ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ || ৩ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ কাচাঁ চামড়া নষ্ট হয়েছে মাত্র ১০ হাজার পিস ■ ঢাকা মেডিকেলে দু'পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত ২০ ■ ফিলিস্তিনে ইসরাইলের রকেট হামলা ■ ঘুষ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে ■ কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে ■ ব্যারিস্টার মওদুদের জন্য দেশটা পিছিয়ে গেছে ■ এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২৪ ■ শিগগিরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ■  বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৭ ■ চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ পাঠানো হবে ■ ভুলের চোরাবালিতে আটকে রাজনীতিতে শূন্য বিএনপি ■ চামড়ার বাজারে নৈরাজ্যর প্রতিবাদে মানববন্ধন
ডেঙ্গু নিয়ে বেশি প্রচার করায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Tuesday, 6 August, 2019 at 11:10 PM, Update: 07.08.2019 8:59:51 AM

সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গু বিষয়ক খবর অনেক বেশি প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, আর সেটাই সমস্যা সৃষ্টি করছে বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলায় মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকার নেন বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মানসী বড়ুয়া।

সাক্ষাৎকারে গণতন্ত্র, ডিসেম্বরের নির্বাচন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি, পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা সংক্রান্ত গুজব ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ডেঙ্গুর প্রকোপ ও এডিস মশার বিস্তার রোধে দুই সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও ব্যর্থতার অভিযোগ নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গু বিষয়ক খবর অনেক বেশি প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে, আর সেটাই সমস্যা সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটু উচ্চবিত্ত যারা, সেই সব জায়গাগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। আমাদের সব সময় লক্ষ্য থাকে বস্তি এলাকা, ড্রেন এ সব দিকে। মশা মারা কিন্তু নিয়মিত একটা ব্যাপার।’

শুধু সিটি করপোরেশনকে দোষ না দিয়ে সব মানুষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। মশার ওষুধ কেনায় দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তাও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মশার ওষুধ কেনার ব্যাপারে টেন্ডার করা হয়। যারা টেন্ডারে উপযুক্ত হয়, তারা কিনে নিয়ে আসে এবং সেগুলো ব্যবহারও হয়। তবে কোন ওষুধ এডিস মশার ওপরে কাজ করে, সেই ব্যাপারে বিভক্তিকরণ করা হয়নি বা সেই ধরনের সতর্কতা ছিল না।

সরকারি হিসাবেই বলা হচ্ছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং এর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে কীভাবে ভবিষ্যতে মশা নিয়ন্ত্রণ আরও সুষ্ঠুভাবে করা যায়? বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে আহ্বান করা হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকা নয়, পুরো দেশেই একটা পরিচ্ছন্নতা অভিযান দরকার।’

তিনি বলেন, কারো ঘরের কাছে বা ঘরে কোথাও যদি পানি জমা থাকে এবং সেখানে মশার লার্ভা তৈরি হয়, তবে তাদের জরিমানা করা হবে। মানুষ যদি আগামীর জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি হবে না বলে মনে করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যে সব দেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ তাদের একটি, কিন্তু এর সুফল সব পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই পৌঁছাচ্ছে। সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি।

২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে আমাদের দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগের ওপরে ছিল। আজকে সেটা ২১.৪ ভাগে নেমে এসেছে। মাত্র ১০ বছরের মধ্যে আমরা সেটা অর্জন করতে পেরেছি। মানুষের মাথাপিছু আয় যেখানে ৪০০/৫০০ মার্কিন ডলার ছিল, আজকে সেখানে প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলারে সেটি উঠে এসেছে। প্রবৃদ্ধি আমরা এখন ৮.১ শতাংশ অর্জন করতে পেরেছি।’

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন বেশ নাজুক অবস্থায় আছে এবং ঋণখেলাপিরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছে না— এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, যতটা প্রচার হয় বিষয়টা ততটা না। ঋণ নিয়ে সেটা ফেরত না দেয়া, এই কালচারটাও আমাদের এখানে শুরু হয় সামরিক স্বৈরাচারদের আমলে। যখন ক্ষমতায় এসেছি আমরা চেষ্টা করেছি, আমরা অনেক টাকা উদ্ধার করেছি। তারপরও কিছু মানুষের প্রবণতা থাকে যে, টাকা দিলে মনে হয় সেটি আর ফেরত দিতে হবে না।’

সাক্ষাৎকারে পদ্মা সেতুতে মানুষের কাটা মাথা লাগার গুজব এবং এর জেরে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজন মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে, এরকম কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তিনি গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মান ও এর চর্চা যেভাবে হচ্ছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্নের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখন ৪৪টি প্রাইভেট টেলিভিশন আছে এবং তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। স্বাধীনতা না থাকলে তারা আমার বিরুদ্ধে বা সরকারের বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার করছে কীভাবে।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং এ নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা এখন কোনো কেন্দ্রে গোনার দিক থেকে হয়তো পেয়েছে। কোনো কেন্দ্রে হয়তো হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমাদের ট্রাইব্যুনাল আছে, সেখানে মামলা করতে পারে, কোর্টে মামলা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনেও মামলা করতে পারে। তারা তদন্ত করে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি সত্যিই ভোট দিতে না পারতো, তাহলে তাদের ডাকা সাড়া দিয়ে মানুষ আন্দোলনে নামতো এবং আমরা ক্ষমতায় থাকতে পারতাম না।’

দেশে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন বন্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন মানসিকতা আমাদের নেই এবং আমরা সেটি করি না। ঘটনাচক্রে কিছু ঘটতে পারে। বরং আপনি যদি গত ১০ বছরে আমাদের অবস্থান দেখেন, আমরা কিন্তু অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনি আমার নিজের কথাই চিন্তা করেন, যখন আমি আমার বাবা-মা সবাইকে হারালাম, গুলি করে মারা হলো। কই আমি তো বিচার পাইনি। খুনিদের বিচার না করে তাদের ইনডেমনিটি দেয়া হলো। অর্থাৎ অপরাধকে প্রশ্রয় দিলেন। উল্টো তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশে অপরাধকে স্বীকৃতি দিয়েই একটা সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, সেই দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। হেফাজতে মানুষ হত্যা করার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী আমার দলের নেতাকর্মীরা। নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন ঠিক ওইভাবে হেফাজতে মৃত্যু হয় না। নির্যাতনও সেভাবে করা হয় না।

আন্তর্জাতিকভাবে অপরাধীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে কিছু নিয়ম রয়েছে, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর বাইরে কিছু করা হয় না। আওয়ামী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতিকে হত্যার ঘটনার পর থেকে অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। অসাংবিধানিক সরকারের সময় যারা বেশি সুযোগ ভোগ করেছে বা ক্ষমতাটা যারা উপভোগ করেছে, তারা কখনোই চায়নি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।  তিনি বলেন, একটা শ্রেণি হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

দেশসংবাদ/এসআই

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
সম্পাদকীয় কার্যালয়
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।।
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft