ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ১ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা ■ টি-টোয়েন্টিতেও আফগানদের কাছে হারলো বাংলাদেশ ■ ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ডিআইজির জামিন নাকচ ■ সৌদি তেল ক্ষেত্রে হামলা, যুদ্ধের হুমকি ইরানের ■ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ ■ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘ডিপ্লোম্যাট’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ■ ডেঙ্গু ধ্বংসে এবার ফাইনাল চিরুনি অভিযান ■ কমিশন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন জাবি উপাচার্য ■ ভিকারুননিসায় নতুন অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ান ■ এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন ■ ছাত্রলীগের দুর্নীতি চাপা দিতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ করা হয়েছে ■ চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেবে না ছাত্রলীগ
নন্দীগ্রামে ২০ শয্যা হাসপাতাল নামেই
মো: ফিরোজ কামাল ফারুক, নন্দীগ্রাম (বগুড়া)
Published : Monday, 9 September, 2019 at 2:09 PM

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ২০ শয্যা হাসপাতাল শুধু নামেই রয়েছে। ওটিসহ মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম দেড়যুগ আগে উদ্বোধনের সময় যেভাবে আনা হয়েছিল, এখন সেভাবেই রয়েছে। ধুলাবালির স্তুপ পড়েছে সেগুলোর ওপর। নেই কোনো নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু নিয়োগপ্রাপ্ত ফার্মাসিষ্ট ও প্রেষণে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে বহিবিভাগ।

হাসপাতালটি নির্মাণে সরকারের সাড়ে তিন কোটির বেশী টাকা খরচ হলেও চালু না হওয়ায় তা এলাকাবাসির কোন কাজে আসছেনা। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমেছে। ঘুনপোঁকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা জানালার কপাট।

সরেজমিনে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম ৩১ শর্য্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান ৯ কিলোমিটার দুরে বিজরুল বাজারে। উপজেলা সদরে কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় পৌর শহরসহ আশেপাশের বিপুল সংখ্যাক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং শিশুরা বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছিল। এ কারণে উপজেলা সদরে একটি আধুনিক মানের হাসপাতাল নির্মানের দাবি তোলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থবছরে বিগত বিএনপি সরকার আমলে উপজেলা সদরে ২০ শর্য্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ববধানে (নির্মাণ ও রক্ষাবেক্ষন ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ সহ আনুসাঙ্গিক খাতে ব্যায় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০০২ সালে তৎকালীন সরকারের খালেদা জিয়ার জ্যোষ্ঠপুত্র তারেক রহমান হাসপাতালটির ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন এবং নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

২০০৫ সালে এর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার  শেষ মুহুর্তে তড়িঘরি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন সাংসদ ডা: জিয়াউল হক মোল্লা। এরপর দীর্ঘ দেড় যুগেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাস জুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন গাছ-জঙ্গল গজিয়েছে। এর ফলে আবাসিক ভবনগুলো নষ্ঠ হতে চলেছে।

সুত্র জানায়, ২০ শর্য্যার অত্যাধুনিক এ হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকা, চিকিৎসা সহকারি, ঔষধবিদ, ওয়ার্ডবয়, অফিস সহকারি, ল্যাব এটেনডেন্টসহ ১৩ জনের পদ রয়েছে। ২০০৮ সালে চিকিৎসক ছাড়া অন্যান্য পদে ৬ কর্মচারিকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় ব্যবস্থপনায় হাসপাতালটির বর্হি বিভাগ চালু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। অল্প দিনের মাথায় ঔষদবিদ ছাড়া অন্যরা অন্যত্র চলে যায়।

গতকাল সরেজমিনে নন্দীগ্রাম ২০ শর্য্যার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রধান ফটক ও ষ্টোর রুম ছাড়া সব কক্ষে তালা ঝুলছে। হাসপাতালের একটি কক্ষে চলছে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আদলে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার উম্মে হাসনা বানু জানান, সে এখানকার নিয়োগ প্রাপ্ত নয়। পাশ্ববর্তী ভাটগ্রাম ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে প্রেষণে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার জন্য এখানে তাকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন এখানে ‘প্রতিদিন এখানে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া রোগীদের কোন সেবা দেওয়া যায়না।

চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার রিধইল গ্রামের জাহানারা বেগম বলেন,‘গরীব মানুষ টেকার অভাবে বগুড়া যাবার পারিচ্চি না। ঔষধ কিনবার পারিচ্চি না। হার্টেও অসুখ লিয়ে এটি অ্যানো, সাদা সাদা বড়ি ছাড়া কিছুই দিলনা’।

জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, ‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতেই জনবল নিয়োগ না দিয়ে বিগত সরকার আমলে তড়িঘরি করে এ হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর চিকিৎসা সেবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি পুনাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া দরকার’।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা : তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, ‘জনবলের অভাবে ওই হাসপাতালটি পূনাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছে না। জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে’। এখনো সরকারিভাবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালু করার বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি। তারা একটি নিরিক্ষা কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন পাঠাবে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে তারা হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft