ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ || ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ মুন্সীগঞ্জে বাস-মাইক্রো সংঘর্ষ, নিহত ৮ ■ চারদিকে হাহাকার, দুর্ভিক্ষের প্রতিধ্বনি ■ বাতিল হচ্ছে আসামের নাগরিকপঞ্জি এনআরসি ■ ঐতিহাসিক ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ■ ‘উপোস’ থাকছেন ওমর ফারুক চৌধুরী ■ এবার তুরস্ক থেকে বিমানে আসল পেঁয়াজ ■ পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান, চলছে মহাযজ্ঞ ■ বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার ■ সুপার মার্কেটের আগুনে নিঃস্ব হয়ে গেছে ব্যবসায়ীরা ■ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ডিজিটাল রশিদ রাখার নির্দেশ ■ নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাইকে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে ■ ছেলে-মেয়েরা ফের রাস্তায় নামলে পিঠের চামড়া থাকবে না
গতি নেই আমদানী-রপ্তানিতে
বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও স্থলবন্দরে দুর্নীতি
আহম্মদ আলী শাহীন, বেনাপোল
Published : Thursday, 7 November, 2019 at 3:42 PM

বেনাপোল কাস্টমস হাউজ

বেনাপোল কাস্টমস হাউজ

দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলে দুর্নীতি অনিয়মে ছেয়ে গেছে। আর এই দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত আমদানী রপ্তানিকারকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম নগর ও বন্দর কলকাতা। মাত্র তিন ঘণ্টায় কলকাতা থেকে পণ্য নিয়ে আসা সম্ভব হয় এই স্থল বন্দরে।

সে জন্যই আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের অত্যন্ত পছন্দ বেনাপোল স্থল বন্দর। কিন্তু কাস্টমস হাউজের দুর্নীতি এবং বন্দরের অনিয়ম অব্যবস্থার কারণে ক্রমাগত ভাবে গতিহীন হয়ে পড়ছে দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দরটি।

কমছে সরকারের রাজস্ব আয়। চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে বেনাপোল স্থল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৭ শত ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৪ শত ৬৫ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৭ শত ৫১ কোটি ২১ লাখ টাকা। গেল ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এক হাজার ১ শত ৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি ছিল।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১শত ৮৫ কোটি টাকা, সেখানে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয়। সেই হিসাবেই বন্দরে ৫ হাজার কোটি টাকার অধিক রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ হলে রাজস্ব আয় বাড়বে।  

তাছাড়া এক শ্রেণীর কাস্টমস কর্মকর্তার দুর্নীতি ও সীমাহীন হয়রানির কারণে বেনাপোল স্টেশনের বদলে ভোমরা, দর্শনা ও সোনা মসজিদসহ অন্যান্য স্থল বন্দরের দিকে ঝুকছেন আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীরা। তারপরেও টনক নড়ছে না কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্থল বন্দরটিতে দিনে দিনে দুর্নীতি অনিয়ম ও অব্যবস্থার বাসা বেধেছে। শত চেষ্টা করেও তা ভাঙা যাচ্ছে না।

এই বন্দর ব্যবহার করে দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে একশ্রেণীর আমদানীকারক, ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। সুযোগ পেয়েছেন শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার।

অথচ বরাবরই উপর মহল ও প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগে থেকেছেন তারা ধরা ছোয়ার বাইরে। ঘোষণা বহির্ভুত পণ্য ঢুকিয়ে কিংবা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বহু ঘটনা ঘটেছে এই স্থল বন্দরে।

আগের সেই সুযোগ নেই সংশ্লিষ্টরা এমনটি দাবি করলেও এখন যা ঘটছে তা কোনো অংশেই কম নয়। উৎকোচ দিতে রাজি না হলে কনসাইনমেন্টে ইচ্ছা মাফিক ট্যাক্স বাড়িয়ে ফাইল আটকে হয়রানি করা হয়। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের দুর্নীতি ও পেনসিক্রেট। সেজন্যই এটি ‘ম্যানেজ হাউজ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

কাস্টমস এর একজন সুপার ও দু’জন ইন্সপেক্টর উৎকোচের মোটা টাকা প্রতিমাসে ভাগ বাটোয়ারা করেন বলে অভিযোগ। যার একটা অংশ নির্দ্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে মুখ বন্ধ রাখতে বেনাপোল ও যশোরের বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তি বিশেষকে পৌঁছে দেয়া হয়।

স্থল বন্দর ও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দেয়া, মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণা বহির্ভূত ভারতীয় পণ্যভর্তি ১৬টি ট্রাক গত অর্থ বছরে বেনাপোল সড়ক থেকে যশোর বিজিবি আটক করে।

গত অর্থ বছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের টার্গেট পূরণ করতে পারেনি বেনাপোল কাস্টমস হাউস। পরে সংশোধিত টার্গেটে পূরণ দেখানো হয়। চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে বেনাপোল স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৭১৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।

এর মূল কারণ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থা। বাংলাদেশ ও ভারত রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থলবন্দরে গত বছরের ১ আগস্ট থেকে সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘণ্টার বিরামহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কারণে দুই মাসের মধ্যেই ওই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তাদের এই ব্যর্থতা নিয়ে কোনো তাপ উত্তাপ নেই।

কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সিএ্ন্ডএফ এজেন্ট বলেন, তাদের ভাবখানা এমন যে ‘সব মহলকে তো ম্যানেজ করে চলতে হয়, এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হবে না আর মাস গেলে তো সরকারি বেতনের অসুবিধা নেই, খামাখা মাথা ঘামানোর দরকার কী, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাড়লো কি বাড়লো না তা দেখার টাইম নেই। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও স্থলবন্দরের দুর্নীতি  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft