ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ || ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ আদালতে সম্রাট ■ মানবতাবিরোধী অপরাধে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ■ মেক্সিকোতে মাদক মাফিয়াদের হামলায় ১৪ পুলিশ নিহত ■ হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে দুদক ■ তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ ■ সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ বনদস্যু নিহত ■ হবিগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৩ মামলার আসামি নিহত ■ আ.লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ ■ আজ থেকে আবারও আন্দোলনে নামছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা ■ আবরারের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস ■ ছাত্রদল সভাপতি-সম্পাদকসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ■ যুবলীগের নতুন নের্তৃত্বে আলোচনায় যারা
সংসদীয় কমিটি তথ্য
বিমানের ৪৫ হাজার টিকিট হরিলুট
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Tuesday, 1 October, 2019 at 11:22 AM, Update: 01.10.2019 11:34:03 AM

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪৫ হাজার টিকিট হরিলুট হয়েছে। গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই টিকিটগুলো ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কমিশনে নিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের টিকিটগুলো নিজেদের নামে নেয়ার পর বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন তারা। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কয়েকশ’ কোটি টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর লোকসান গুনছে। আগামীতে এসব কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করতে বিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত নথির হিসাব থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে কমিটি বিমানের টিকিট কাকে কাকে দেয়া হয়েছে তা জানতে চায়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের টিকিটগুলোই হরিলুট হয়েছে। বিমানের অর্থ পরিদফতর, উচ্চপদস্থ থেকে কনিষ্ঠ কর্মকর্তা সবাই এ সুবিধা নিয়েছেন। বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা গেছে, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট পরিদফতরের পরিচালক মমিনুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী-পরিজনদের নামেও নিয়েছেন একাধিক টিকিট।

তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১০ বছরে নিয়েছেন ৪৬ টিকিট। এর কোনোটি শতভাগ কমিশন আবার কোনোটি ৯০ ভাগ কমিশনে নিয়েছেন। একইভাবে, প্রকিউরমেন্ট এবং লজিস্টিক শাখার উপ-ব্যবস্থাপকও কম যাননি। তিনি এবং তার পরিবারের নামে নিয়েছেন ১১টি টিকিট। ওই বিভাগের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. সরোয়ার হোসেন নিয়েছেন ১৩টি টিকিট। এসব টিকিটের কোনোটি শতভাগ কমিশনে নেয়া।

এছাড়াও সিনিয়র সাইন রাইটার মোহাম্মদ মহসীন নিয়েছেন ২২টি টিকিট। তিনি নিজে, তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন এ তালিকায়। সব টিকিট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য নেয়া। সহব্যবস্থাপক (প্রকিউরমেন্ট) স্বপন কুমার দে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে নিজে এবং পরিবার-পরিজনের নামে কমিশনে টিকিট নিয়েছেন ৬৮টি। তার প্রতিটি টিকিট কমিশনের পরিমাণ শতভাগ।

এছাড়া সহব্যবস্থাপক মো. নুরুজ্জামান ১২টি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোকসানা আক্তার ১৮টি, প্রশাসনিক সহকারী দিলরুবা আফরোজা নিজ, স্বামী, ছেলেমেয়ে এবং পিতামাতার নামে নিয়েছেন ২৬টি ওয়ানওয়ে টিকিট। আবুল হাসেম ১৭টি, একেএম মাহফুজুর রহমান ১৪টি, মানিকুর রহমান ২টি, লামিয়া শারমিন একাই নিয়েছেন ৫০টি। নিজাম উদ্দিন ৮টি, ফকির আবদুল হালিম ৮টি, আবদুল খালেক ১৪টি, আলমগীর কবির ১৮টি, আবু তালেব ১৭টি, গোলাম রসুল ১টি, ইস্টার হালদার ২২টি, সাইফ উদ্দিন ১৬টি, আবদুর রশীদ ১৩টি, ফরহাদুর রেজা ১৮টি, মাছুদুল আলম খান ৬টি, শরীফুল ইসলাম ১৩টি, শরিফ হাসান ১৩টি, হাবিবা মির্জা ২০টি, নেছার আলী গাজী ৪৬টি, জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ২০টি, রবিউল ইসলাম ২০টি, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ৪টি এবং মতিউর রহমান ৪টি। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিক পরিদফতরে কর্মরত ছিলেন।

এদের বাইরে প্রশাসন পরিদফতরের কর্মকর্তাদের কেউ নিয়েছেন একাই ২৯টি টিকিট। কেউ ২০টি আবার কেউ বা ১৮টি। এর মধ্যে মো. আল মাসুদ খান ও কামাল হোসেন ১৮টি করে টিকিট নিয়েছেন। ফখরুল আলম চৌধুরী নিয়েছেন ২৯টি। যার প্রত্যেকটি টিকিটে কমিশন ধরা হয়েছে ৯৫ শতাংশ। এ শাখার ৪২ জন কর্মকর্তার সবাই ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কমিশন নিয়েছেন টিকিটপ্রতি।

আন্তর্জাতিক পরিভ্রমণে এজেডএম আরিফ সহকারী ব্যবস্থাপক (সংগঠন ও পদ্ধতি) এ কর্মকর্তা ভারত সফরে ২০১২ ও ২০১৪ সালেই ২টি টিকিট নিয়েছেন। প্রতিটিতে ৯০ শতাংশ কমিশনে নেয়া। আইটি ডিভিশনের উপব্যবস্থাপক সৈয়দ মোস্তাক হোসেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রুটে নিজ পরিবারের নামে ৩৩টি টিকিট নিয়েছেন। প্রতিটি টিকিটে কমিশন ৮৫-৯০ শতাংশ।

এছাড়া আরিফুল হাসান সাধন (সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট) নিয়েছেন ৮৭টি টিকিট। এর সবই নিজ, ছেলেমেয়ে এবং পিতামাতাসহ আত্মীয়-পরিজনের নামে নেয়া। তিনিও ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কমিশনে নিয়েছেন প্রতিটি টিকিট। তার পুরো পরিবার গত ১০ বছরে দেশের ভেতরে বিমানে ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার করেনি। নার্গিস আক্তার নিয়েছেন ৪৩টি টিকিট। সব টিকিটে পরিবার-পরিজনের সুবিধা নিয়েছেন। তিনিও ৮৫ থেকে ১০০ ভাগ কমিশনে এসব টিকিট নিয়েছেন।

বিমানের ‘গলার কাঁটা’ সরাতে খরচ ৪.১ মিলিয়ন ডলার : বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা গেছে, মিসর থেকে ত্রুটিপূর্ণ দুটি ইজিপ্ট এয়ারক্রাফটের মধ্যে একটি ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ বিমানের পাওনা পরিশোধসহ ৪.১ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। বিমানের ‘গলার কাঁটা’ নামে পরিচিত এ দুটি এয়ারক্রাফট নেয়ার সময় অসম চুক্তি করায় ফেরত দিতে এ বিশাল অঙ্কের টাকা গুনতে হয়েছে। বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ত্রুটিপূর্ণ বিমান ফেরত পাঠানোয় প্রতি মাসে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সাশ্রয় হচ্ছে বাংলাদেশ বিমানের। তবে সংসদীয় কমিটি তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। মিসর থেকে ত্রুটিপূর্ণ বিমান ভাড়া করার ক্ষেত্রে যে অসম চুক্তি করা হয়েছিল সেটি খতিয়ে দেখার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয় কমিটি। এর সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশও করা হয়।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের মার্চে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ওই বছরের মার্চে এবং অন্যটি একই বছরের মে মাসে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন।

কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মো. আসলামুল হক, তানভীর ইমাম, আনোয়ার হোসেন খান, সৈয়দা রুবিনা আক্তার অংশ নেন।

দেশসংবাদ/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিমান   টিকিট হরিলুট   কর্মকর্তা-কর্মচারীরা   সংসদীয় কমিটি  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft