ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ || ৬ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ফাইনালের আগে দুর্দান্ত জয় পেলো বাংলাদেশ ■ শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে ■ সেই জিকে শামীম ১০ দিনের রিমান্ডে ■ ভূতের আড্ডায় বাতি জ্বালিয়ে যা দেখলেন অভিযানকারী! ■ সব ধরনের মানুষের জন্য পার্ক ও মাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ■ খালেদাকে দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ■ যুবলীগের চেয়ারম্যান-সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি ■ সাত বডিগার্ডসহ যুবলীগ নেতা শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর ■ মিসরজুড়ে একনায়ক সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ■ ক্যাসিনো অভিযানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে ■ অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ■ রূপপুর বালিশকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নেন জিকে শামীম
সংসদে অভূতপূর্ব একটা সারি
শামছুদ্দীন আহমেদ :
Published : Thursday, 12 September, 2019 at 9:03 AM, Update: 12.09.2019 9:07:32 AM

দেখতে দেখতে প্রায় ১৮-১৯ বছর হয়ে গেল, জাতীয় সংসদ বিট করি। কতকিছু দেখলাম, শুনলাম, লিখলাম। লেখার চেয়ে শুনেছি বেশি, তারচেয়েও দেখেছি বেশি। কত ঘটনা থেকে কত কিছু শিখেছি। এখনও শিখছি। লেখার নেশায় তথ্যের কাণ্ডারি আমি। তথ্য পেলে কাউকে চিনি না- এই একটা নীতিতেই চলার নিরন্তর চেষ্টা থাকে। এজন্য কতজনের সাথে সম্পর্ক গড়ে, কতজনের সাথে সম্পর্কে চিড় ধরে। তবে ভাঙ্গে না। কারণ এতদিনে সবাই যে আমাকে চিনেছে, পেশাদারিত্ব আর সম্পর্ককে আমি কখনো মিশতে দেই না। যার কারণে প্রায়শই একটা কমন কথা আমাকে শুনতে হয়, আপনি আসলে কার? আমার সোজাসাপটা জবাব থাকে, আমি শুধুই পাঠকের।
যাক, যে শিরোনামটা দিয়েছি আসুন সেটা নিয়ে গল্প করি। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে একাদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। মাত্র চার কার্যদিবসের এ অধিবেশনটির পর্দা নামছে আজ বৃহস্পতিবার। সংসদে গেলেই আমি বেশিরভাগ সময়েই সাংবাদিক গ্যালারিতে বসি। সাংবাদিক লাউঞ্জে কেমন জানি প্রাণ পাই না। গ্যালারিতে বসলে প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই চোখের সামনে থাকেন। সবার কার্যক্রম নজরে থাকে। লাউঞ্জে বসা আর বাসায় বা অফিসে বসে সংসদ টিভি দেখার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য আমি দেখি না। কারণ অধিবেশন কক্ষে একজন এমপি আরেকজন এমপিকে একটা কলম বা চকলেট দিলেও আমার চোখ এড়ায় না। আর কে কোথায় বসে কার সাথে গল্প করছেন, কে কোন মন্ত্রীর কাছে কাগজ মেলে ধরছেন- সবই দেখি বোবার মতো বসে থেকে। পাশে কেউ থাকলে টুকটাক শেয়ার করি।
এবারের অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে গ্যালারিতে ঢুকেই অভূতপূর্ব এক দৃশ্য চোখে পড়লো। স্পিকারের বামদিকে প্রধান বিরোধীদলের সামনের প্রথম সারির দিকে দৃষ্টি যেতেই চোখ আটকে গেল। এই একটা সারিতে এতগুলো দল! আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা এক সারিতে বসা। ১০টি আসনের এই সারিতে ৬টি দলের নেতা। স্পিকারের বামদিক থেকে প্রথম চারটি আসন জাপার। আসন ক্রমানুসারে - বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কাজী ফিরোজ রশীদ। ফিরোজ রশীদের বামের আসনে বিএনপির হারুন অর রশীদ। তারপর যথাক্রমে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র ও ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক। এবারের অধিবেশনে বেশ কয়েকজন এমপির আসন পুনর্বিন্যাসের পর এই দৃশ্যপট।
সংসদ বিটে যারা আমার অগ্রজ তারা হয়তো বলতে পারবেন, অতীতে কখনো এমন আসন বিন্যাস ছিল কিনা। কিন্তু আমার দেখা এই প্রথম। তাই বিষয়টা শেয়ার করলাম।
মজার বিষয়, এই ১০ জন সংসদ সদস্য ৬টি পৃথক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা নেতৃত্ব দিলেও তারা যখন সবাই পাশাপাশি বসে গল্প করেন, কথা বলেন, কখনও হাসেন, কখনও নিরব থাকেন; আমার কিন্তু ভালোই লাগে। আরও মজার বিষয়, ইনু ভাই যখন বলেন, 'বিএনপি রাজনীতির বিষবৃক্ষ'; তাঁর ডানেই বসে সেটা শুনেন বিএনপির হারুন। আবার হারুন যখন বলেন, 'গৃহপালিত বিরোধী দল জাপা '; তখন তাঁর ডানে বসেই সেটা শুনেন জাপার ফিরোজ রশীদসহ অন্যরা। দারুন লাগে, যখন দেখি বক্তব্য শেষে সবাই হাসিমুখে আবার গল্পে মাতেন, কিংবা সংসদে এসে এবং যাওয়ার সময় যখন তাঁরা কুশল বিনিময় করেন।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ডিআরইউ।

দেশসংবাদ/এসএস

মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft