ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ || ২৮ কার্তিক ১৪২৬
শিরোনাম: ■ নারীর পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেল বাসের চাকা ■ রেলের সাথে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ ■ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে ■ প্রতারণা করে চাকরি, রাজস্ব কর্মকর্তার ৭ বছর কারাদণ্ড ■ জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে রামমন্দির নির্মাণকাজ ■ তূর্ণা এক্সপ্রেসের চালক-গার্ডসহ ৩ জন বরখাস্ত ■ ফেনীতে ফাঁসির মঞ্চ নেই, কুমিল্লায় যাচ্ছে নুসরাতের খুনিরা ■ কাশ্মীরে তুমুল গোলাগুলি, নিহত ২ ■ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম ■ মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকারের পতন ■ ফের আন্তর্জাতিক ‘অ্যালার্ট’র আশঙ্কায় শাহজালাল বিমানবন্দর ■ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ ট্রেনের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ১৬
জাবি ভিসির দুর্নীতির তথ্য যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও ইউজিসিতে
খলিলুর রহমান, জাবি
Published : Thursday, 7 November, 2019 at 10:47 PM

জাবি ভিসির দুর্নীতির তথ্য যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও ইউজিসিতে

জাবি ভিসির দুর্নীতির তথ্য যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও ইউজিসিতে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের বিরুেদ্ধ দুর্নীতির অভিযোগের তথ-উপাত্ত আগামীকাল দেওয়া হবে শিক্ষামন্ত্রনালয় ও ইউজিসিতে। গত ৩ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠকে মন্ত্রী তথ্য উপাত্তসহ লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

বৃহস্পতিবার(৭ নভেম্বর) রাত নয়টায় কনসার্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে রায়হান রাইন বলেন, ' ইউজিসির একজন সদস্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। আমরা শুনতে পেরেছি তাঁরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। তাঁরা তদন্তের জন্য তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রনালয়েও পাঠানো হবে।

অভিযোগের প্রমাণ দিতে না পারলে প্রদানমন্ত্রীর বক্তব্যে যে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘোষণা দিয়েছেন- এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,'প্রমাণ তো তদন্তের মাধ্যমে বের হবে। আমরা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চেয়েছি।আমাদের দাবি যৌক্তিক ও নৈতিক।  তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্তের মধ্যমে তা প্রমাণ হবে।'

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্দোলনের সংগঠক নগর ও পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল রনি। বক্তব্যে বলা হয়,'মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই এই মেগাপ্রজেক্টের কাজ শুরু করার পূর্বে ই-টেন্ডার পদ্ধতির বদলে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে টেন্ডার আহবান করা হয়।

ফলশ্রুতিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকর্তৃক টেণ্ডারের শিডিউল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। জাতীয় দৈনিক সমূহের মাধ্যমে অবগত হওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা সেই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করলেও আজও তার বিচার হয়নি। পরবর্তীতে বিগত ২৩ আগষ্ট বাংলাদেশ প্রতিদিন, ঢাকা ট্রিবিউন, যুগান্তর, ডেইলি স্টারসহ দেশের সর্বাধিক পঠিত প্রায় সকল দৈনিক পত্রিকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের টাকার ভাগ বাটোয়ারার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে  চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশিত হয়।

একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি ও তার পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্নীতির সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনসহ পুরো জাতি হতবাক হয়ে যায়। টাকা ভাগাভাগির ব্যাপারে দুজন সাংবাদিক উপাচার্যের কাছে তার মন্তব্য জানতে গেলে তাদেরকেও হেনস্তা করা হয়। উল্লেখ্য যে, আন্দোলন শুরু হয়েছিলো ত্রুটিপূর্ণ মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা করা ও ৫ তলা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলকে ঘিরে তিনপাশে তিনটি ১০ তলা হল নির্মাণ না করে তা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবিতে।

সকল সংবাদ মাধ্যমে দুর্নীতির খবর প্রকাশ পেলে ক্যাম্পাসের আপামর শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির ঘটনার তদন্তের দাবি তোলে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করে। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যূত করা হয় বলে আমরা সবাই অবগত। এই ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমে ভিসি অভিযোগ করেন, বহিষ্কৃত দুজন তার কাছে প্রকল্পের টাকা থেকে ৪-৬ পার্সেন্ট  চাঁদা দাবি করে।

এরপরের দিনই গোলাম রাব্বানী তাদের এই দাবিকে ‘ফেয়ার শেয়ার’ বলে অভিহিত করেন। হল সরানো, মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা এবং দুর্নীতির যে অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে তার তদন্তের দাবিতে ক্যাম্পাস যখন উত্তাল তখনই ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তিন নেতা টাকার ভাগ পাওয়ার বিষয়টি টিভি ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেন। ক্যাম্পাসের আনাচেকানাচে টাকার ভাগ কে কত পেয়েছে, তা নিয়ে গুঞ্জন চলতে থাকে। আন্দোলন জোরদার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এব্যাপারে কোনোরূপ ভ্রুক্ষেপ করেনি।
উলটো জাতির সামনে সাক্ষ্য দেয়া ৩ ছাত্রলীগ নেতাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তারা অভিযোগ করেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে প্রশাসন তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি দুই দফায় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। তাছাড়া আন্দোলনের দুই সংগঠক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী কর্তৃক প্রহৃত হবার বিচারও আজ পর্যন্ত হয়নি।

পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে প্রশাসন আমাদের সাথে আলোচনায় বসলে প্রশাসন আমাদের দুটি দাবি মেনে নেয়। যদিও উপাচার্য আন্দোলনের শুরু থেকেই বলে আসছিলেন হল স্থানান্তর কিংবা মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা করতে গেলে পুরো প্রকল্পই বাতিল হয়ে যাবে। তবে তদন্তের দাবিটি উপেক্ষা করে করণীয় ঠিক করতে তিন কার্যদিবস সময় চায় প্রশাসন। এরপর দ্বিতীয় মিটিংএও তদন্তের ব্যাপারে কোনোরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করতে উপাচার্য রাজি হননি এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার ব্যাপার অস্বীকার করেন।। এই প্রেক্ষিতে আমরা তাকে যেসকল পত্রিকা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করেছে এবং ছাত্রলীগের যে নেতারা টাকা পাওয়ার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি তাতেও অপারগতা প্রকাশ করেন। উপরন্তু পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদেরকে উন্নয়নবিরোধী বলে আখ্যা দেন।

আমরা আগেও বলেছি আবারও সুস্পষ্ট করে বলছি, আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন চাই এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দুর্নীতির যে অভিযোগ এসেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তাতে সাড়া না দেয়ায় তিনি যে দুর্নীতির সাথে যুক্ত সে বিষয়টি পুরো জাতির সামনে দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে আমরা তাকে সসম্মানে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে সময় বেধে দিই। নির্ধারিত সময়ে তিনি পদত্যাগ না করলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর তার অপসারণ দাবি করে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়,' উদ্ধুদ পরিস্থিতিতে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবে পুরো পরিস্থিতি  ব্যাখ্যা করে মহামান্য আচার্যের নিকট উক্ত বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য খোলা চিঠিও প্রেরণ করেছি আমরা।

শুরু থেকেই আমরা একেবারেই ধ্বংসাত্মক কিংবা আক্রমাণত্মক না  হয়ে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে আসলেও, প্রশাসনিক নির্দেশে আন্দোলনের এক অন্যতম সংগঠকের উপর হামলা চালায় এক সহকারী প্রক্টর। অথচ প্রশাসন উলটো কল্পিত নাটক সাজিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করার চেষ্টা করে।

পরবর্তীতে কর্মসূচীর অংশ হিসেবে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি বিশেষ অংশ আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কীত হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভিসিপন্থী শিক্ষকরা এই হামলায় উস্কানি দেয়। আমাদের পিতৃতুল্য শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা আশা করিনি। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষকসহ অন্তত ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়।

এই ন্যাক্কারজনক হামলাকে উপাচার্য ‘গণ অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন! ৬৯'র গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে এই নেক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার সাথে তুলনা করবার স্পর্ধা পুরোজাতি ভালোভাবে নেয়নি। এখানেই উপাচার্য ক্ষান্ত হোননি, উপরন্তু ছাত্রলীগের ঐ অংশের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তিনিই এই হামলার ইন্ধনদাতা। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বৈরাচারী কায়দায় হল ভ্যাকেন্টের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। এমনকি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়। কেড়ে নেয়া হয় সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার। সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা জানাতে চাই, আমাদের আন্দোলন যৌক্তিক এবং শান্তিপূর্ণ।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ও উপাচার্যের দ্বারা ষড়যন্ত্র, সন্তাস ও  নির্যাতনের স্বীকার। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে উপাচার্য এবং তাঁর পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দুর্নিতিতে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলবে। এই ঘিটনার তদন্ত হলে তা চলাকালীন সময়ে এই উপাচার্য তার পদে আসীন থাকতে পারবেন না। কেননা আমরা মনে করি, এই উপাচার্য পদে আসীন থাকা অবস্থায় তদন্থলে, তা  পক্ষপাতদুষ্ট হবে।

তদন্ত চলাকালীন সময়েও উপাচার্যকে অপসারনের দাবিতে আন্দোলন চলবে। আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাংগীন মঙ্গল এবং চলমান মেগাপ্রজেক্টের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য এই উপাচার্যকে অপসারণের কোনো বিকল্প নেই। সংবাদ সম্মেলন শেষে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল সকাল ১১ টায় ফটো অংকন ও বিক্ষোভ মিছিল।

দেশসংবাদ/এফএইচ/বি


আরও সংবাদ   বিষয়:  দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত যাচ্ছে শিক্ষামন্ত্রনালয় ও ইউজিসিতে  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. আবদুস সবুর মিঞা (অব.)
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft