ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯ || ৭ ভাদ্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ সারেদেশে বজ্রপাতে নিহত ১২ ■ রাখাইনে প্রবেশ করতে চায় ইউএনএইচসিআর ■ এমপির পছন্দের ব্যক্তিই হবেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ■ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকে আরো ২০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ■ রোহিঙ্গাদের ফেরত না যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে যার প্রভাব ■  ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় ■ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন জিয়াউর রহমান ■ বাংলাদেশের অশুভ শক্তিকে পরাভূত করতে হবে ■ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৯৪ ডাক্তার ও ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী ■ তিনদিনে ৬৫৮ বাড়িতে অভিযান, ডেঙ্গু পাওয়া গেছে ৫৬ বাড়িতে ■ ভারত নয় পাকিস্তান যুদ্ধের চেষ্টা করছে ■ ছুটিতে গেলেন সেই তিন বিচারপতি
যশোর হাসপাতালে ভাড়ায় বেড, মেঝেতে রোগীর ছড়াছড়ি
আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
Published : Friday, 9 August, 2019 at 11:19 PM

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে পেইং ওয়ার্ড। আর মেডিসিন ওয়ার্ডের বেডগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে ডেঙ্গু কর্ণারে। বর্তমানে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের ঠাঁই হয়েছে মেঝে ও বারান্দায়। সরকারের বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে তাদের। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনরা বিপাকে পড়েছেন। সব সময় তারা খাবার কিনে খেতে পারছেন না।

এদিকে, সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে ডেঙ্গু কর্ণার চালু করার বিষয়টি অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন। তারা বলছেন, সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ ও কষ্টে রেখে পেইং ওয়ার্ড (ভাড়ার বেড) চালু রেখে কর্র্তৃপক্ষ ঠিকই বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন।

গত ২১ জুলাই থেকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী আসতে শুরু করে। এরপর থেকে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিভিন্ন ওয়ার্ডের রিপোর্ট খাতার তথ্যানুযায়ী ২১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির সংখ্যা হলো ২৪৫ জন। বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিলো ৬২ জন।

জানা গেছে, সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তরা চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছিলেন। এরই মধ্যে ডেঙ্গু কর্ণার তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে হাসপাতাল কর্র্র্তৃপক্ষ। এরই প্রেক্ষিতে গত রোববার চালু হয় ডেঙ্গু কর্ণার। হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডেঙ্গু কর্ণার চালু করা হয়েছে পুরুষ পেইং ওয়ার্ডে। আর পেইং ওয়ার্ড নেয়া হয়েছে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের মধ্যে। সেখানে ২৬টি ভাড়ার শয্যা বসানো হয়েছে। শয্যাগুলোতে টাকা দিয়ে রোগীরা থাকছেন।

সেবিকাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের ২৬টি শয্যা ডেঙ্গু কর্ণারে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। যে কারণে মেডিসিনের রোগীরা থাকছেন মেঝে ও বারান্দায়।

একাধিক রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, মেডিসিন সংক্রান্ত অধিকাংশ রোগী বয়স্ক। কিন্তু শয্যা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা মেঝে ও বারান্দায় দুর্ভোগের মধ্যে থেকেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। শয্যা না থাকায় তাদের সরকারের সরবরাহ করা খাবার বন্ধ রাখা হয়েছে।

তারা আরো জানান, মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে শয্যা না নিয়ে যদি পেইং ওয়ার্ডের শয্যায় ডেঙ্গু কর্ণার চালু করলে সাধারণ রোগীদের এতোটা দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। এতে করে পেইং ওয়ার্ডের ভাড়ার বেডের বাণিজ্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও গুরুতর অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থাকা থেকে রেহাই পেতেন। তবে তা না করে ভাড়ার বেডের বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীরা শয্যা না পাওয়ার কারণে হাসপাতাল থেকে তাদের খাবার দেয়া হচ্ছে না। রোগী ও স্বজনদের বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। ফলে টাকার অভাবে অনেকেই নিয়মিত খাবার কিনে খেতে পারছেন না। বর্তমানে মেডিসিনের শয্যা ডেঙ্গু কর্ণারে চলে যাওয়ায় খাবারও তারা পাচ্ছেন। এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু আমাদের প্রতিবেদক আব্দুর রহিম রানাকে  জানান, বাড়তি কক্ষ না থাকায় পেইং ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু কর্ণার করা হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

তিনি আরো জানান, হিসেবের বাইরে কোনো রোগীর খাবার দেয়ার নিয়ম নেই। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তরাও তো মেডিসিনের রোগী। তাই মেডিসিন ওয়ার্ডের ২৬টি শয্যা নিয়ে ডেঙ্গু কর্ণারে দেয়া হয়েছে। এছাড়া পেইং ওয়ার্ড বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা নেই। তাই আপাতত মেডিসিন ওয়ার্ডের এক পাশে পেইং ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর চাপ কমে গেলে পূর্বের অবস্থায় ওয়ার্ডগুলো সাজানো হবে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এসআই

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft