ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ || ৪ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ নিষিদ্ধের পর আবারও চালু পাবজি গেম ■ দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক-হেলপার নিহত ■ কে হচ্ছেন জামায়াতের নতুন আমির? ■ আ.লীগের ৪ সহযোগী সংগঠনে নেতৃত্বের দৌড়ে যারা ■ চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেটে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ■ আফগানিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত ৬২ ■ কাঁদলেন ও কাঁদালেন প্রধানমন্ত্রী ■ স্বৈরশাসকরা কোন দিন জনগণের হাতে ক্ষমতা দিতে চায় না ■ বার্সেলোনায় ব্যাপক বিক্ষোভ, রাস্তায় রাস্তায় আগুন-সংঘর্ষ ■ বিজিবি-বিএসএফের গোলাগুলির কারণ ব্যাখা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ■ যুবলীগ নিয়ে সব সিদ্ধান্ত রোববার ■ তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ নিহত ৪
অবৈধ উপার্জিত সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক
অ আ আবীর আকাশ
Published : Monday, 7 October, 2019 at 3:06 PM

সম্প্রতি ক্যাসিনো বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষ একটু নড়েচড়ে বসার চেষ্টা করা হলে সরকার তা কিছুটা ম্রীয় করে দেয়। তবে বিভিন্ন স্তরে অভিযান করবে বলে আশ্বাস দিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এতে করে কিছু স্বস্তি ফিরে এলেও দেশে পেঁয়াজ মরিচসহ নানা দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি জনসাধারণকে কোণঠাসায় ফেলার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। সে সংকট উত্তরণেও চলছে গুদামে আড়তে অভিযান। সবদিক দিয়েই সরকার একটা সুদক্ষতা আর সুমনোভাবাপন্নতার পরিচয় দিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার দুর্নীতিবাজদের কড়া হুঁশিয়ার করে বলেছেন 'দুর্নীতি আর অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিবাজ সকল কিছুর উর্ধে থাকবে, তাকে দল-মত নির্বিশেষে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, সে যদি আমার আত্মীয়ও হয়।' এ সময় জনগণের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো সুস্পষ্টভাবে বলেছেন 'আরেকটা জিনিস আমি দেখতে বলে দিয়েছি, আর সেটা হল কার আয়-উপার্জন কত, কিভাবে উপার্জন করে, আমার দলের হোক আর অন্য যে কোনো দলেরই হোক। অতীতে কি ছিল আর এখন কি হয়েছে, তার সবগুলো ডাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বের করতে হবে।

এরপরেও শেখ হাসিনা বারবার সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্য করে বলেন 'দুর্নীতিবাজ যেন ছাড়া না পায়, কোনোভাবেই যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। তাদের দিকে চতুর দৃষ্টি রাখতে হবে।'

তবে নিজের দলের ভেতরে লুকিয়ে আছে খাল বিল পুকুর নদী খেকো অসংখ্য কুমির খাদক, তা টের পেয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বুদ্ধিমানের কাজ করেছেন। দলের শুদ্ধি অভিযানের পাশাপাশি প্রশাসনে অভিযান দিচ্ছেন এটা সত্যি প্রশংসার দাবী রাখে।

বাংলাদেশের মানুষ চায় শান্তি। কারো দ্বারা ক্ষতি হোক, শান্তি বিঘ্নতা ঘটুক তা কেউই চায় না। সরকারে যারা ঘুষ দুর্নীতি করেন না তারাও সম্মানহানি হোক, শান্তি বিনষ্ট হোক তা চান না। কিছু কতিপয় গুনাগার, পাপী, অতিলোভী, বিপথগামীদের জন্য সমাজ দেশ পরিচালনায় সরকার বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়বে তা প্রধানমন্ত্রী কিছুতেই বরদাশত করবেন না।

ইতোমধ্যে যে কজন গ্রেপ্তার হয়েছে তারা আসলেই দেশ খেকো,রাষ্ট্রখেকো। তাদের এত সহজে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে তা সহজে অনুমান করার বিষয় নয়।এদেশের মানুষ ভাবতেও পারেনি হাতির গলায় ঘন্টা পরাবেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তবে সরকার যা করেছে তা জেনে বুঝে দেশ ও দেশের আপামর জনগণের উপকারের জন্যই করেছেন। তবে তাদের গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হলে সরকারের দায়িত্বে থাকা অসৎ জ্ঞানপাপী দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরের মোড়ক উন্মোচন হয়ে যেত।

এতে করে সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হত। জি কে শামীম কয়েকজনের নাম বলেছেন তাদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে একজন।এরকম আরো বহুজন আছে তাদের হয়তো সরকার বা সরকারের কোনো নেতার চাপে গ্রেপ্তার করতে পারছেন না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। জিকে শামীম যা বলেছে তার দ্বিগুণ নেতা এমপি উপমন্ত্রী এমনকি মন্ত্রীর নাম বলে দিতে পারে সম্রাট কিবা গ্রেপ্তার না হওয়া সেসব রাঘববোয়াল । এজন্যই তাদের ছায়া দিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে কাজ বাগিয়ে নিতে জিকে শামীম সাধারণ একজন ইঞ্জিনিয়ারকে পনেরোশ কোটি টাকা ঘুষ দিতে পারে সেখানে নেতা এমপি মন্ত্রী কত হাজার কোটি টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন তার হিসেব না ক্লিয়ার করা পর্যন্ত অনুমান করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতাই পারে খোলস ভেঙে তাদের গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করতে।এদিকে শামীম ও সম্রাটকে প্রকাশ্যে আরো জিজ্ঞাসা করলে বহু রাঘববোয়ালের মুখোশ খুলে যাবে। 'সরষে ভুত' কোথায় লুকিয়ে আছে তা প্রধানমন্ত্রী নিজেই অবাক হবেন জেনে। বাংলাদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসব রাঘববোয়ালকে গ্রেপ্তার করবেন।

প্রশাসনের সর্বস্তরে কার আয় কত, কি ভাবে চলে সেগুলো বের করতে হবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার পিআইও ডিআরআরও এমনকি ডিসি এসপি ওসি-এসআইদেরও চাকরিতে যোগদানের আগের সম্পত্তি ও পরের সম্পত্তির হিসেব বের করতে হবে।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের বিশেষ করে দলের সভাপতি সম্পাদকের আগে-পরের আয়ের হিসেব বের করতে হবে। প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকের হিসেব বের করতে হবে। আর যারা এসব অডিট অফিসার হবেন তারাও যেন শতভাগ সৎ হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। তবেই দেশ থেকে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম পালাবে বোধ করি।

প্রধানমন্ত্রীকে খুশি রাখার জন্য দলের ভেতরে বসে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে বিরোধীদলের কিচ্ছা-কাহিনী হুদাই সমালোচনা করেন যারা, খতিয়ে দেখতে হবে তারা কতটুকু সৎ ও নিষ্ঠাবান হয়ে দায় দায়িত্ব পালন করেন। কারণ অতীতে দেখে আসছি এর নজির কতটা দলের জন্য ভয়াবহ ছিল। এসব ভাইরাসকে ঝেটিয়ে ফেলে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নির্যাতিত পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের কাছে টানছেন। দলে ঢুকে পড়া 'টক্কা রাজনীতিবিদদের' থেকে দলকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।এতে সচেতন মহলে প্রশংসার ঝড় উঠছে ক্রমান্বয়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন 'আমরা সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। একটা কথা পরিস্কার ভাবে বলতে চাই, যদি কেউ অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করে তার এ অনিয়ম উশৃঙ্খলতা বা অসৎ উপায় ধরা পড়লে সে যেই হোক না কেন, আমার দলের হলেও এমনকি আত্মীয় হলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না। যদি পালিয়ে যায় তাকে ধরে এনে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।'

উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন 'সরকার দেশ ও দেশের জনগণের জন্যই উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ আরো বেশি উন্নত হতে পারতো, যদি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হতো। এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোথায় ফাঁক-ফোঁকর রয়েছে, কারা এ কাজগুলো করছে, কিভাবে করছে, কে কত পার্সেন্ট নিচ্ছে, কেনো নিচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে মাঠে শিগগিরই অভিযানিক দল নামছে।'

প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের হুঁশিয়ারিতে আতঙ্কে রয়েছেন কতিপয় গুনাগার বান্দারা। যারা ঘুষ খেতে গিয়ে অতিমাত্রার লোভে 'গু' খেয়ে ফেলেছেন তাদের বদহজম শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছেন তার মন্ত্রীত্ব চলে গেলে সাংবাদিকতা করবেন।

যারা দেশ এগিয়ে যাওয়ার বদলে নিজেদের এগিয়ে নিতে চান, বিদেশে গাড়ি-বাড়ি করেছেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পড়াচ্ছেন গরীবের টাকা মেরে, তাদের চিহ্নিত করে মুখোশ টেনে নামানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা মাত্র। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের অভিযান কতোদিন স্থায়ী হবে তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। জনগণ আশা করছে এ অভিযান চলবে সরকারের বাকি সময়গুলোতেও। তবেই আর বিমুখ হবে না দেশের আপামর জনসাধারণ।ব্যালটের মাধ্যমে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আবারও। যদি দলকে ভাইরাসমুক্ত করে সুসংগঠিত করা যায়। আর তা করতে হবে জননেত্রী আওয়ামীলীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনাকেই।

জিকে শামীম বলেছেন 'শেখ হাসিনা ছাড়া সবাই তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন'। তা কতটুকু সত্য বলেছেন খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া যেমন জরুরি, তেমনি যাদের নাম এসেছে তাদেরও গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্রাটের কাছে সরকারের ভেতরে বাহিরের রাঘব-বোয়ালদের ঘুষ নেয়ার তালিকা আছে, তা প্রকাশ করে দলের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ সাবলীল ভাবে এগিয়ে যাবে।

দেশে 'একসনা' উন্নয়ন দেখতে চায়না জনসাধারণ। 'একসনা 'মানে হলো রাস্তা পুল কালভার্ট ভবন এবছরে করলে পরের বছরই টেম্পার শেষ, রাস্তার কাজ না শেষ হতেই খানাখন্দকে ভরে যায়, ভবনের ছাদের প্লাস্টার খসে যায়, ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এসব হওয়ার কারণ হল একসনা উন্নয়ন। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে টেন্ডার দিয়ে এসব উন্নয়ন করালে তো এরকমই হবে। উন্নয়নের সকল দলীয় খাত-ই যেনো দলীয় প্রভাব মুক্ত থাকে সেদিকে বিশেষ বিধি-নিষেধ আরোপ করলে প্রকৃত ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ হবে। আর তা ইঞ্জিনিয়ার যথাযথভাবে কাজ বুঝে নেয়ার সৎসাহস পাবে। অন্যথায় পার্সেন্ট দিলে একসনা উন্নয়নে দেশ এগোনোর বদলে পেছাবে।যারা অবৈধ আয় করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন তাদের অবৈধ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হোক। আর এটাই হবে যথার্থতা।

প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে সর্বস্তরের দুর্নীতি-অনিয়ম, একসনা উন্নয়ন, মাদক, ক্লাব, ক্যাসিনো ইত্যাদি ইত্যাদি 'অসভ্যতা' দূর করে শক্ত হাতে দেশকে এগিয়ে নেবেন। আমরা সে অপেক্ষায় থাকলাম।

অ আ আবীর আকাশ : কবি সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
সম্পাদক আবীর আকাশ জার্নাল।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  অবৈধ উপার্জিত সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft