ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ১ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা ■ টি-টোয়েন্টিতেও আফগানদের কাছে হারলো বাংলাদেশ ■ ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ডিআইজির জামিন নাকচ ■ সৌদি তেল ক্ষেত্রে হামলা, যুদ্ধের হুমকি ইরানের ■ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ ■ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘ডিপ্লোম্যাট’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ■ ডেঙ্গু ধ্বংসে এবার ফাইনাল চিরুনি অভিযান ■ কমিশন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন জাবি উপাচার্য ■ ভিকারুননিসায় নতুন অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ান ■ এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন ■ ছাত্রলীগের দুর্নীতি চাপা দিতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ করা হয়েছে ■ চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেবে না ছাত্রলীগ
আইনের শাসন না থাকায় জনগণ ক্ষমতা ভোগ করতে পারছে না
দেশসংবাদ, ঢাকা :
Published : Saturday, 7 September, 2019 at 11:06 PM, Update: 08.09.2019 9:31:22 AM

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপসহীনভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, আইনের যথাযথ শাসন থাকলে জনগণ সব ক্ষমতা ভোগ করতে পারত। কোনো একক ব্যক্তি ক্ষমতা ভোগ করতে পারত না। আরেকবার চ্যালেঞ্জ নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। ১৬ আনা নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসন আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাচ্ছি। আইনের শাসনের অর্থ হল দেশে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। তাই আইনের নিরপেক্ষ কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণ ক্ষমতার মালিক এখানে দ্বিমত থাকতে পারে না। যারা জনগণ ক্ষমতার মালিক- এটা অস্বীকার করে তারা আমাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে।

ড. কামাল বলেন, 'সংবিধানের মূলনীতিকে কেন্দ্র করে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। '৭২-এর সংবিধানকে অনেকেই কাটছাঁট করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, জনগণের ঐক্যের কারণে আমরা এখনও রক্ষা করতে পেরেছি আমাদের সংবিধান'।

তিনি বলেন, 'শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনও পাইনি। পাইনি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতন্ত্রে বিরোধীদল ও বহুদল থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের সংবিধানের মূলনীতির ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে'।

ড. কামাল বলেন, 'দেশে সুশাসন নেই, আইনের শাসন নেই। তাই দেশে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গত ৫০ বছরে দেশের জনগণ সুশাসন পায়নি। তবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আজ ভোটাধিকার নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। সব আজ কলুষিত। তিনি গণফোরামের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শুধু ঐক্যবদ্ধ হলেই হবে না, ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমি নিজেও রাজপথে রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় কেবল বিরোধী দলে থাকলে, সরকারে গেলে তারা কায়েম করে স্বৈরতন্ত্র। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটা দল যাদের কোনো আত্মসমালোচনা নেই। শুধু আছে অন্যের অবদান অস্বীকার করা। অন্যকে তুচ্ছ করা। আর দোষারোপ করা। তারা বিরোধীদলে থাকলে চায় গণতন্ত্র, সরকারে থাকলে স্বৈরতন্ত্র। বিরোধীদলে থাকলে তত্ত্বাবধায়ক, সরকারে থাকলে দলীয় সরকার। বিরাধীদলে থাকলে ধর্মনিরপেক্ষ, সরকারে থাকলে মদিনা সনদ।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে আদর্শ কোনো বাধা হয় না যাদের, সেই দলের নামই আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারকে বিদায় করার কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাতে ভোট ডাকাতি করে গিনেস বুকে ঠাই নিয়েছে। আওয়ামী লীগ একটা বিপদজনক সরকার, তাদের বিদায় করতে হবে। কারণ দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গত ৪৮ বছরেও এমন শাসক ক্ষমতায় আসেনি। তিনি বলেন, এই সরকারের লজ্জা নেই, চোখের চামড়া নেই। এই সরকার জনগণের কোনো কাজেই আসবে না। তাই এই সরকার সরাতে কী করতে হবে- তা চূড়ান্ত করতে হবে। আমরা রাস্তায় নামিনি, জনগণ দেখছেন। ভবিষ্যতে বড় ঐক্য করে বড় সংগ্রামের রাস্তায় নামতে হবে।

গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে আমি রাজপথেই মরতে চাই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ড. কামাল হোসেন তার ওপরে জাতির অর্পিত দায়িত্ব অসমপূর্ণ রেখেছেন।

তিনি বলেন, আগামীতে রাজপথে ড. কামাল হোসেনকে নামতে হবে। রাজপথে প্রতি এক ঘণ্টা প্রয়োজনে আমরা দাঁড়িয়ে থাকব। তিনি বলেন, সরকার সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না ঠিকই। তাতে কি ড. কামাল হোসেনকে অবশ্যই রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে আসতে হবে। তিনি বলেন, পরে কী হবে জানি না। তবে রাজপথে মরতে চাই।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, এ সরকার হুমকি-ধামকি ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা ভাবছে এতে কাজ হবে। আসলে তারা জানে না তাদের অবস্থা কত খারাপ। তিনি বলেন, এভাবে আওয়ামী লীগ চলতে পারবে না। একদিন তাকে ক্ষমতা থেকে সরতেই হবে। তবে এদের সরাতে জনগণের সংগ্রাম দরকার। আওয়ামী লীগ জনগণের সংগ্রামকে ভয় পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আজকে জাতি হতাশ। এ হতাশার জন্য আওয়ামী লীগ একাই দায়ী নয়, গণফোরামের মঞ্চে যারা উপস্থিত আছেন এবং পূর্ব-পুরুষরা যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তারাও সমানভাবে দায়ী।

তিনি বলেন, ডাকসুর ভিপি হয়ে কোথাও যেতে পারি না। গ্রামে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্থা হতে হয়। নিরাপদ সড়ক চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়। যে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে '৯০-এর দশকে আন্দোলন করা হয়েছিল তারা আজ বিরোধী দলে। আজকে দেশে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার বলে কিছু নেই। এ সব থেকে রক্ষা পেতে হলে একইমঞ্চে এসে কথা বলতে হবে। একজন আরেকজনের ওপর কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসঙ্গে দেশের হয়ে কাজ করে যাওয়ার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে।

আলোচনা সভায় গণফোরামের নেতাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ড. রেজা কিবরিয়া, মেজর জেনারেল আমসাআ আমিন (অব.), মোশতাক আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দেশসংবাদ/এসআই

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft