ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ৭ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ফাইনালের আগে দুর্দান্ত জয় পেলো বাংলাদেশ ■ শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে ■ সেই জিকে শামীম ১০ দিনের রিমান্ডে ■ ভূতের আড্ডায় বাতি জ্বালিয়ে যা দেখলেন অভিযানকারী! ■ সব ধরনের মানুষের জন্য পার্ক ও মাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ■ খালেদাকে দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ■ যুবলীগের চেয়ারম্যান-সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি ■ সাত বডিগার্ডসহ যুবলীগ নেতা শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর ■ মিসরজুড়ে একনায়ক সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ■ ক্যাসিনো অভিযানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে ■ অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ■ রূপপুর বালিশকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নেন জিকে শামীম
প্রসঙ্গ: বঙ্গবন্ধু, ভারত, কাশ্মীর ও বিবিধ
হাসান আল বান্না :
Published : Thursday, 15 August, 2019 at 3:28 PM

১. ১৫ ই আগস্ট। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী। এই দিনের প্রেক্ষাপট আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। কেন আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারালাম। ক. বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌম বিরোধী বাম জাসদ গং দের ষড়যন্ত্র। খ. চাটুকারদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। আজকে ইনু- মেনন- মতিয়া চৌধুরী সহ যারা বাম জাসদ ও বিপ্লবী সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারী তারাই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে। মতিয়া চৌধুরী তো বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে প্রকাশ্যে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছে। ইনু তো বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শাহবাগে উল্লাস করে নাগিন ড্যান্স দিয়েছে। মেনন বিপ্লবী সমাজতন্ত্র জাসদের নেতৃত্ব দিয়েছে। আর অপরদিকে খোন্দকার মোসতাক সহ বিভিন্ন চাটুকারদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রেই এমন নির্মম ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের দিন একে খন্দকার বিমান বাহিনীর প্রধান হয়েও কোন পদক্ষেপ নেয়নি অথচ পর্দার আড়ালে থাকা চাটুকার খলনায়ক পরবর্তীতে মন্ত্রী হয়েছেন। 
তবে আওয়ামী লীগের উচিত হবে অনতিবিলম্বে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রেক্ষাপট রচনাকারী ইনু-মেনন-মতিয়া গংদের বিচারের আওতায় আনা। খুব অবাক করার বিষয় যে, ইনু-মেনন বামরা বাংলাদেশে জনবিচ্ছিন্ন পরগাছা। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ, আলো বাতাস কখনই কোন কালে বামদের গ্রহণ করেনি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ তো নিজেই একাধিক বার বলেছেন, বাংলাদেশে ইনু মেননরা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা। এরা আবার এমপিও হয় আবার মন্ত্রীও হয়। 
এই ১৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগের শপথ নেওয়া উচিৎ মহান স্বাধীনতার অর্ধশত রজতজয়ন্তী উদযাপনের পূর্বেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী জাসদ - বাম- বিপ্লবী সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের বিচারের আওতায় আনা। তবেই বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।

২. ১৫ ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। ২০০ বছর বৃটিশ শাসিত ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৭ সালে এই দিনে। এই দুইশত বছর সাদা চামড়ার বৃটিশ বেনিয়াদের ভারত ছাড়তে বাধ্য করতে সিপাহী বিপ্লব, নীল বিদ্রোহ, বালাকোটে সাইয়েদ আহমদ বেরলভীর যুদ্ধ, শহীদ তিতুমীরের বাঁসেরকেল্লায় যুদ্ধ, হাজী শরীয়ত উল্লাহর সামাজিক আন্দোলন, কৃষক বিদ্রোহের মজনু শাহ, মাওলানা ফজলুর হক খয়রাবাদী, নবাব টিপু সুলতানের বিদ্রোহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলীর খেলাফত আন্দোলন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কংগ্রেসের স্বাধীনতা আন্দোলন। ভারতের স্বাধীনতার সাথে মিশে আছে মুসলমানদের রক্তের ইতিহাস। কেনইবা থাকবেনা? প্রায় এক হাজার বছর মুসলমানরা ভারত শাসন করেছে। তিলে তিলে ভারতকে সাজিয়েছে মুসলিম শাসকেরা। তাজমহল, শীষ মহল, কুতুব মিনার, লাল কেল্লা, টিপু সুলতানের প্রাসাদ, দিল্লি শাহী জামে মসজিদ সহ সবকিছুই মুসলিম শাসকদের করা। এসবই মুসলমানদের ভারত শাসনের এক হাজার বছরের ইতিহাস। ৭৫০ শতাব্দীতে মুহাম্মদ বীন কাসিম সিন্ধু বিজয়ের পর থেকে ১৭৫৭ সালে পলাশি ট্রাজেডির পূর্ব পর্যন্ত এই এক হাজার বছরের মুসলমানদের ভারত শাসন করেন। 

ফলে পরবর্তী দুইশত বছর বৃটিশদের শাসনামলে মুসলমানদেরই দায়িত্ব হয়ে পড়ে তাদের হারানো সাম্রাজ্য ফিরিয়ে আনা। যে প্রচেষ্টার দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের অধ্যায়ের ফসল হচ্ছে ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট। স্বাধীন হয় ভারত। ভারতের পতাকার ডিজাইনার ছিলেন এক মুসলিম নারী সুরাইয়া বদরুদ্দীন তায়াবাজী। ভারতে বৃটিশদের ছোড়ে ফেলা পতাকা লালকেল্লায় উড়ান শাহনেওয়াজ হোসেন। ভারতের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমাদের সাবেক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আশা করি ভারত সকল বৈচিত্র্যর মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।

৩. অত্যন্ত বেদনার সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ভারত এখন দিনে দিনে সকল জাতিগোষ্ঠীর রাষ্ট্র হওয়ার পরিবর্তে দিনে দিনে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। প্রায়শই গরু খাওয়া আর জয় শ্রী রাম নিয়ে মুসলিমদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। 
প্রথম ইস্যু গরু খাওয়া নিয়ে যদি বলি, ভারত হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তর গরু গোসত রপ্তানির দেশ এবং ভারতের গরু গোসত রপ্তানি কারক কশাই ইন্ডাস্ট্রির প্রথম ১০ টি কসাইখানার মালিক প্রায় সবাই হিন্দু। তবে কেন কোন কারণে এ নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হবে? 
দ্বিতীয়ত, খুব সবিনয়ে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জয় শ্রীমের সাথে ভারত স্বাধীনতার আন্দোলনের কোনই সম্পর্ক নেই। বরং ভারত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের যে শ্লোগানটি বেশি জনপ্রিয় ছিলো তা হলো " ইনকিলাব - জিন্দাবাদ "  তবে কেন জোর পূর্বক জয় শ্রীরাম শ্লোগান মানুষ মারার শ্লোগান হবে তা আধুনিক গণতান্ত্রিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কাছ থেকে আশা করা যায় না।  ১৫ ই আগষ্ট ভারতের শপথ হওয়া উচিত: ভারত হবে সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

৪.বার বার থমকে যাচ্ছি কাশ্মীর ইস্যুতে। হঠাৎ করেই মোদী সরকার কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল করে। খোদ ভারতীয় নোবেল শান্তি বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সহ জাতীয় বহু বুদ্ধিজীবী, বিরোধী সকল রাজনৈতিক ও সিভিল সোসাইটি এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবিসি নিউজ করেছে, ঈদের দিনেও কাশ্মীরে গুলি চালানো হয়েছে। জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি সহ পৃথিবীর অনেক জাতিগোষ্ঠী এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 
১৪ আগস্টের কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দ বাজারের কাশ্মীরী সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে নিউজ দেখলাম, "তবে কি কাশ্মীরী কলি হাতের মুঠোয় " কতটা জঘন্য চিন্তা থাকলে এমনটা হতে পারে। অবাক করার বিষয়, যেখানে কাশ্মীরী মর্যাদা হনন করা হলো সেখানে নাগাল্যান্ডে ভারত সরকার ১৪ ই আগস্ট আলাদা পতাকা দিলো। তবে কেন কাশ্মীর নিয়ে এমন আচরণ? অনতিবিলম্বে জাতিসংঘ ও ওআইসি’র তত্ত্বাবধানে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান করা উচিৎ। নতুবা এর পরিণতি হয়তবা এই উপমহাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তার বিঘ্নিত ঘটাবে। যা আমাদের কোনভাবেই কাম্য নয়। গণতন্ত্র ও শান্তি এবং বৈচিত্র্য মাঝে ঐক্য হোক এই উপমহাদেশের ভিত্তি।

৫. ১৫ আগস্ট বেগম জিয়া তার জন্ম দিন পালন করে থাকেন। আজ এই দিনে তিনি কারাগারে। তার  আইনজীবীরা বলছেন মামলার মেরিট যা তাতে কোনভাবেই কারাগারে থাকার কথা না। বিএনপি এখন ধ্বজভঙ্গ দলে পরিণত হয়েছে। তার পরিণতি হয়তবা ভাসানীর দলের মতো হতে পারে। ৮০ পার হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বাদ দিয়ে সৎ ও সাহসী নেতৃত্ব আনা উচিৎ। নতুবা তাদের এই সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে। যদিও মনে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরে আওয়ামী লীগ থাকবেনা কিন্তু সেই আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় আসছে। সুতরাং বিএনপিও হয়তবা ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী বিরোধী দলের বিকল্প নেই।

৬. ১৪ ই আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। যদিও ভারত পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বলতে গেলে একই দিন। ১৯৪৭ সালের মধ্যরাতে ভারত পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্র হয়। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা দিবস পালন করে। পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রভাবশালী মুসলিম দেশ হওয়াই নানা কারণে বিশ্ব ভূ রাজনীতিতে পাকিস্তানের গুরত্ব রয়েছে। তবে নানা কারণে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তানের জনগণের প্রতিও রইলো আন্তরিক অভিনন্দন। বলতে গেলে ১৪/১৫ আগস্ট কেবল ভারত বা পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস না বরং সেদিন একই সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়।

৭. বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিস্তার ক্রমশই মাথা চারা দিয়ে উঠছে। প্রতিনিয়তই বিশ্ব মজলুম মানবতার লাশের সংখ্যা বাড়ছে। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন, লিবিয়া, কাশ্মীর, রোহিঙ্গা সহ বিভিন্ন দেশে মানবতার আর্তনাদে পৃথিবীর আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে। জাতিসংঘ, ওআইসি সম্পূর্ণ ব্যর্থ সংস্থায় পরিণত। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ এখনও ক্ষুধার্থ। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ চিকিৎসা পায়না। বিশ্বের ৭০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করছে। এর মধ্যে আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদীর আগ্রাসনে পৃথিবীটা দিনে দিনে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। এখনই সময় বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, নতুন শান্তিময় পৃথিবী গড়ার শপথ নিয়ে বিপ্লবের রাজপথে শামিল হওয়া।

লেখক: কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক 

(মতামত কলামে প্রকাশিত মন্তব্য লেখকের একান্তই নিজস্ব, দেশসংবাদ এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক
 নেই)

দেশসংবাদ/এসএস

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft