ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ১ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা ■ টি-টোয়েন্টিতেও আফগানদের কাছে হারলো বাংলাদেশ ■ ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ডিআইজির জামিন নাকচ ■ সৌদি তেল ক্ষেত্রে হামলা, যুদ্ধের হুমকি ইরানের ■ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ ■ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘ডিপ্লোম্যাট’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ■ ডেঙ্গু ধ্বংসে এবার ফাইনাল চিরুনি অভিযান ■ কমিশন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন জাবি উপাচার্য ■ ভিকারুননিসায় নতুন অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ান ■ এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন ■ ছাত্রলীগের দুর্নীতি চাপা দিতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ করা হয়েছে ■ চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেবে না ছাত্রলীগ
বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধিতে বিপাকে আদমদীঘির মৎস্য খামারিরা
সাগর খান, আদমদীঘি (বগুড়া)
Published : Monday, 9 September, 2019 at 12:43 PM, Update: 09.09.2019 12:46:39 PM

কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুনের ও বেশি বৃদ্ধি করায় চরম বিপাকে পড়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার প্রায় অর্ধশত মৎস্য হ্যাচারী মালিক। গত এপ্রির মাস থেকে মৎস্য খামারে বিদ্যুতের এই মুল্য বৃদ্ধি করেছে নেসকো। মৎস্য খামারে আকস্মিক মুল্য বৃদ্ধির কারনে উপজেলার মৎস্য ব্যবসায় নীতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে মৎস্য খামারিরা।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট বড় মিলে মৎস্য খামারের সংখ্যা প্রায় ৫০টি। হাচারীর পাশাপাশি উপজেলায় রয়েছে সহরাধিক ছোট বড় পুকুর। এই উপজেলায় মাছ চাষের সাথে জড়িত রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।  পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষের জন্য আদমদীঘি উপজেলা বিখ্যাত। এ উপজেলার মৎস্য চাষিরা একাধিকবার জাতীয় পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। এখানকার উৎপাদিত বিভিন্ন মাছের পোনা  এলাকার চাহিদা পুরুন করে দেশে ও বিদেশে রপ্তানী হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে।

প্রতিটি মৎস্য খামারে শ্রমিকের কাজ করার পাশাপাশি মাছ বিক্রি করে উপজেলার অনেক বেকার মানুষ এখন স্বাবলম্বি। শুধু সাধারন মানুষ নয় এ উপজেলার রাজনৈতিক নেতারা প্রত্যেকে মাছ চাষের সাথে জড়িত। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে উপজেলা হ্যাচারী মালিক সমিতির সভাপতি। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মহিত তালুকদারের রয়েছে প্রায় ৪৫ একর জমির ওপর  মৎস্য খামার । এ ছাড়া বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফি আহমেদ ও বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের ও রয়েছে একাধিক হ্যাচারী। তাঁরা দুজনই মৎস্য চাষে সফলতার স্বীকৃতিস্বরুপ পেয়েছেন জাতীয় মৎস্য পুরস্কার ও স্বর্ণপদক। এখানকার হ্যাচারীতে মুলত পাঙাস, থাই কৈ, মনোসিস তেলাপিয়া,কার্পিও, গুলসা,শিং,পাবদার পাশাপশি রুই,কাতলা,মৃগেল মাছের পোনা উৎপাদন হয়ে থাকে। পোনা মাছের সাথে উৎপাদন হয় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ। জিএম  মৎস্য খামারের মালিক আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, উপজেলার মৎস্য চাষকে ঘিরে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

হঠাৎ করে হ্যাচারী শিল্পে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করায় হ্যাচারী মালিক’সহ এর সাথে জড়িত বিপুল পরিমান মানুষ ক্ষত্রিগ্রস্থ হবে । তিনি বলেন, এর আগে এ শিল্পের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মুল্য ছিল চার টাকা,গত চার মাস থেকে নেসকো কর্তৃপক্ষ তা বৃদ্ধি করে ১০ টাকা করে। বর্তমানে এই মুল্য সামান্য কমিয়ে ৮ টাকা করা হয়েছে। এরপরও হ্যাচারী মালিকদের দ্বিগুন মুল্যে বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে। যা সকলের জন্য অত্যান্ত কষ্টকর। অপর হ্যাচারী মালিক বেলাল হোসেন বলেন, এ ভাবে এ শিল্পে বিদ্যুতের মুল্য বৃদ্ধি করা হলে অনেক হ্যাচারী বন্ধ হয়ে যাবে, কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রচুর শ্রমিক।

উপজেলা হ্যাচাারী মালিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, মাছ চাষ কৃষির আওতায় পড়ে সে কারনে হ্যাচারীর জন্য বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা উচিত । তিনি সরকারের প্রতি বিষয়টি বিবেচনা করার দাবি জানান। নেসকো বগুড়ার সান্তাহার বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রেজানুর ইসলাম বলেন, এটি সরকারি সিদ্ধান্ত তবে এর আগে যে পরিমান বিল বেশী করা হয়েছিল তা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হবে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft