ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ || ৫ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ কে এই কাউন্সিলর রাজীব? ■ ডিএনসিসি কাউন্সিলর রাজীব আটক ■ উন্নয়নের নামে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে ■ রাজস্বের প্রয়োজন আছে, তবে জোর করে নয় ■ সড়ক দুর্ঘটনা ঢাকাসহ সারাদেশে নিহত ১০ ■ সৌদি আরবে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি নিহত ■ রাশিয়ার সোনার খনিতে ধস, নিহত ১৩ ■ নতুন মুখ আসবে ■ যুবলীগের দায়িত্ব দিলে ভিসি পদ ছাড়বে ড. মিজান ■ নিষিদ্ধের পর আবারও চালু পাবজি গেম ■ দু'ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক-হেলপার নিহত ■ কে হচ্ছেন জামায়াতের নতুন আমির?
৪২ বছর পর মা-বাবার খোঁজে জার্মানি থেকে বাংলাদেশে!
মোঃ আজিজুর রহমান ভূঁঞা বাবুল, ময়মনসিংহ
Published : Thursday, 10 October, 2019 at 4:44 PM, Update: 10.10.2019 6:51:11 PM

৪২ বছর পর জন্মদাতা মা-বাবার খোঁজ করতে জার্মানি থেকে বাংলাদেশে এসে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সহযোতিতা চাইলেন সেলিনা। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বুধবার (০৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে সেলিনা জানান, তার পালক বাবা জন ম্যাকডোনাল্ড ১৯৭৬ সালের জুন বা জুলাই মাসে সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রাম থেকে তাকে দত্তক নেন। ম্যাকডোনাল্ড তখন একটি বেসরকারি শিশু সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতেন।

সেলিনার বয়স যখন ৬ বছর তখন তিনি জানতে পারেন যে, বাবা-মার দারিদ্রতার কারণে মাত্র পাঁচ দিন বয়সে ১৯৭৬ সালের জুন বা জুলাই মাসে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রামের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যান জন্মদাতারা। পরে কয়েকজন গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে একটি এতিমখানায় দেয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় বিদেশি এনজিওকর্মী জন ম্যাকডোনাল্ড শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য নিতে চাইলে গ্রামের লোকজন তার হাতে তুলে দেন। বাংলাদেশে কাজ শেষে তিনি তাকে জার্মানি নিয়ে যান।

বাংলাদেশ থেকে নেয়ার পর থেকে ম্যাকডোনাল্ড তার পালক বাবা। সেখানে নেয়ার পরে একটি স্কুলে ভর্তি করান। তারপর থেকে সেলিনা জার্মানিতেই বসবাস করে বড় হয়েছেন। সেলিনা জার্মানিতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং স্টেফান নামে এক জার্মান নাগরিককে বিয়েও করেন। তাদের অ্যাঞ্জেলা (২২) নামে একটি মেয়ে ও ফিন (১৫) নামে একটি ছেলে রয়েছে।

সেলিনা আরও জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কাছে একটি হাসপাতালের চিকিৎসক মার্ক সেয়ারারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই হাসপাতালে তিনিও চাকরি করেন। একপর্যায়ে তিনি সেয়ারারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

এরই মধ্যে কেটে গেছে ৪২ বছর। কিন্তু এখনও বাবা-মাকে ভুলতে পারেননি তিনি। গত ৪ অক্টোবর তিনি প্রথমবারের মতো সেয়ারারকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। এক জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশির সহায়তায় এখানে এক হোটেলে ওঠেন। ওই বাংলাদেশি ময়মনসিংহে বসবাসরত অপর এক জার্মান প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনকে অনুরোধ করেন সেলিনাকে সহায়তা করার জন্য। পরে গত ৭ অক্টোবর ময়মনসিংহে আসেন এবং দেলোয়ারের সহায়তায় জামালপুরের গাইতিপাড়া গ্রামে যান।

দেলোয়ার জানান, গত মঙ্গলবার জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রায় ৪ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সেলিনার জন্মস্থান গাইতিপাড়া গ্রামের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু সেলিনার ছোটবেলার ছবি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন পরিচয় দিয়েও তার বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেলিনা বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং আবেগজড়িত কণ্ঠে তার বাবা-মায়ের খোঁজ করেন। বাবা-মাকে খুঁজে না পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সেলিনা।

সকলের সহযোগিতা চেয়ে সেলিনা আরো জানান, জন্মস্থানের প্রতি মায়ার কারণে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং বাবা-মায়ের খোঁজ করেন। এবার আক্ষেপ নিয়ে ফিরে গেলেও আবারও তিনি বাংলাদেশে আসবেন। আরও দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন বলে আরো জানান তিনি।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  মা   বাবা   খোঁজে জার্মানি থেকে বাংলাদেশে  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft