ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ একটু পানি চেয়েছিল মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকা আবরার ■ রিমান্ডের প্রথম দিনেই র‍্যাবের কাছে সম্রাট ■ যুবলীগের কোন দুর্নীতিবাজ যেন গণভবনে না আসে ■ টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক কারবারি নিহত ■ মদিনায় বাসে আগুন, ৩৫ ওমরাহ যাত্রী নিহত ■ সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ করতে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ■ বড় ভাইয়ের নির্দেশে আবরারকে ডেকে এনে মারা হয় ■ কুষ্টিয়ায় কৃষক হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ চারজনের ফাঁসি ■ সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ ডেকেছে ঐক্যফ্রন্ট ■ ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ■ ফের কাশ্মীরে গোলাগুলি, ৩ সন্ত্রাসী নিহত ■ জাপানে টাইফুন হাগিবিসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩
আমন ধানের চারা সংকটে কুড়িগ্রামের চাষিরা
এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম
Published : Sunday, 4 August, 2019 at 5:57 PM, Update: 04.08.2019 6:16:27 PM

কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ১৫৬ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার কৃষক পরিবার। আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে আমন চারার। আবার কোথাও চারা পাওয়া গেলেও তার মূল্য চড়া। আর্থিক সংকটে আমন আবাদ করতে পারছে না অনেক কৃষক পরিবার। এতে অনাবাদি থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বেশ কিছু জমি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রবিশস্যের আগে মিলছে না সরকারি প্রণোদনা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৩ কোটি টাকার সবজি, ২১ কোটি টাকার মসলাজাতীয় ফসল, ৫৭ কোটি টাকার আউশ ও ১৫ কোটি টাকার বীজতলা রয়েছে।

ফসল নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ঋণ নিয়ে সবজি চাষ করা অনেক কৃষক। সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের দক্ষিণ নওয়াবশ এলাকার সবজি চাষি কালাম ও মকবুল জানান, হঠাৎ ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় (বন্যায়) করলা ও পটোল ক্ষেত তলিয়ে যায়। এতে দুই একর জমির সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। একই অবস্থা মোগলবাসা ইউনিয়নের সিতাইঝাড় এলাকার কৃষকদের। এখানে সবজি চাষ করেই লোকজন জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের সবার সবজিক্ষেতে এখনো রয়েছে বন্যার পানি।

বন্যায় চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার শতভাগ বীজতলাসহ অন্যান্য উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চারার অভাবে আমন চাষ করতে পারছে না অনেক কৃষক। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে বেশি দামে চারা সংগ্রহ করছে। তবে ভরা মৌসুমেও টাকার অভাবে হাত গুটিয়ে বসে আছে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে আমন আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বন্যায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ৫০ শতাংশ জমির জন্য ১৭ কিলোমিটার দূরে বালারহাট থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে চারা কিনে রোপণ করছেন। এই গ্রামের জয়নাল আবেদীন জানান, তাঁর ভাই রমজান আলী বালারহাট থেকে তিন হাজার টাকা খরচ করে চারা জোগাড় করলেও তিনি চারা কিনতে পারছেন না টাকার অভাবে।

তবে কৃষকরা চারার সংকটে আমন আবাদ করতে অপারগ হওয়ায় এবং অনেক জমি পতিত থাকার আশঙ্কা দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আপাতত কোনো সহায়তা পাওয়ার আশা নেই।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বন্যায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রবি মৌসুমে প্রণোদণা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আলো


আরও সংবাদ   বিষয়:  আমন ধান   কুড়িগ্রাম  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft