ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ আবরার হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি রবের ■ পোশাক রপ্তানি বন্ধ হলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে ■ আমি অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছি ■ ক্যাসিনোর টাকা তো অনেকেই পেয়েছেন, শুধু আমি কেন ■ তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ পরমাণু বোমা! ■ একটু পানি চেয়েছিল মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকা আবরার ■ রিমান্ডের প্রথম দিনেই র‍্যাবের কাছে সম্রাট ■ যুবলীগের কোন দুর্নীতিবাজ যেন গণভবনে না আসে ■ টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক কারবারি নিহত ■ মদিনায় বাসে আগুন, ৩৫ ওমরাহ যাত্রী নিহত ■ সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ করতে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ■ বড় ভাইয়ের নির্দেশে আবরারকে ডেকে এনে মারা হয়
এবার শুদ্ধি অভিযান শুরু হউক তৃণমূল পর্যায়ে
জাহাঙ্গীর খান বাবু
Published : Tuesday, 8 October, 2019 at 11:24 PM

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। কয়েকদিন আগে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। আর সম্প্রতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট, সহ-সভাপতি আরমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ বিভিন্ন অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না। আর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপিও দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট রয়েছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে আগামী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সদস্য সংগ্রহ ও সম্মেলন চলছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে ২০০৯ সালের পর তৃণমূল আওয়ামী লীগে বিভিন্ন সময়ে এসে জড়ো হয়েছে অন্য দলের লোকজন। যাদের বলা হয় অনুপ্রবেশকারীরা। দীর্ঘদিনের লালন পালনে তারাই এখন বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা বনে গেছেন। শুধু তাই নয়, উপজেলা আওয়ামী লীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতির পদও পেয়েছেন অনুপ্রবেশকারী। দলীয় প্রতীক নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন করে, নির্বাচিত হয়ে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র। একই অবস্থা যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে ক্ষেত্রেও। 

বিগত সময় বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সাথে জড়িত ছাত্রশিবির ছাত্রদলসহ সরকারবিরোধী একটি অংশ মামলায় জড়িয়ে পড়ে। এসব মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ওইসব অপরাধীরা ইতিমধ্যেই উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বে এসেছেন। এসব সরকার বিরোধী লোকদের নেতৃত্বে তৃণমূল আওয়ামী লীগ এখন সয়লাব। বেশ কিছু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তৃণমূল সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তারা সেটা করছেন না। তারা মিটিং ডেকে আগ্রহী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর নাম নিয়ে চলে যাচ্ছেন। সময় বুঝে নিজের মতো করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে এই প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে টাকার বিনিময়ে দরদাম করেই অন্য দলের লোকদের কোন কোন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয় হচ্ছে। তৃর্ণমুল আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীরা বলছেন, উপজেলার নেতারা দলীয় গঠণতন্ত্র কোন ভাবেই মানছেন না। তারা দলের পদকে পুজি করে টাকা লুটপাট করছে। ওয়ার্ড ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজাকারের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, হত্যা মামলার আসামীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের স্থান দিচ্ছে। এ কারণে হতাশ হয়ে দলের তৃর্ণমূলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। 
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলে এরপর ধাপে ধাপে সুবিধাভোগীরা দলের নেতৃত্বে এসেছে। এই সুবিধাভোগীদের উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অথবা সেক্রেটারির নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন ইউনিটে বসানো হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ পকেটস্থ করা। সুবিধাভোগীরা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সমাজে প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করেছে।

 এসব অনুপ্রবেশকারীদের যারা প্রশ্রয় দিয়েছে তাদের কেন্দ্রের সাথে রয়েছে ভালো যোগাযোগ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে সমন্বয় রেখে অনুপ্রবেশকারীদের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। এক্ষেত্রে হয়েছে মোটা অংকের অর্থ লেনদন। মানা হয়নি দলীয় গঠনতন্ত্র কিংবা কেন্দ্রের নির্দেশনাও। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্যরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ এবং হস্তক্ষেপ করে থাকেন ফলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জেলার সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক বরাবর অভিযোগ দেয়ার মতো দুঃসাহস দেখান না। এমনটাই সারাদেশের বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে। 

ত্যাগী নেতাকর্মীদের আক্ষেপ তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানকে ভালোবেসেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তাই তারা পদের জন্য কখনো লালায়িত নয়। যখন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল না তখন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানোর জন্য তৃণমূলের মানুষকে সংগঠিত করার জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ভয়-ভীতি মামলার হুমকি নির্যাতন কোন কিছুর ভয় করেনি তারা। অথচ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়েছেন। টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের বিপথগামী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অনুপ্রবেশকারী অপরাধীদের হাতে সংগঠনকে তুলে দিয়েছে।

এইসব অপরাধীদের নেতৃত্বে দলীয় নাম ব্যবহার করে এলাকায় নিরিহ মানুষের জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম চলছে। শালিস বাণিজ্য করেও সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলছে ঐসব দলীয় সাইনবোর্ডধারী অপরাধীরা। এ প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে দলকে দুর্নীতিগ্রস্ত করা হয়েছে। দেশের অনেক উপজেলায় আওয়ামী লীগের  সভাপতির দায়িত্বে বসে আছেন অনুপ্রবেশকারীরা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে একটি সুবিধাভোগী চক্র অন্য রাজনৈতিক দলের টাউট শ্রেণীর নেতারা  দলে প্রবেশ করেন। ২০০১ সালের পড় এদের আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। 

কিন্তু ২০০৯ সালে এরাই আবার সরব হয়ে নিজেদের দলকে শক্তিশালী করার জন্য। কৌশলে অন্য দলের অপরাধীদের হাতে দলীয় সাইবোর্ড তুলে দিয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে দীর্ঘ সময় রয়েছে তাদের অনেকের সম্পদের হিসাব বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে পূজি করে উপজেলার সভাপতির দায়িত্বে থাকা সেই সব ব্যক্তিরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন অথচ তাদের দৃশ্যমান আয় উৎস ঘাটলে কিছুই পাওয়া যাবে না। যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপর ভিত্তি করে ১৯৮২ সাল থেকে উত্তাল সময় পাড়ি দিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে সেই তৃণমূল আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনকে বিভিন্ন এলাকায় তুলে দেয়া হয়েছে বিপথগামী নেতৃত্বের কাছে। এমনটাই বলেছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের সাবেক ত্যাগী নেতা কর্মীরা। 

আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। যাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সবাই। তবে এবার এই অভিযান শুরু করতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যদিয়ে সারা বিশ্বের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ মাথা তুলে দাঁড়াক এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সারাদেশের বঙ্গবন্ধু এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু সাধারণ সব জনগণ।

লেখক : সাংবাদিক

দেশসংবাদ/এসআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  শুদ্ধি অভিযান    প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft