ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ || ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ পেঁয়াজ, লবণ ও চাল নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা রেহাই পাবে না ■ লবণকাণ্ডে ১৭ ব্যবসায়ীকে আটক, ১৮ জনকে জরিমানা ■ দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী ■ ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহত ১২ ■ পেঁয়াজের পর এবার লবন নিয়ে লংকাকাণ্ড চলছে ■ বাসচালকদের কর্মবিরতিতে চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা ■ ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ শাহাদাত ■ লিবিয়ায় বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে ■ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকদের ■ দাম কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের ■ রাঙ্গামাটিতে জেএসএস’র দু’গ্রুপের গোলাগুলি, নিহত ৩ ■ কুষ্টিয়ায় মা-ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার; মন্ত্রীর ডেটলাইন অতিক্রান্ত, হতাশ সংশ্লিষ্টরা
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Saturday, 31 August, 2019 at 1:54 PM, Update: 31.08.2019 6:29:16 PM

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার; মন্ত্রীর ডেটলাইন অতিক্রান্ত, হতাশ সংশ্লিষ্টরা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার; মন্ত্রীর ডেটলাইন অতিক্রান্ত, হতাশ সংশ্লিষ্টরা


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উম্মুক্ত হওয়ার ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এক বছরের যে ডেটলাইন দিয়েছিলেন আজ শনিবার শেষ হচ্ছে সেই সময়। মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির একটি অনুষ্ঠানে আগস্ট মাসের মধ্যেই শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়ে যাবে বলে মন্ত্রী (তখন প্রতিমন্ত্রী) আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তার এমন বক্তব্যে হতাশাগ্রস্ত হাজারো রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক এবং শ্রমিক পাঠানোয় সম্পৃক্ত সারা দেশের লাখো মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে ততই তারা হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। কারণ গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মাহাথির মোহাম্মদ সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশী শ্রমিক নেয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণাই আসেনি।

এ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দায়িত্ব নেয়ার পর পরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আর কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপর থেকে সেভাবেই দুই দেশে কার্যক্রম চলছে। তবে সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে দেশটির হিউম্যান রিসোর্স মিনিস্ট্রির পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক আমদানির ক্ষেত্রে আগের মতো আর ১০ রিক্রুটিং এজেন্সিকে মনোপলি ব্যবসা (সিন্ডিকেট) করতে দেয়া হবে না। আগের ‘জি টু জি প্লাস’ পদ্ধতিতেই কর্মী নিতে চাইলেও তারা এবার ‘মোর বিআরএ’ (বেশি সংখ্যক বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সি) পারটিসিপেশন চাচ্ছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া ওই চিঠিতে ‘মোর বিআরএ’ শব্দ উল্লেখ থাকার বিষয়ের সত্যতা জানাতে গতকাল শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহ: শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি এর কোন উত্তর দেননি।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার একজন সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্পর্কে বলেন, একটি মহল নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা এবার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে মনে হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের পরিস্থিতিকেই ঘোলাটে করতে নানাভাবে পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

এক বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার এখনো স্থগিত থাকার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্স মিনিস্ট্রি থেকে চলতি আগস্ট মাসের ৮ এবং ২৩ তারিখ দু’টি চিঠি মালয়েশিয়ায় আমাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে দেয়া হয়েছে। ওই দু’টি চিঠির এক জায়গায় শুধু বলা হয়েছে আমরা আগের মতো আর ১০ জনের (মনোপলি) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কোন শ্রমিক আর নেবো না। তবে আমরা চাচ্ছি এবার মোর বিআরএ (বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সিজ) সদস্য শ্রমবাজারে পার্টিসিপেশন করুক।

এখানে মোর বিআরএ সদস্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে জানতে চাইলে ওই বায়রা সদস্য বলেন, মালয়েশিয়া সরকার এখনো ‘ওপেন ফর অল’ অর্থাৎ সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেয়ার পক্ষে অটল। তবে তারা চাচ্ছে না এই মার্কেট খোলার পর কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা হোক। এ ক্ষেত্রে তারা ‘মোর’ বলতে ১০ এজেন্সির পরিবর্তে ৩০-৫০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে বুঝিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি চিঠিতে তারা আরেকটি বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিয়েছে। সেটি হচ্ছে অভিবাসন ব্যয়। আসলে এবার কত কম টাকার মধ্যে একজন শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে সে বিষয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে গ্যারান্টি চাচ্ছে।

বিদেশগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা করা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মেডিক্যাল সেন্টার নিবন্ধনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এখানে সবাইকে নিবন্ধনের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে মেডিক্যাল নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের চাওয়ার কিছু নেই। এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মালয়েশিয়ান সরকার। তবে এবার স্বচ্ছপ্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাবে এটি শতভাগ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে দুই দেশই। আর তা সম্পন্ন হলে শ্রমবাজার যেকোন সময় খুলে যাওয়ার ঘোষণা আসতে পারে।

অবশ্য এর আগেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান বলেছিলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে আমাদের দিক থেকে আমরা সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এখন আমরা মালয়েশিয়ার দিক থেকে অপেক্ষায় আছি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া সরকার সিনারফ্লাক্সের এসপিএএ সিস্টেম স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে শ্রমবাজারে বৈধভাবে কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সোর্স কান্ট্রিভুক্ত ১৪টি দেশ থেকেও কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়ার সরকার নতুন পদ্ধতিতে কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিলেও কোন পদ্ধতিতে দেশটিতে কর্মী যাবে সেটি এখনো তারা চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে এ নিয়ে দেশটির উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে ক্যাবিনেটে।

মালয়েশিয়া থেকে একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা একটি খবর শুনতে পাচ্ছি সেটি হচ্ছে এবার নতুন কৌশলে সিন্ডিকেট হতে যাচ্ছে। আর এই সিন্ডিকেটে বায়রাকে অন্তর্ভুক্ত করার পাঁয়তারা চলছে। যেমন বিদেশগামী শ্রমিকদের বহির্গমন ক্লিয়ারেন্সের যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি বায়রার ওপর ন্যস্ত করার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। এটা হলেই মনোপলি ব্যবসার দিকেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তবে অপর একজন সদস্য বলছেন, এবার মালয়েশিয়া সরকার যে প্রক্রিয়ায় লোক নিবে তাতে প্রতিটি শ্রমিক অল্প টাকায় যেতে পারবে এবং তারা যখন দেশে ফিরে আসবে তখন প্রত্যেক শ্রমিক ভালো পরিমাণ জমানো টাকা সাথে আনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কোন সুযোগ নেই।

দেশসংবাদ/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার   মন্ত্রীর ডেটলাইন   হতাশ  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft