ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ৭ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ফাইনালের আগে দুর্দান্ত জয় পেলো বাংলাদেশ ■ শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে ■ সেই জিকে শামীম ১০ দিনের রিমান্ডে ■ ভূতের আড্ডায় বাতি জ্বালিয়ে যা দেখলেন অভিযানকারী! ■ সব ধরনের মানুষের জন্য পার্ক ও মাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ■ খালেদাকে দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ■ যুবলীগের চেয়ারম্যান-সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি ■ সাত বডিগার্ডসহ যুবলীগ নেতা শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর ■ মিসরজুড়ে একনায়ক সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ■ ক্যাসিনো অভিযানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে ■ অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ■ রূপপুর বালিশকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নেন জিকে শামীম
সাহসী উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পেল আশুড়ার বিল
মোঃ জুলহাজুল কবীর নবাবগঞ্জ, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)
Published : Monday, 2 September, 2019 at 5:52 PM, Update: 02.09.2019 11:13:46 PM


নবাবগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মোঃ মশিউর রহমান যোগদান করেছেন ১২সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং।
নবাবগঞ্জের নাম শুনেছেন,কিন্তু দেখেননি। এই নবাবগঞ্জকে দেখতে গিয়ে নজরে পড়ে অপার সম্ভাবনাময় নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শালবন বিহার ও আশুড়ার বিল। মুগ্ধ না হয়ে পারেননি।

খোঁজ নিতে থাকেন শালবন আর বিলের সার্বিক অবস্থা। জানতে পারেন, সরকারী এই বিল অযত্নে অবহেলায় ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যেতে বসেছে। আরও জানতে পারেন, ঐ এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি ঐতিহ্যবাহী আশুড়ার বিলের অবৈধ দখল নিয়ে নিজের মত ব্যবহার করছে।

শুরু করেন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান। অবৈধ দখলদারমুক্ত হয় সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের সরকারী সম্পত্তি। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মশিউর রহমানের সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানায় স্থানীয় সাংসদ শিবলী সাদিক, রাজনৈতিক নেতা কর্মীসহ এলাকার বিশিষ্ট জন। পর্যায়ক্রমে পরবর্তীতে  নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানকে( শালবন বিহার) শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ঘোষনা করা হয়।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার শালবন বিহার ও আশুড়ার বিল। সব মিলিয়ে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান। দৃষ্টি নন্দন আশুড়ার বিলে ক্রোসড্যাম নির্মানের ফলে প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে,অতি আনন্দ আর বিজয়ের হাসি মাখা কন্ঠে জানালেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মশিউর রহমান।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মনমাতানো নান্দনিক দৃশ্য,  বর্ষা মৌসুমে দেশি প্রজাতির মাছ, হারিয়ে যাওয়া জাতীয় শাপলা ফুলের বিস্তার। এমন পরিবেশ মনমাতানো দৃশ্য ও আশুড়ার বিলের উপর আঁকাবাঁকা কাঠের পুল দর্শানার্থীর মন কেড়েছে। পুলের দু’পাশে বিশাল বন, বনের ভেতরে বসার জায়গা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা আর এত মানুষের ভীড় সব মিলে পর্যটকদের যেন মুগ্ধ করেছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মশিউর রহমান উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই বিলটির গুরুত্ব তুলে ধরতে নেন একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ। শাপলা ফুলের বংশ বিস্তারে ফুলের চারা রোপন আশুড়ার বিলের ধারে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা রোপন , জাতীয় উদ্যানের শাল গাছে পাখির অভয়াশ্রমের জন্য মাটির হাড়ি ঝুলিয়ে পাখির আবাসস্থানের ব্যবস্থা করণ ইত্যাদি।

পর্যটকেরা ঘুরে ফিরে দেখে এমন সুন্দর উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মশিউর রহমানকে সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানান।

একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারলেন, কোনোভাবে যদি বিলের পানি আটকানো সম্ভব হয় তবে, সরকারের রাজস্ব আয়সহ অত্র এলাকার কয়েক হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ জীবণ যাপনে কোনো অসুবিধা হবেনা। তাঁর সম্ভাবনার স্বপ্ন বাস্তব হতে চলেছে। আশুড়ার বিলে ক্রোসড্যাম নির্মান করা হয়েছে। এখন দৃষ্টি নন্দন আশুড়ার বিলে পানি যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। অনায়াসে দর্শনার্থীরা নৌকায় বসে প্রকৃতির অপরূপ মনকাড়া দৃশ্য উপভোগ করতে পারছেন।

পর্যটকদের সুবিধার্থে ও আধুনিকায়নে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। পর্যটকরা এখানে সারা বছর আসতে পারবেন। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দিনাজপুরের পক্ষ থেকে উন্নতমানের ল্যাট্নি , সহ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
ইউ,এন,ও  জানান, দৃষ্টি নন্দন আশুড়ার বিল ও শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানের উন্নয়নে এপর্যন্ত প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে, আরও ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসছে।

তিনি আশা করছেন, এই ৫০লক্ষ টাকা ব্যয় করলে দৃষ্টি নন্দন আশুড়ার বিলে বিদেশী পর্যটকরাও ভিড় জমাবে। তিনি আরও জানান, বরাদ্দ পাওয়া ৫০লক্ষ টাকা ব্যয়ের পর আরও প্রায় ১কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ও আশুড়ার বিল দেশ বিদেশের পর্যটন জগতে নাম্বার ওয়ান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। শুধু তাই নয়, আশুড়ার বিলের সৌন্দর্য হাজার হাজার কোটি টাকা আয়ের উৎস সৃষ্টি করবে।
 
দেশসংবাদ/এসকে

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft