃতও করছেন না মিথ্যা সংবাদ তৈরিও করছেন। রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হয়ে মতাদর্শগত বিভক্তির ধারা সংবাদ পরিবেশনে সংবাদকর্মীরা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় প্রভাবিত হয়। আর এই জায়গায়টি হতেই `তথ্যসন্ত্রাস' শব্দটি উৎপাদিত হয়েছে। যা মফস্বলে কিছু কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ রচনা  করে কি বা ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রশাসনিক কর্তাদের খুশি করার লক্ষ্যে যাচ্ছেতাই সংবাদ রচনা করা হয়।

এ তথ্য সন্ত্রাস যখন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘটে কিছু ক্ষেত্রে তা ব্যক্তির জন্য এতটাই মানহানিকর হয়ে দাঁড়ায়, অনেক সময় তা মৃত্যুতুল্য যন্ত্রণারও সৃষ্টি করে। মফস্বলে এমন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা খুব কমই সংশ্লিষ্ট পত্রিকা থেকে প্রতিকার পেয়ে থাকেন। মফস্বল সাংবাদিকতার এ আচরন সমাজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সীমা লংঘনমূলক আচরন এ কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতে বাধ্য করে।

বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার জন্য প্রশিক্ষণের অভাবও রয়েছে চরমভাবে।  তবে কিছু কিছু সাংবাদিক শিক্ষিত বলে তারা সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্য আরেকটি পেশায় সংযুক্ত। তবে স্বল্প শিক্ষিতদের ছড়াছড়ি মফস্বল সাংবাদিকতায়। কেউ আসছে বই বিক্রি থেকে, মিস্ত্রি থেকে, কেউ চা দোকানদার থেকে, বীমা কর্মচারী থেকে, ফটোকপির দোকান থেকে, বিদ্যুতের দালাল, হাসপাতালের দালাল এননকি ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা থেকে  সাংবাদিকতায় আসছে নিজ নিজ অপকর্ম অপদার্থতাকে রাখার জন্য যেমনটি করে রাজনৈতিক অসৎ নেতা, অসৎ পুঁজিবাদ, শিল্পপতি তাদের ব্যবসায়িক কাজে অসচ্চরিত্র লুকানোর জন্যই তারা সংবাদপত্র  ও টিভি চ্যানেল নেন। এরা তো কখনোই সংবাদ ও সাংবাদিকতা ঘরানার কেউ নন।

রাজধানীতে সাংবাদিকরা নানা প্রশিক্ষণ পান, সংবাদ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে নানা ট্রেনিং নেন। সাংবাদিকতার নীতি (এথিকস) ও পদ্ধতি বিষয়ক শিক্ষালাভের সুযোগ পান। মফস্বলে ধরনের সুযোগ নেই বললেই চলে। (চলবে)

লেখক: কবি কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক: আবীর আকাশ জার্নাল।


দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আলো

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : info[email protected]
Developed & Maintenance by i2soft