ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ || ৫ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ বক্তব্যের জন্য মেননকে ড. কামালের ধন্যবাদ ■ ফারুক-মারুফ-শাওন-দিপু ছাড়াই বৈঠকে যুবলীগ ■ ভোট নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মেনন ■ মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ৫ (ভিডিও) ■ ভারত-পাকিস্তানে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা, নিহত ১৬ ■ ভোলায় পুলিশ-জনতা ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ৪ ■ বাংলাদেশের নির্মিত মোবাইল সারা বিশ্বে ব্যবহার হবে ■ মন্ত্রী হলে কি মেনন এ কথা বলতেন, প্রশ্ন কাদেরের ■ প্রতি টেন্ডারে ৫ পার্সেন্ট কমিশন নিতেন মেনন ■ আবারও আটকে গেল ব্রেক্সিট চুক্তি, বেকায়দায় জনসন ■ পাকিস্তানি হামলায় ২ ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৩ ■ সম্রাট থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা নিতেন মেনন
আবরার হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা
দেশসংবাদ, ঢাকা
Published : Wednesday, 9 October, 2019 at 3:24 PM, Update: 11.10.2019 2:49:47 PM

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করেছে ছাত্রলীগ।

বুধবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় ছাত্রদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদ এবং যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান শরীফ গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক আলী হাওলাদার ও ছাত্রদল কর্মী জাহিদকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ছাত্রদল সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় সমবেত হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে থেকে আবরার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মিছিল বের করে। মিছিলটি অবকাশ ভবনের সামনে আসলে পেছন থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় জবি ছাত্রদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদ ও যুগ্ম-সম্পাদক  আবরার হত্যার বিচার চায় জাতিসংঘ

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার চায় জাতিসংঘ। বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে ডিক্যাব টকে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো।

আবরার হত্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি একটি দুঃস্বপ্ন। কোনো অভিভাবক চান না, তার সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এভাবে মারা যাক।’

তিনি বলেন, এ মৃত্যুর পর মানুষের ক্ষোভ দেখেছি আমরা। এ হত্যার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার চায় জাতিসংঘ।’

এ বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে একটি বিবৃতিও দেয়া হয়েছে বলেও জানান মিয়া সেপ্পো।

ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দফতর থেকে বুধবার দুপুরে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবাধ মতপ্রকাশের অভিযোগে বুয়েটের এক তরুণ শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘ নিন্দা জানাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে অভিযুক্তদের বিচার না করায় বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সহিংসতায় অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন। জাতিসংঘের বাংলাদেশ দফতর লক্ষ্য করছে, অভিযুক্তদের ধরার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এর ফলে স্বাধীন তদন্তকারীরা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বচ্ছ বিচারের পথে যাবেন, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।

এ হত্যাকাণ্ডে এর আগে বিস্মিত ও মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে বিবৃতি দেয় যুক্তরাজ্য।

অপরদিকে আবরার ফাহাদ হত্যায় শোক জানিয়েছে জার্মানি। পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও মনে করেছে দেশটি। ঢাকায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাস নিজেদের ফেসবুজ পেজে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

জার্মান দূতাবাস মনে করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, যা বাকস্বাধীনতার স্বতন্ত্র অধিকার দেয়ার পাশাপাশি তা জনসম্মুখে প্রকাশেরও অধিকার দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জার্মান সরকার নিজ দেশে যেমন এই অধিকারগুলো সমর্থন করে তেমনি সারা পৃথিবীতেও এর বাস্তবায়নে জোর সমর্থন দেয়। আর আমরা বিশ্বাস করি, এ অধিকারগুলোর লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বুয়েট ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় জার্মান দূতাবাস মর্মাহত উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আবরারের পরিবার ও তার সহপাঠী-বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে দূতাবাস।

রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়ে থাকতে পারে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর ফলেই রক্তক্ষরণ বা পেইনের (ব্যথা) কারণে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ফাহাদের হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে ভোঁতা কোনো জিনিস যেমন- বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে তার মাথায় কোনো আঘাত নেই। কপালে ছোট একটি কাটা চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ। গ্রেফতার ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর পাঁচদিনের রিমান্ড মঙ্গলবার মঞ্জুর করেন আদালত।

দেশসংবাদ/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:   আবরার হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft