ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ৪ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ মেরিন ড্রাইভ সড়কে দূর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত ■ অবৈধ ক্যাসিনো ছাড়াও খালেদের ছিল বিশেষ টর্চার সেল ■ ৭ দিনের রিমান্ডে যুবলীগের খালেদ ■ ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি ■ নজরদারিতে সম্রাট, শিগগিরই গ্রেফতার! ■ সব অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ■ যুবলীগ নেতা খালেদকে গুলশান থানায় হস্তান্তর ■ মার্কিন ড্রোন হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ৩০ ■ খুনি নূর চৌধুরীর অবস্থান প্রকাশে বাধা নেই ■ ক্যাসিনোর সাথে জড়িতদের নাম বলছেন যুবলীগ নেতা খালেদ ■ নারায়ণগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনকে গলা কেটে হত্যা ■ ২৬ জেলা জজসহ ৫৩ বিচারক বদলি
অভিবাদন কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা করতে হবে
মোঃ রাসেল আহম্মেদ, লিসবন (পর্তুগাল)
Published : Friday, 6 September, 2019 at 2:58 PM, Update: 06.09.2019 3:35:48 PM


ইউরোপের নয়টি দেশ সহ বিশ্বের প্রায় তেরটির মত দেশ এবং বেশ কিছু বড় বড় শহর ভ্রমন করে দেখলাম, মানুষজন তাদের প্রতিদিনের দৈনন্দিন জীবনে অন্যের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদার প্রতি যথেষ্ট যত্নবান। বিষয় গুলোর যেমন মৌলিক গুরুত্ব রয়েছে তার চেয়ে বেশি রয়েছে সামাজিক গুরুত্ব। সমাজে অভিবাদন মূলক এসব শব্দের চর্চার মাধ্যমে আমরা সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারি।

পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণ সবাই সবাইকে দিনের বিভিন্ন সময়ে অভিবাদন জানায় তাদের লোকাল ভাষায়। যেমন শুভ সকাল, বিকাল বা সন্ধ্যা ইত্যাদি। তাছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিন, নানান দিবস, ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের শুভেচ্ছা জানাতেও দেখি অহরহ। এতে করে পারষ্পরিক সম্পর্কের যেমন উন্নতি ঘটে তেমনি করে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়।

এসব অভিবাদন একে অন্যের সাথে সতস্ফুর্তভাবে আদান প্রদান করে। সকল বয়স, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই নিয়ম পালনের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছে এখানে। আর এগুলো এখানকার বাচ্চারা যখন তিন বছরে প্রথম স্কুল যায় তখন থেকে শিখানো হয়। যা সময়ের বিবর্তনে সামাজিক একটি শৃঙ্খলায় পরিনত হয়েছে।

আমাদের বাংলা ভাষায় ও এসব অভিবাদন মূলক শব্দ সমূহ রয়েছে। কিন্তু এখনো সার্বিক অর্থে আমরা এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ ঘটাতে পারিনি কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া। বিশেষায়িত কিছু পরিবেশ বা প্রতিষ্ঠানে আমরা এসমস্ত অভিবাদনের প্রয়োগ লক্ষ করি। কিন্তু এখনো সার্বজনীন ব্যবহারে অনেক পেছনে আমরা।

আমরা মনে করি এসব উচুঁ তলার মানুষের কাজ। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। আমরা যে কোন মানুষকে যে কোন সময় অভিবাদন ও শুভেচ্ছা জানাতে পারি। তাতে দুজনের মনোবল চাঙা হয়। পারম্পারিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বাড়ে এবং তাতে করে ব্যাক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি শৃঙ্খলা ও সম্বৃদ্ধি বয়ে আনে।

এক অপরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ও আমাদের যথেষ্ট অনীহা কাজ করে। আর প্রশংসা বা উৎসাহ দিতে বা করতে তো আমারা প্রায় ভুলেই গেছি! আমাদের গতানুগতিক ধারণা যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি মনে হয় ছোট হয়ে যাব! ভাল কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা অন্যকে এমন কাজ বেশী বেশী করতে উদ্দীপনা প্রদান করে। ফলে সমাজে ভাল কাজের চর্চা বেড়ে যায় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি শৃংখলার উন্নতি ঘটে।

পশ্চিমা দেশে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন কম হলেও একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও অন্যের অধিকারের প্রতি সকলে সচেতন। সবাই সবাইকে যথেষ্ট সহযোগিতা সহমর্মিতা ও উৎসাহ উদ্দীপনা প্রদান করে।

আমাদের দেশের অনেক কিছুর ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। এখন সময় হয়েছে একে অন্যকে উৎসাহ প্রদান করার। সমাজের সকল পর্যায়ে একে অপরকে অভিবাদন জানানো, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও প্রশংসা করতে শিখা। এসমস্ত বিষয় গুলো খুবই সাধারন কিন্তু এসবের ফলাফল হয় অসাধারণ। অথবা আমরা ধর্মিয় রীতি অনুযায়ী ও একে অন্যকে অভিবাদন এবং শুভেচ্ছা বা শুভ কামনা জানাতে পারি। মোটকথা হলো এসবের চর্চার মাধ্যমে একটি জয়জয়কার পরিবেশের সৃষ্টি করা যায়। যা একটি সুখী সমাজ গড়ার পরিপূরক হিসাবেও কাজ করে।

মোঃ রাসেল আহম্মেদ
শিক্ষার্থী নোভা বিশ্ববিদ্যালয়   
লিসবন, পর্তুগাল

দেশসংবাদ/এফএইচ/বি

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft