ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ৫ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ৭ দেহরক্ষীসহ যুবলীগ নেতা শামীম আটক ■ ক্যাসিনো খালেদকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার ■ ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে হত্যা করলো বিএসএফ ■ সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন ■ ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছিল বিএনপি ■ ৭ দিনের রিমান্ডে যুবলীগের খালেদ ■ নজরদারিতে সম্রাট, শিগগিরই গ্রেফতার! ■ সব অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ■ যুবলীগ নেতা খালেদকে গুলশান থানায় হস্তান্তর ■ মার্কিন ড্রোন হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ৩০ ■ খুনি নূর চৌধুরীর অবস্থান প্রকাশে বাধা নেই ■ ক্যাসিনোর সাথে জড়িতদের নাম বলছেন যুবলীগ নেতা খালেদ
প্রসঙ্গ : প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, হ্যামীলিন
হাসান আল বান্না :
Published : Thursday, 12 September, 2019 at 8:34 AM

এক : দুবাইয়ের সারজা এয়ারপোর্টে বসে আছি এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইট ধরতে। বছর দেড়েক আগে হবে। ফুড কর্ণারের খাবার কিনে বিল পে করতেই বুঝলাম ম্যানেজার বাংলা ভাষী। আচমকা আমার দিকে তাকিয়ে প্রথমে বাঙ্গালী হিসেবে এরপর চেনাচেনা ভাব থেকে। সরাসরি নাম জানতেই হুট করে বলে উঠলেন ওহ! হ্যামীলিন স্রষ্টা? আমিও ভদ্রলোকের অবাক বিস্ময়ে পরিচয় জানতে চাইলাম, জানলাম বাড়ি ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বারাসাতে। প্রবাসে চাকরি করে দিনে ৭ ঘণ্টা ডিউটি। বাকী সময় দেশের খবর জানতে সবসময়ই অনলাইনে ডুবে থাকে নিজের একাকিত্ব দূর করতে। যা হোক ভদ্রলোক আমাকে হ্যামীলিন স্রষ্টা বলার কারণ! বছর দুয়েক আগে, প্রত্যাশার হ্যামীলিন: বিরহের সুর বাঁশিওয়ালার’ শিরোনামে একটা লিখা লিখেছিলাম। যেখানে বিখ্যাত হ্যামীলিন শহরের গল্পটির নতুন রূপ দিয়েছিলাম। লিখাটি বাংলাদেশের কয়েকটি জার্নালে প্রকাশের পাশাপাশি কলকাতার এক জনপ্রিয় জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছিল। যার পাঠক ভারতের প্রায় দেড় কোটি। কলকাতার ধর্মতলায় বই মেলায় নিয়মিত যাতায়াত আমার। সেখানে অনেক সাংবাদিক ও কবি সুহৃদ বন্ধুদের সাথে আড্ডা হয়। তারা আমাকে সেই থেকে হ্যামীলিন স্রষ্টা হিসেবেই ডাকে। 
যদিও ভারতে যাতায়াত আমার কর্পোরেট ট্যুর, তবুও পকেটে কমদামি কলম আর কাঁচা হাতের কবিতা এবং লিখালিখির টানে ছুটে যাই পত্রিকার অফিস, কবি সাংবাদিকদের আড্ডা খানায়। একবার আমাদের অফিসের একজন স্টাফকে নিয়ে কলকাতার আড্ডায় ক’জন সাংবাদিক, কবি বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে সে বলে উঠলো,  স্যার আপনাকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম। যদিও কবিতা, কাব্যিক ভূবন, কম দামি কলম আর সাংবাদিকতা আমার প্রফেশন নয়।

দুই: ক’দিন আগে জনপ্রিয় শিল্পী এন্ডু কিশোর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা পেলেন। এ নিয়ে কিছুটা বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ শরীফ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৩৫ লাখ টাকা এবং এটিএম শামসুজ্জামান নিয়েছেন সম্ভবত ২০ লাখ টাকা।  এছাড়া প্রায়ই প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেশের নামি দাবি বিখ্যাত শিল্পী, অভিনেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক সহ অনেক জৌলুস ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা নিয়েছেন।  

প্রশ্ন হলো দুটি : 
ক. প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে কারা কেন কিভাবে বা কোন প্রক্রিয়াই ত্রাণ পেয়ে থাকেন?  
খ. এমন সব বিখ্যাত ব্যক্তি বর্গের নাম শুনি যাদের গাড়ি, বাড়ি আছে!  উচ্চ অভ্যাসে জীবন ধারণ করে অভ্যস্থ!  যাদের প্রফেসন ও আয়ের উৎস রয়েছে!  যারা ক্যারিয়ারের দ্বীর্ঘতম পথ পাড়ি দিয়ে সুউচ্চ মসনদে আসীন!  সে সকল ব্যক্তিরা যখন নির্বিঘ্নে ত্রাণ তহবিল থেকে নিয়ে বীরের মতো নির্লজ্বের মতো জাতির সামনে জাহির হোন তখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ত্রাণ নেওয়া কি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে?  

আমার মনে পড়ে, আমার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দুটোই পুরান ঢাকায়! ফলে পুরান ঢাকায় আমার শৈশবের অনেক বন্ধু রয়েছে। পুরান ঢাকার বিখ্যাত নারিন্দায় দুটি বিখ্যাত পীরের দরবার, একজন শাহ শাহেব বাড়ি অপরজন পীর সাহেব বাড়ি। পীর সাহেব বাড়ি দরবারে প্রতি বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল ও পীরের আখেরী মোনাজাত হতো। এবং সবশেষে বিরিয়ানি ভোজের মাধ্যমে সাপ্তাহিক মজমার সমাপ্তি হতো। আমার দুএকজন সহপাঠী বন্ধু প্রতি বৃহস্পতিবার সেই পীর সাহেব বাড়ির সাপ্তাহিক মজমায় যেতো তাদের পরিবারের বাবা ভাইসহ। মাঝে মধ্যেই জোর করে আমাকেও নিতো।  আমিও বন্ধুদের অনুরোধে ঢেকি গিলতে গিয়ে সেই মজমায় কালে ভদ্রে অংশ নিতাম। 
যে কারণে বলা, পীর সাহেব বাড়ির সেই অনুষ্ঠানে আমি প্রায়ই দেখতাম জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ,  মিশা সওদাগর ও ইলিয়াস কাঞ্চনকে। খুবই উৎসুক মনে কখনও এটিএম শামসুজ্জামানের সাথে বসতাম এবং খেতাম। তো দেখতাম এই বিখ্যাত শিল্পীরা মাগরীবের কিছু সময় আগে আসতেন বিশাল গাড়ি হাঁকিয়ে।  সাথে দুই তিনজন পাইক পেয়াদাও ছিল। এটিএম শামসুজ্জামানের বাড়ি পুরান ঢাকাতেই কিন্তু সেই এটিএম শামসুজ্জামান ক্যারিয়ারের স্বর্ণশিখরে অবস্থান করে গাড়ি বাড়ি হাঁকিয়ে যখন তিনিও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অনুদান নেন তখন বলতেই হয় এটা ফ্যাশনের অংশ।  সারাজীবন নাটক সিনেমায় মানুষকে হাসিয়ে এখন অনুদান নিয়ে এটিএম শামসুজ্জামান নিজেই হাসির খোঁড়াক হয়েছেন। 

কিন্তু আর কতো ?  
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তবা অনেক উদার তাই তিনি ধাপাধাপ উচ্চ ধনাঢ্য গুণীদের ত্রাণ দিচ্ছেন মহান ত্রাণকর্তা হিসেবে। তবে এভাবে চলতে পারেনা। যে দেশের মানুষ উল্লেখ্যযোগ্য অংশ দারিদ্র্য সীমার নীচে,  চিকিৎসাহীনতায় করুন ও নির্মম মৃত্যু হয়, সেখানে এমনটা হওয়াটা অস্বাভাবিক। ক্যারিয়ার শুরুটা সাংবাদিকতা দিয়ে হওয়াই প্রেস ক্লাব ছিলো নিয়মিত আড্ডার জায়গা। ওয়ানি-ইলেভেনের সময় ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দীনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বিপ্লবে ঢাকার রাজপথ যখন কাঁপছিল তখন বিরোধী ও সরকারি সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ, সৌজন্যে বিনিময় সুযোগ ও কারো সাথে রয়েছে একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক। ফলে বুঝতে পারি রাজনীতিকরা উদার হন, তবে ত্রাণ বা অনুদান পাওয়া ব্যক্তি নির্ধারণে মানুষের পারসেপশনের কথা মনে রাখা ভালো।  

লেখক : কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

(মতামত কলামে লেখা মন্তব্য প্রতিবেদন লেখকের একান্ত নিজস্ব, দেশসংবাদের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই)

দেশসংবাদ/এসএস

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft