ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ || ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ পেঁয়াজ, লবণ ও চাল নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা রেহাই পাবে না ■ লবণকাণ্ডে ১৭ ব্যবসায়ীকে আটক, ১৮ জনকে জরিমানা ■ দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী ■ ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহত ১২ ■ পেঁয়াজের পর এবার লবন নিয়ে লংকাকাণ্ড চলছে ■ বাসচালকদের কর্মবিরতিতে চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা ■ ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ শাহাদাত ■ লিবিয়ায় বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে ■ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকদের ■ দাম কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের ■ রাঙ্গামাটিতে জেএসএস’র দু’গ্রুপের গোলাগুলি, নিহত ৩ ■ কুষ্টিয়ায় মা-ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা
আত্মকথন ও সাতকাহন
হাসান আল বান্না :
Published : Sunday, 8 September, 2019 at 11:45 AM

আত্মকথন ও সাতকাহন

আত্মকথন ও সাতকাহন

১. আমি কবি নই তবে কাব্যিক ভূবনে আমার বিচরণ। অবসর অথবা ব্যস্ততায় সকল সময়ে আমার কমদামি কলম দিয়ে কাঁচা হাতে কল্পনা ও ভাবনাগুলো অঙ্কন করি। কখনও তা হয়ে যায় কবিতা কখনও তা হয়ে যায় সমাজ, রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের সীমানা পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক কোন ইস্যুর বিশ্লেষণ। আমার বক্তব্য বা ভাবনাগুলো একান্তই আমার নিজের। ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেয়া লেখাগুলো ঢাকা ও কলকাতার কিছু সাংবাদিক বন্ধুরা বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশ করে থাকেন। মাঝে মধ্যেই ধরিয়ে দেন ছোট একটি খাম। ছোট খামটির ভিতর অংকটা খুবই ছোট তারপরেও তৃপ্তিটা অনেক বেশি। জীবনের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম সাংবাদিকতা দিয়ে। পড়াশোনা করেছি আইনে। কিন্তু প্রফেশন হচ্ছে কর্পোরেট ভুবনের সামান্য উদ্যোক্তা। তবে লেখালেখি আমার প্রতিটা শিরা-পশিরায়। এ আমার বিনোদন, মন খারাপের সমাধান। আমার ভালোলাগা আমার আরাধনা!  প্রিয়তমার দুঃখ ভুলানো, দূর্বিসহ সব স্মৃতি মুছে ফেলা, অজান্তে চোখের জল মুছা, বেদনার পাহাড় কবর দেয়া, বিষাদের প্রাসাদ উপড়ে ফেলা আর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার মাধ্যম আমার এই কমদামী কলমের কাঁচা হাতের লেখনী। কোন প্রতিকূলতা এই কলমকে থামানো যায় না। বরং সব ধরনের প্রতিকূলতা হচ্ছে কলমের কালির উপাদান। লিখে যেতে চাই পৃথিবীতে যতটা সময় নিঃশ্বাস নিতে পারি। 

২. হঠাৎ নতুন করে আলোচনায় এসেছে রোহিঙ্গা ইস্যু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের স্থান দিয়ে অনেক উদারতা ও মহানুভবতা দেখিয়েছেন। তবে এ ইস্যু আজীবন চলতে পারেনা। যতদ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে পূর্ণ নাগরিকত্ব আর স্থায়ী নিরাপত্তা দিয়ে পাঠাতে হবে। কিন্তু এই অসাধ্য কাজটি করবে কে? প্রায় অর্ধকোটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আজ সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রহীন। বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে মানুষের জন্য সৃষ্ট এই পৃথিবীর ঠিকানাহীন ও উদ্বাস্তু হয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিটি শিশু জন্মগ্রহণ করছে।
এখানে আসল সমস্যা চীন। মিয়ানমার হচ্ছে ভারতের সিকিম এর মতোই চীনের অঙ্গরাজ্য রাষ্ট্রের নাম। সিকিমের লেন্দুপ দর্জির মতোই বিশ্বাসঘাতক চীনের পা চাটা গোলাম হচ্ছে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও অংসাং সূচী। চীন তার বিনিয়োগ এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা ঘেষা রোহিঙ্গাদের ভূমি আরাকান রাজ্যকে দখল রাখতে বাণিজ্যিক নগরী নামে সামরিক কলোনি স্থাপন করতে চায়। চীনের এই সূদুর প্রসারী পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে বাংলাদেশ-ভারত-আমেরিকা সহ আন্তর্জাতিক সকল সংস্থার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। আমি আরো অবাক হয়ে যাই, আরাকান ও রোহিঙ্গা সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, এটা ভারতের নিরাপত্তার জন্যও ভবিষ্যতে হুমকির কারণ হবে। কিন্তু এখানে ভারত এমন ভাব করছে মনে হয় তার কিছুই হয়নি। আসলে তারা সামান্য এই ভৌগোলিক কূটনৈতিক সমস্যা বুঝতে পারছেনা নাকি চীনকে ভয় পায় বলেই টু শব্দ করছেনা?  বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক সকল শক্তি নিয়োগ করে রোহিঙ্গা ইস্যুর স্থায়ী সমাধান করতে হবে। শুধু শুধু রোহিঙ্গাদের জোর করে তাড়িয়ে দেয়া কোনভাবেই স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা। প্রয়োজনে স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ডাক দিতে হবে।

৩. ভারতের আসামে এনআরসি চলছে। বাংলাদেশী হিসেবে চিহ্নিত করে আসামে নাগরিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।  প্রথমে এই তালিকা  ৪০  লাখ ছিল। সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় তা ১৯ লাখ। প্রথমে অভিযোগ ছিল বাংলাদেশী মুসলিমরা আসামে পালিয়ে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় ১৯ লাখ বাদ যাওয়া নাগরিকদের মাঝে মাত্র প্রায় ৩ লাখ মুসলিম বাকি সব হিন্দু। শুনলে হাসি পায়, বাংলাদেশের মুসলমানরা কেন কি কারণে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিবে? এটা রীতিমতো হাস্যকর। যদি আমরা অভিযোগ করে বলি, ভারতীয় হিন্দুরা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে এটা যেমন অস্বাভাবিক ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মুসলমানরা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়াটা অবাস্তব ও হাস্যকর।  
এখন তো সম্পূর্ণভাবে বুমেরাং হয়ে গেলো। বাংলাদেশের মুসলমানদের খোঁজতে এনআরসি করা হলো উল্টো হিন্দুরাই তাদের নাগরিকত্ব থেকে বাদ হলো যার সংখ্যা বাদ যাওয়াদের ৮০ ভাগ। ভারত যাই করুক, আমরা সুস্পষ্ট বলতে চাই বাংলাদেশের সীমান্তে আসামের কাউকে ভিসা ও পাসপোর্ট ব্যতীত প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা এটাই শেষ কথা। এ বিষয়ে আমাদের সকল রাজনৈতিক দল ও ১৮ কোটি মানুষ একমত। ৭১ এর অস্র আমাদের সীমান্তে তাক লাগানো থাকবে। 

৪. কালে কালে বহু বেলা পেড়িয়ে গেল কাশ্মীর সমাধান হয়নি। আজ মাস অধিক হলো কাশ্মীর অবরুদ্ধ।  ক্ষুধা, চিকিৎসাহীনতা আর নিরাপত্তা সংকট নিয়ে কাশ্মীরী জনগণকে রাত পোহাতে হয়। তাদের দিন আর রাত এখন সমান। বিশ্ব নিরব! তবে কি এভাবেই অবরুদ্ধ কাশ্মীরকে না খেয়ে ও চিকিৎসাহীনতায় মৃত্যুর দিকে এগুতে হবে। সেখানে কি হচ্ছে বিশ্ব কিছুই জানেনা। অবরুদ্ধ কাশ্মীরকে উদ্ধার করতে যারা নিরব ভবিষ্যৎ পৃথিবী তাদের ক্ষমা করবেনা। একসময় বৃটেন আমেরিকা শাসন করেছে আজ বৃটেন আমেরিকার পা চাটা গোলাম। এমনটাই হয়। শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা... 

৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত কথিত ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ওয়াজের নামে নানা রং-ঢং ভাইরাল হয়েছে। এই তাহেরীর ওয়াজ শুনলে দু’টি বিষয় প্রতীয়মান হয়। 

ক. ইসলাম সম্পর্কে তাহেরীর খুব বেশি জ্ঞান নেই।
খ. কিছু রং ঢং করে আলোচিত হওয়ার চেষ্টা। 

গিয়াস উদ্দিন তাহেরী তার ওয়াজে যে ধরনের অশ্লীল শব্দ জোঁকার স্টাইলে প্রকাশ করেন তা রীতিমতো ইসলাম অবমাননা পর্যায় পরে। এর মূল কারণ হিসেবে আমি কয়েকজন সম্মানিত আলেমদের সাথে কথা বলেছি তাদের ভাষায়, গিয়াস উদ্দিন তাহেরী যে মতাদর্শ ধারন করে তা হলো মাজার পূজা। যা শিরক ও বিদআতের পর্যায় পরে। বাংলাদেশের মূল ধারার আলেম সমাজের সাথে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীদের কোন সম্পর্ক নেই। বিশেষ করে আকাবায়ে দেওবন্দ, কাওমী, তাবলীগ ও আহলে হাদিস সহ মূল ধারার আলেম সমাজ সবাই একযোগে গিয়াসউদ্দিন তাহেরীদের ভণ্ড ও বিদআতি মনে করে থাকেন। আমার মনে হয় গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মাদকাসক্ত কিনা সেটা মেডিকেল টেস্ট করা দরকার, কারণ তাহেরী যে সব অশ্লীল ও অসংলগ্ন কথাবার্তা এবং রংঢং করে থাকে তা কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব না। তাহেরীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা জরুরি। 

৬. বাংলাদেশের চামড়া শিল্প রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় খাত। দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রে এই শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দেশি গোবাদী খামার ধ্বংসের। বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় গোশতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু নতুন করে ভারত থেকে গোশত আমদানি বাংলাদেশের গোশত উৎপাদনের খামারিদের ধ্বংস করা হবে। বাংলাদেশে সবধরনের গোশত আমাদানি নিষিদ্ধ করা হোক। নয়তো আমার দেশের কৃষক ও খামারে সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৪ কোটি মানুষ নিঃস্ব হবে। 
অন্যদিকে আমার বিদেশ থেকে বিদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে গোশত আমদানির সুযোগের শর্ত দেয়া হলে সেটি আমাদের দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। কারণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করে অর্জিত মুদ্রার বড় অংশ এর কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় হয়। অন্যদিকে দেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টরে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত অর্থনীতির চক্রাকারে যা কিছু ঘটে তার পুরোটাই দেশের বিভিন্ন শিল্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, যার সামষ্টিক অর্থনীতি তৈরি পোশাক শিল্পের থেকে অনেক বড়। খামারের সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের জীবন জীবিকা সরাসরি নির্ভরশীল। তাছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে গোশত উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে জনপ্রতি গোশত উৎপাদন ছিল ১১ দশমিক ৬০ গ্রাম, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ গ্রাম।

৭. একটি অব্যক্ত দ্বীর্ঘশ্বাস!!  
এ কেমন জীবন যার মৃত্যু হয়?  
এ কেমন যৌবন যার বার্ধক্য আসে?  
এ কেমন সুস্থতা যার অসুস্থতা আসে?  
এ কেমন দিন যার রাত হলেই অন্ধকার?  
এ কেমন আলো যার অন্ধকার এলেই কালো?  
এ কেমন সুখ বেদনায় যা ম্লান হয়?  
এ কেমন আনন্দ কষ্টে যা বিষাদ হয়?  
এ কেমন কবিতা যা সোজা হলেই গদ্য হয়?  
আসলে সবই গোলকধাঁধা! বেলাশেষে সবই শুন্য!  
হারানো কবিতা তুমিও কি সেই প্রিয়তমা?  
যে হারিয়ে যায়...!

লেখক : কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক 

দেশসংবাদ/এসএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  কবি   কবিতা   রোহিঙ্গা   কাশ্মীর   তাহেরী   সাংবাদিক  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft