ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ || ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ আগুনে আহতদের ৫০ হাজার করে দিলো শ্রম মন্ত্রণালয় ■ মিয়ানমারকে বিশ্বাস করা যায় না ■ আর সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি নেবে না জবি ■ রংপুরে ১৪১ জন মাদক ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ ■ খালেদাকে ১৭ বছর জেল খাটতে হবে ■ পা ছুঁয়ে সালাম করতেই এনামুরকে যা করলো নূর ■ বিএনপি কর্মী ভেবে পুলিশকে পেটালেন ওসি ■ আসামে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৩ ■ বড় দিন ও থার্টি ফার্স্টে উন্মুক্ত স্থানে গানবাজনা নয় ■ পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয় দফায় ভোট দিচ্ছেন ব্রিটিশরা ■ দুর্নীতির জন্য সব অর্জন ম্লান হয় ■ মির্জা ফখরুলসহ ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীতে পশুর দাম বেশি, দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা
সাইদুল ইসলাম :
Published : Saturday, 10 August, 2019 at 6:13 PM, Update: 10.08.2019 10:09:17 PM

রাজধানীতে পশুর দাম বেশি, দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা

রাজধানীতে পশুর দাম বেশি, দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা

সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। ফলে পছন্দের পশু কুরবানি দিতে রাজধানীর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপরা ভির এখন লক্ষ্যনীয়। তবে পশুর হাটে ক্রেতাদের ভির হলেও গতবারের চেয়ে বিক্রি অনেক কম। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ খুশি হতে পারছে না। গত কয়েকদিন হাটগুলো বেচা-কেনা কম হলে শনিবার থেকে বেচা-কেনা বেড়েছে হয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা রোববার শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় রয়েছেন। আবার অনেকের পছন্দ হলে দাম বেশি দিয়েই পশু কিনে নিচ্ছেন।   

সরেজেিমনে রাজধানীর পশুর হাটহুলোতে দেখা গেছে, প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। তবে এরমধ্যে গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এরপাশাপাশি ছাগল ও মহিষও বিক্রি হচ্ছে। কাল ঈদ হওয়ায় হাটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতা সমাগম। কিন্তু বিক্রি কম হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়ছে বিক্রেতারা। তবে আজ রোববার শেষ দিন হওয়ায় দাম কম বা বেশি যাই হোক যারা কোরবানি দেবেন তারা সবাই পশু কিনবেন বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন।

হাট ঘুরে আরো দেখা গেছে, এবারের কোরবানির হাটে দেশীয় গরুর সংখ্যাই বেশি। ক্রেতাদের কাছে দেশি গরুর চাহিদা বেড়েছে। তবে ভারতীয় গরুও রয়েছে। ব্যাপারিরা জানিয়েছে, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই বেশি বলে। হাটে প্রচুর গরু রয়েছে। এখনও ট্রাক ভর্তি গরু আসছে হাটগুলোতো।

ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি। ফলে তারা দাম কমার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপক্ষো করতে চাচ্ছে। তবে ব্যাপারীরা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার পশু পালনে খরচ বেশি। খাদ্য, ওষুধ, পরিবহন ও রাস্তার খরচ মিলে পশুর দাম বেশি পড়েছে। ফলে আমাদের বেশি দামে পশু বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।

রাজধানীর গোলাপবাগ হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপচেপরা ভির। তবে তেমন বিক্রি লক্ষ্য করা যায়নি। জয়পুরহাট থেকে নজরুল ইসলাম ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন এ হাটে। এর মধ্যে শন্বার দুপুর পর্যন্ত ৩টি বিক্রি হয়েছে। বাকিগুলো আজকের মধ্যে বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা অনেক। ১৫টা আনছি। এখন আছে ১২টা। তিনি বলেন, আমি গতবারও ৯টা গরু নিয়ে আসছিলাম। দাম বেশি নিয়া লাভ নেই। পোষাইলে বিক্রি করে দিচ্ছি।

এদিকে, রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীতেও তেমন বেচা কেনা নেই। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম নয়। ভিড়ের মধ্যে প্রকৃত ক্রেতা খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেকে। তাইতো বিক্রেতাদের চোখ খুঁজে ফিরেছে ক্রেতাদের মুখ।

ব্যাপারীরা জানান, হাটে মানুষের ভিড় কিন্তু ক্রেতা নেই। তবে সময় যত গড়াবে তত ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের। তাদের মতে আজ রোববারের মধ্যে সব পশু বিক্রি হয়ে যাবে।  শনিবার দেখা যায়, গাবতলীর হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। হাটের প্রবেশমুখে আর রাস্তার দুপাশে অনেকে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।  গরু হাটে বেশ মানুষ আসতে শুরু করেছে। ক্রেতারা গরু দেখছেন, দরদামও করছেন। কিন্তু দাম বেশি চাওয়ায় ক্রেতাদের বিমুখ হতে দেখা গেছে।

এদিকে হাসিলঘরের সামনেও বেশ ভিড় দেখা যায়। গরু বিক্রি হলে হাসিল ঘরে গিয়ে হাসিল পরিশোধ করে তবেই গরু বাইরে নিতে পারছেন ক্রেতারা। কুষ্টিয়া থেকে হাটে দুটো গরু নিয়ে এসেছেন আমিনুল ইসলাম। ৭ মণ ওজনের একটা ষাঁড়ের দাম তিনি চাচ্ছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিক্রেতারা সর্বোচ্চ ১ লাখ চার/পাঁচ হাজার টাকা বলছেন।

তিনি বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ৩০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া নিয়ে এসেছি। গরু হাটে তুলতে প্রতিদিন খরচ আছে ৫ হাজার টাকা, গরুর পেছনে দিনে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৫০০-৭০০ টাকা। দুই বছর বাড়িতে পালন করেছি। অথচ ক্রেতারা  দাম বলছে না। গরুর কিনতে আসা ক্রেতা হাসিবুর রহমান বলেন, গরু কিনতেই বাজারে এসেছি। এবার বাজার খুব চড়া। গরু পছন্দ করলেই দাম বেশি চাচ্ছে ব্যাপারী। বাজারের শেষ দিকে দাম কমতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

গরুর দাম চড়া হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ব্যাপারী মানিক বলেন, গরু পালতে অনেক খরচ পড়ে। আমরা সিঙ্গাইর থেকে ১৯টা গরু নিয়ে আসছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ২টা বিক্রি হয়েছে। আমাদের গরুগুলোকে খড়, ভুসি, গাজর, বিদেশি ঘাস খাইয়ে বড় করছি। এগুলা খরচ পোষাতে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হাটে ভিড় থাকলেও ক্রেতা কম এখন। আমাদের সিঙ্গাইরের গরুর চাহিদা আছে বাজারে। ফলে রোববারের মধ্যে সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। এদিকে, শুধু গাবতলিতেই নয় রাজধানীর আফতাফনগর হাট, শনির আখড়া ও দনিয়া মাঠসংলগ্ন হাট, মেরাদিয়া হাট, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গার হাট ও ঝিগাতলা হাজারীবাগ হাটসহ সব কয়টি হাটে প্রচুর গরু ছাগল ও মহিষ উঠলেও বিক্রি তেমন নেই। এসব গরু-মহিষ-ছাগলে ভর্তি হাট, ক্রেতা-বিক্রেতাতে মুখর। অথচ বেচাকেনা খুবই কম। ফলে খামারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লোকসানের শঙ্কা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

দেশসংবাদ/এসআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  পবিত্র ঈদুল আজহা   কুরবানি   পশু  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft