ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ || ১ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ বালিশকাণ্ডে গণপূর্তের ১৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত ■ ফেনীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩৭ মামলার আসামি নিহত ■ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ড্র ■ ডিসেম্বরে বহুল প্রত্যাশিত ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন ■ সম্রাট মারা গেলে দায় নেবে কে? ■ আবরার হত্যাকাণ্ডে কূটনীতিকদের বিবৃতি ‘অহেতুক’ ■ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ■ আন্দোলনের সমাপ্তি টানল বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ■ থমথমে বুয়েট, আন্দোলন নিয়ে সিদ্ধান্ত বিকাল ৫ টায় ■ মিয়ানমারকে ৫০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর ■ ১০ দিনের রিমান্ডে সম্রাট ■ মানবতাবিরোধী অপরাধে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
শেখ হাসিনা: আঁধার হননের সারথি
নাহিদ মাহমুদ সাকিব
Published : Saturday, 28 September, 2019 at 12:44 AM

ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত যে সোনার বাংলার স্বপ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন তা প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল, বাঙ্গালির ইতিহাসের সবথেকে কলঙ্কিত রাতে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনাদলের হাতে সপরিবারে নিহত হন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার গৌরব রবি যায় অস্তাচলে। পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমতে বাঙালির আশার আলো বাচিয়ে রাখা প্রদীপ হয়ে বেঁচে গিয়ে ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। স্বামী প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিদেশে থাকায় শেখ হাসিনা ও তাঁর একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানা সেদিন প্রাণে বেঁচে যান।

ওয়াজেদ মিয়ার জার্মান ভিসার মেয়াদ শেষ হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর আতিথেয়তায় পরবাসী জীবন কাটান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সামরিক শাসক জিয়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখে। ১৯৮১ সনের ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে থাকা অবস্থায় জননেত্রী শেখ হাসিনা খবর পান, ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে এবং এর এক সপ্তাহ পরে আওয়ামী লীগের সেই সময়ের শীর্ষ নেতারা দিল্লি যান তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যে। অবশেষে প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেশে ফেরেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে লাখো জনতার ঢল নামে। স্বজনদের  রক্তে ভেজা বাংলার মাটি স্পর্শ করে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এই সময় জনতা সামরিক শাসক জিয়ার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝড়-বৃষ্টির আকাশ কাঁপিয়ে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকের চার পাশে স্লোগান ওঠে- ‘পিতৃ হত্যার বদলা নিতে/লক্ষ ভাই বেঁচে আছে, শেখ হাসিনার ভয় নাই/রাজপথ ছাড়ি নাই।’ লাখ লাখ লোকের সংবর্ধনায় তিনি জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ ‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।’

সংবর্ধনার পর শেখ হাসিনা তার স্বজনদের রক্তে রঞ্জিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে জিয়ার বাহিনী তাঁকে তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়নি। তখন তিনি বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন। জিয়া বেঁচে থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক দিন তিনি বাসার সামনে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন; তাতেও বিন্দুমাত্র দয়া হয়নি খুনি শাসকের।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমান নিহত হলে একটি সামরিক শক্তি যখন নতুনভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠে তখন তিনি দলের হাল ধরলেন। ষড়যন্ত্রের বেড়াজালকে ছিন্ন করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তখন পর্যন্ত বেশ জটিল এবং দুরুহ কাজ ছিল। সাময়িক শাসন ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শেখ হাসিন বাংলার পথেপ্রান্তরে ঘুরে বেরিয়েছেন নিরন্তর। পিতার মতো বরাবরই তিনিও ছিলেন ঘাতকের ষড়যন্ত্রের টার্গেট। তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তখন থেকেই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণে বার বার তিনি হয়েছেন জঙ্গি গোষ্ঠীর একমাত্র লক্ষ্যবস্তু।

এ পর্যন্ত তিনি ২১ বার মৃত্যুর কাছাকাছি থেকে ফিরে এসেছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এ গ্রেনেড হামলা যার মধ্যে অন্যতম। ঐদিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ যেন পরিণত হয়েছিলো মৃত্যুপুরীতে। গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো শেখ হাসিনার সন্ত্রাস বিরোধী গণমিছিলে। শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার জন্য গ্রেনেডের পর ছোড়া হয়েছিলো গুলি। প্রায় ৩০ জন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। শত্রুর  আগুনের ছাই থেকে উঠে আসা শেখ হাসিনা ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে এর আগে কেউ এত বছর সরকারপ্রধান হতে পারেননি। তিনি বিশ্বের শীর্ষ নারী শাসকদের মধ্যেও অন্যতম। তিনি আঁধার হটিয়ে বাংলাদেশকে দেখিয়েছেন আলোর পথ।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত, প্রবৃদ্ধি ৮.১ শতাংশ, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেটাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া, ৯৪ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনা, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, স্বাক্ষরতার হার ৭৩.৯ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার নিখাদ দেশপ্রেম ও দৃঢ় মানসিকতার কারনে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে ৭৫ পরবর্তী সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক।

মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, প্রাজ্ঞতা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সকল আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

লেখক : নাহিদ মাহমুদ সাকিব
শিক্ষা ও পাঠচক্র উপ- সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


দেশসংবাদ/এফএইচ/বি


আরও সংবাদ   বিষয়:  শেখ হাসিনা: আঁধার হননের সারথি   নাহিদ মাহমুদ সাকিব  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft