ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ || ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ গ্রামীণফোনের ১০০ কোটি টাকা গ্রহণ করেনি বিটিআরসি ■ সমুদ্রের তীরে উঁচু স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না ■ সীমান্তে হত্যা বন্ধে বিএসএফের প্রতিশ্রুতি ■ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ‘অধিনায়ক মাশরাফি’র শেষ ■ সুপ্রিমকোর্ট বারের ভোটের তারিখ ঘোষণা ■ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ■ মাঝ আকাশে দুই বিমানের সংঘর্ষে নিহত ৪ ■ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এক আসামির জামিন ■ খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি রোববার ■ চীনে মৃত্যু আতঙ্ক, প্রাণ গেল আরও ১৩২ জনের ■ অভিবাসীদের ৫ বছরের ফ্যামিলি ভিসা দেবে কাতার ■ চলতি বছরেই কার্যকর হচ্ছে জিপিএ-৪
মোদির পাশেই ট্রাম্প, ইমরানের হুশিয়ারি
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Tuesday, 27 August, 2019 at 10:19 AM, Update: 27.08.2019 10:27:46 AM

মোদির পাশেই ট্রাম্প, ইমরানের হুশিয়ারি

মোদির পাশেই ট্রাম্প, ইমরানের হুশিয়ারি


কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় কোনো পক্ষ নয়, বরং ভারত-পাকিস্তানই দ্বিপাক্ষিকভাবে এর সমাধান করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথায় আশ্বস্ত বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিশ্বের কোনো দেশ এগিয়ে না এলেও পাকিস্তান কাশ্মীরিদের পক্ষে থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কাশ্মীর সংকটের শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে হুশিয়ার করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ফ্রান্সের বিয়ারিটজে ‘জি সেভেন’ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার বৈঠকে মিলিত হন ট্রাম্প ও মোদি। এরপর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সব সমস্যাই দ্বিপাক্ষিক। এখানে তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রকে ডেকে এনে আমরা কিছু করতে চাই না। সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান আসবে, আমরা নিশ্চিত।’

এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কাশ্মীর নিয়ে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী (মোদি) সত্যিই মনে করেন, তিনি কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলছে এবং আমার স্থির বিশ্বাস, তারা (ভারত ও পাকিস্তান) এমন কিছু করতে সক্ষম হবে, যা খুবই ভালো। আমি এখানে আছি, যদি তাদের আমাকে প্রয়োজন হয়। মোদি ও ইমরান খান উভয়ের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। কিন্তু আমি মনে করি, তারা নিজেরাই এ সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।’

‘জি সেভেন’ দলের সদস্য না হলেও সম্মেলনে আমন্ত্রিত অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হলেও সব বৈঠকেই প্রাধান্য পেয়েছে কাশ্মীর। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠকে উঠেছিল বিষয়টি। এতে পাকিস্তানের পক্ষে চীন থাকলেও ভারতের পাশে ছিল ফ্রান্স, রাশিয়া।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা রদ করার পরপরই বিষয়টি নিয়ে উচ্চকণ্ঠ পাকিস্তান। ডন নিউজ জানায়, ইসলামাবাদে সোমবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আবারও জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনে নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করেন।

ইমরান বলেন, তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন। অর্থনৈতিক নানা স্বার্থের কারণে বিশ্বের সব দেশ যদি কাশ্মীরিদের বিপক্ষে থাকে, তবে পাকিস্তান একাই তাদের পক্ষে লড়বে। এ সময় তিনি দুই দেশের হাতেই পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং এর ব্যবহার বিশ্বের মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে বলেও হুশিয়ার করেন।

মোদির সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত কাশ্মীরকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নেবে। নিজেকে ‘কাশ্মীরবাসীর মুক্তির দূত’ উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছি। আশা করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই কাশ্মীরিদের পক্ষে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি ভারত। সবকিছুর জন্য শুধু পাকিস্তানকে দায়ী করে গেছে। সন্ত্রাসে মদদ জোগানোর অভিযোগ তুলেছে।’

কাশ্মীর সিদ্ধান্তের জন্য বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) হিন্দুত্ববাদ আদর্শকেও দায়ী করেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করেছে ভারত সরকার। উপত্যকাকে ভেঙে দুই টুকরো করেছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কাও করেনি।

নিজেদের দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পরোয়া করেনি। মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরু কাশ্মীরবাসীকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে গিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানেরও পরিপন্থী। বিজেপি এবং আরএসএসের শুধু একটাই লক্ষ্য- হিন্দুস্তান শুধু হিন্দুদের। বাকিদের সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে থাকতে হবে।’

ইমরান আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী আরএসএস। মোদি পূর্ববর্তী সরকার তাদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা দেয়ায় মহাত্মা গান্ধীকেও খুন করেছিল ওরা। নেহরুর মৃত্যুর পর থেকেই ওদের বাড়াবাড়ি শুরু হয়, যা আগেভাগে আঁচ করতে পেরেছিলেন জিন্নাহ।

তাই পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্র গড়ার পথে এগিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনের আদর্শে বিশ্বাস করি আমরা। তাই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বিশ্বাস করি। আরএসএসের আদর্শ সম্পূর্ণ এর বিপরীত।’

দেশসংবাদ/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  মোদি   ট্রাম্প   ইমরান  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft