ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ || ১০ ফাল্গুন ১৪২৬
শিরোনাম: ■ বিএনপি’র মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ■ নতুন মোড় নিচ্ছে করোনাভাইরাস, বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক! ■ ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তি চুক্তি ■ করোনার নতুন আতঙ্ক, আক্রান্ত হলেও প্রকাশ পাচ্ছে না লক্ষণ ■ টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ■ ঈশ্বরদীতে বাসের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ■ রোববার বিটিআরসিকে ১ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে গ্রামীণফোন ■ সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশি আইসিইউতে ■ আরব আমিরাতে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশি আক্রান্ত ■ তরুণদের উদ্দেশ্যে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী ■ ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ ■ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহান নিহত
অপরাধ বিজ্ঞানের জগতে হোক আপনার পথচলা!
মোঃ শাহ জালাল
Published : Monday, 9 December, 2019 at 12:57 PM, Update: 09.12.2019 1:13:14 PM

মোঃ শাহ জালাল

মোঃ শাহ জালাল

শুরুটা করতে চাই ব্যক্তিগত এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। তখন নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যায়নরত। ফলে সমাজবিজ্ঞান বিষয় পড়তে হতো রীতিমত।

তখন আনাড়ি চিন্তক আমি যখন বই পড়তে গিয়ে দেখি, অপরাধবিজ্ঞানি আবুল হাসনাত এর উদ্ধৃতি যে “বাংলাদেশে চরাঞ্চলের মানুষদের অপরাধ প্রবণতা বেশি”। তখন অনেকটা বোকার মতো নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম অপরাধের বিজ্ঞানিও হয় নাকি আবার? এই বিস্ময়কর প্রশ্নের উদয় শুধুই কি আমার? মনে হয় আপনার, আমার এবং সবার। এখনও পর্যন্ত অনেকের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগ এমনকি অপরাধবিজ্ঞান বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অজানাতেই রয়েছে এবং অনেকাংশেই তা অস্পষ্ট। আবার অনেকেই রোমাঞ্চিত মন নিয়ে জানতে চায় এই সাব্জেক্ট সম্পর্কে।আসুন তাহলে প্রবেশ করি অপরাধ বিজ্ঞানের রহস্যময় সেই জগতে!

সময়ের সাথে সাথে সমাজ পরিবর্তনশীল। সেই আদি কমিনিউজম থেকে আজকের এই পুজিঁবাদ সমাজের জয়জয়কার সমাজ পরিবর্তনেরই ফসল। এমনকি  অপরাধ,অপরাধের ধরণ এবং অপরাধ করার যে কৌশল এবং এর ব্যপ্তিও কিন্তু আগের জায়গায় স্থির নয়। সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে অপরাধও তার রং বদলায়, পাল্টায় তারঁ রূপ ও প্রকৃতি। একসময় চুরি, ডাকাতি ও সাধারন রায়োট সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিলক্ষিত ছিল। বর্তমানে গুম,ধর্ষণ,হত্যা,নারী ও মানব পাচার এমনকি দূর্নীতি, মাদক-ইয়াবা সহ ড্রাগ সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো বেড়েই চলছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রভাব এবং সাইবার ক্রাইমের মত ভয়াবহ অপরাধগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে যা একটা সমাজ, একটা রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ কিন্তু আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। ফলে অপরাধ বিষয়ক শিক্ষা হওয়া চাই প্রাতিষ্ঠানিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক যা অপরাধ প্রতিরোধে ফলপ্রসূ হবে।

এ প্রয়োজন অনুভূত ও পূরণ হওয়ার লক্ষ্যেই ২০০৩ সালে ডিপার্টমেন্টের জনক শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. ইউসুফ শরীফ আহমদ খান স্যারের হাত ধরে ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ(সিপিএস) বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়াতে প্রথম যাত্রা শুরু করে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অপরাধ ও যে পড়বার বিষয় তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় বাংলাদেশের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়াও এখন বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়ানো হচ্ছে অপরাধবিজ্ঞান। বর্তমান বাংলাদেশে অপরাধের যে প্রবণতা ও ভিন্নতা উত্থিত হচ্ছে নিঃসন্দেহে অপরাধবিজ্ঞানের ব্যাপ্তি, চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তা ক্রমান্বয়ে আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।

কি পড়ানো হয়?

অনেকেরই জিজ্ঞাসা থাকে মূলত কি পড়ানো হয় এই অপরাধবিজ্ঞানের জগতে? অপরাধ বিজ্ঞান মূলত বহুমাত্রিক বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয়। অপরাধ বিজ্ঞান অপরাধ এবং অপরাধ আইনের সামজিক প্রেক্ষাপট, অপরাধ প্রবণতার কারণ, অপরাধের ধরণ- প্রকৃতি এবং অপরাধমূলক আচরণের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে গবেষণা করে। বস্তুত কোন আর্থ- সামজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অপরাধ আইন প্রণীত হয়, কেনই বা অপরাধ সংঘটিত হয়, কোন অপরাধ কি ধরনের শাস্তি ও কোন ধরনের সংশোধনীমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং কিভাবে অপরাধের প্রতিরোধ সম্ভব এসব বিষয় অপরাধ বিজ্ঞানে পঠিত হয়। এমনকি বিভিন্ন তাত্ত্বিক দৃষ্টকোণ থেকে অপরাধ সংঘটনের কারণ উদ্ধার করতে পারবেন এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেলে।

অপরাধবিষয়ক জ্ঞান ছাড়াও আপনি পেতে পারেন মানবাধিকার, কিশোর অপরাধ, সংবিধান থেকে শুরু করে বাংলাদেশের দন্ডবিধি,ফৌজদারী ও সাক্ষ্য আইনের মত বিভিন্ন আইন,এডমিনিস্ট্রেশন কোর্সের মাধ্যমে দেশের সরকার ব্যবস্থা,শাসন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান। এমনকি পাবেন রিসার্চ, সিকিউরিটি, ইনভেস্টিগেশন, ফরেন্সিক সায়েন্স, ফিলোসফি, সাইকোলজি, মিডিয়া, সন্ত্রাসবাদ  এবং সমসাময়ীক ইস্যুর বিভিন্ন তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বহুমাত্রিক বিষয়ের জ্ঞানের স্বাদ। পাশাপাশি অপরাধ দমনে ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে পুলিশের ভূমিকা, বাংলাদেশ পুলিশেরর প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, পুলিশদের অবস্থান, পুলিশ- জনগন সম্পর্ক কেমন হওয়া চাই, পুলিশের সীমাবদ্ধতা এমনকি কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে এসকল বিষয়ে অবগত হবেন একটু ভিন্ন আঙ্গিকে।

কেন পড়বেন অপরাধ বিজ্ঞান?


কি আপনি কি ভাবছেন অপরাধ বিজ্ঞানে পড়ে  গতানুগতিক সেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এর অংক কষবেন! ফিজিক্সের থিওরি অভ রিলেটিভিটি নিয়ে চিন্তা করবেন কিংবা গবেষণাগারে এসিড ক্ষার টেস্ট করবেন?সাদা এপ্রোন পড়ে ডাক্তার সাহেবের ট্যাগ লাগাবেন নাকি দালান কোঠা নির্মাণ করবেন? এর কোনটাই আপনাকে করতে হবে না! আসুন  কিছুক্ষণের জন্য একটু কল্পনার রাজ্য থেকে ঘুরে আসি।আপনার কল্পনার বাহিরে আরও বেশি রোমাঞ্চকর বিষয় পঠিত হয় অপরাধ বিজ্ঞানে। অপরাধ বিজ্ঞানে আপনি সিগমেন্ড ফ্রয়েডের মত করে মানুষের মনকে বিশ্লেষণ করতে পারবেন। মগ্ন থাকতে পারবেন মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জগত নিয়ে। ফ্রয়েড সাহেব শিখাবে আপনাকে অপরাধের নেপথ্যে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলি কিভাবে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। অন্যদিকে ভদ্রলোক সিজার লম্ব্রোসো শিখাবে অপরাধের সাথে মানুষের শারীরিক গঠনের সম্পর্ক। সাদারল্যান্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন সমাজ ও সমাজ পরিবর্তনের  সাথে মানুষের আচরণের সম্পর্ক এবং যোগসূত্র স্থাপন করতে পারবেন সমাজ কাঠামো ও অপরাধের মধ্যে।

কার্ল মার্ক্সের মাধ্যমে সমাজে শ্রেণী সংগ্রাম তথা পুঁজিবাদ সমাজব্যবস্থা ও সমাজতন্ত্রের জ্ঞানগর্বে অবলীলায় বিচরণ করবেন। সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, হেগেল, বার্ট্রান্ড রাসেল সহ মিশেল ফুকো আপনাকে জ্ঞানের উর্ধ্বে প্রজ্ঞাকে (wisdom) ধারন করতে চিন্তার উদ্রেক ঘটাবে। সেই সাথে  সমাজ, রাষ্ট্র, দেশ ও আন্তর্জাতিক সমসাময়ীক ইস্যু ও রাজনীতি বিশ্লষণে আপনাকে দিবে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা।আইনস্টাইন বলেছিলেন জ্ঞানের চেয়ে কল্পনার জগত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কল্পনাশক্তি প্রখর করতে কিছুটা হলেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে অপরাধ বিজ্ঞানের জ্ঞান। অপরাধ বিজ্ঞান আপনার ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আপনাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতি, আদর্শ, মানবতা ,বিবেকবান ও মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরীতে অনেকাংশেই সাহায্য করবে। আপনি সমাজ ও রাষ্ট্র চিন্তক এমনকি “ওয়েলফেয়ার স্টেট” গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবেন দেশের অন্যান্য নাগরিকের চেয়ে আলাদা ভাবে।

আপনাকে যদি বলি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কি? তাহলে সরদার ফজলুল করিম স্যারের কথায় বলতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ই হলো গবেষণা করা, জ্ঞান চর্চা করা, অন্তরে ও মননে জ্ঞানের বীজ বপণ করার মাধ্যমে জ্ঞানকে পরিস্ফুটিত করা। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ৪০ তম সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন তখন তিনি বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রথম কাজই হলো "না" বলতে শিখা, চ্যালেঞ্জ থ্রো করে দেয়া যার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয়। কথায় আছে তর্কহীন সমাজ মৃতপ্রায়! কাজেই এসকল গুনাবলি যদি আপনি আপনার ব্যক্তি স্বত্ত্বায় লালন করতে চান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের এই চর্চাগুলিকে যদি সমুন্নত রাখতে চান তাহলে কিছুটা হলেও অন্যান্য বিভাগের চেয়ে অপরাধবিজ্ঞানের জ্ঞান এই ক্ষেত্রে অগ্রসর ভূমিকা পালন করবে।ক্যারিয়ারের দিক থেকে অপরাধবিজ্ঞানকে আমি ১০০% নিশ্চয়তা দিচ্ছি না এটা কোন সাবজেক্ট কিংবা বিভাগেই সম্ভব নয়। মনে রাখবেন কোন বিশ্ববিদ্যালয় আপনার ক্যারিয়ার গড়ে দিবে না,তার চেষ্টা আপনার নিজেকেই করতে হবে। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জ্ঞানের পরিপূর্ণ বিকাশের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার জন্য অপরাধবিজ্ঞান হতে পারে আপনার পছন্দের বিষয়।

এছাড়া বিভাগে ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যমন্ডিত করার দ্বারপ্রান্তে পৌছানোর জন্য সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।মাননীয় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক ঘোষণা করেছেন এ বিভাগ থেকে গ্রাজুয়েটদের বাংলাদেশ পুলিশ উপ-পরিদর্শক (সাব ইন্সপেক্টর) ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নিয়োগে আলাদা সুযোগ প্রদান করবে। এমনকি বাংলাদেশের প্রিজন এর সাথে অত্র বিভাগের এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যার মাধ্যমে বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা বাংলাদেশ প্রিজনে ইন্টার্নশীপ ও গবেষণার সুযোগ পাবে। বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপ তো আছেই। যেখানে দেখা মেলবে এএসপি, এসপির মত পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিচারক এবং আইনজীবিদের। এমনকি একাডেমিক ক্লাসেও অনেক সময় থাকে তাদের সরব অবস্থান। ফলে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবস্থান আপনাদের মতো স্বপ্নবাজদের স্বপ্ন পূরণে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

ক্যারিয়ার?

ভার্সিটিতে যখন ছাত্রছাত্রীরা পদার্পণ করেন তখন থেকেই ক্যারিয়ারের চিন্তা মাথায় অনবরত ঘুরপাক খেতে থাকে।ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবজেক্ট চয়েজ এর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ঐ সাব্জেক্টে ক্যারিয়ার কেমন তা বাতলানোর চেষ্টা করে আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না! কাজেই আমার মত ক্যারিয়ার সন্ধানী, স্বপ্নবাজ তরুণদের বলছি বিষয় হিসেবে অপরাধবিজ্ঞান অন্য যেকোনো বিষয়ের সমান কিংবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি উজ্জল। সমান বলছি কারন যারা অপরাধ বিজ্ঞান পড়ে তারা সবাই স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে ভালো করছে।আর বেশি বলছি এই কারনে যে কাউকে পরিপূর্ণ একজন ব্যক্তি হয়ে ওঠতে হলে সব ধরনের পরিস্থিতি ও সমসাময়িক ঘটনার উপলদ্ধির ক্ষমতার সংযোগ ঘটানো শিখতে হবে যেখানে অপরাধ বিজ্ঞান উন্নত ক্যারিয়ারের মাধ্যমে সফলতা এবং সাথে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার সংযোগ স্থল হিসেবে কাজ করে!

“ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স” অপরাধ ও পুলিশ সংক্রান্ত হলেও এর ক্ষেত্র অনেক বেশি বিস্তৃত। এ বিষয়ে অধ্যাপনা করে আপনি দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সহজেই ক্যারিয়ার গড়া এবং একজন চৌকস পুলিশ অফিসার কিংবা গোয়েন্দা হওয়ার লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিসিএসের পুলিশ ক্যাডার (ASP) নামে সতন্ত্র ক্যাডার আছে যেখানে এ বিষয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাধান্য পেতে পারে। এছাড়াও সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা,দুর্নীতি ও অপরাধ দমন কমিশন, ব্যাংকার, মানবাধিকার সংস্থা,বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, সিকিউরিটি এবং ইনভেস্টিগেশন অফিসার ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাতে হতে পারে স্মার্ট স্যালারি সহ আপনার কর্মক্ষেত্র। ইতিমধ্যেই এ বিভাগ থেকে সফলভাবে ডিগ্রি সম্পন্ন করে গ্রাজুয়েটরা তাদের নিজ নিজ যোগ্যতায় এসকল সেক্টরে সুনামের সাথে কর্মরত রয়েছেন।বিশেষ করে বর্তমানে অনেকেই বাংলাদেশ কর্মকমিশনের অধীনে বিসিএসে প্রশাসন, পুলিশ ক্যাডার সহ বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মরত।

যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,অষ্ট্রেলিয়া,জার্মানি,নেদারল্যান্ড সহ এশিয়ার কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনোলজি বিষয়টি বেশ সুনামের সাথে পড়ানো হচ্ছে।ফলে আন্তর্জাতিকভাবেও এ বিষয়ের ক্যারিয়ারের বিস্তৃতি অনেক।দেশের বাহিরে বৃত্তিসহ এ বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করছে ও অনেকে অধ্যায়নরত রয়েছে।

কারা পড়বে অপরাধবিজ্ঞান?

ক্যারিয়ারের পাশশাপাশি যদি আপনি হয়ে থাকেন স্বপ্নবাজ,জ্ঞানের প্রতি যদি থাকে আপনার তীব্র তৃষ্ণা। জীবনের সাদা কালো স্বপ্ন গুলো যদি রাঙাতে চান, চ্যালেঞ্জিং কিছু করার তীব্র আকাঙ্খা যদি মনে পোষে থাকেন, যদি ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখতে চান সমাজ ও রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা তথা রাজনীতিকে, বাংলাদেশে থেকেই যদি দাপিয়ে বেড়াতে চান পুরো বিশ্বে, থাকব না কো বদ্ধঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে এই সংকল্প যদি হয় আপনার কিংবা শিক্ষার উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ব অর্জন করা যদি হয় আপনার জীবনের প্রয়াস,যদি আপনি রেঁণেসা ম্যান হতে চান, পুলিশ হওয়ার স্বপ্নে যদি থাকেন বিভোর সর্বোপরি একজন মহৎ,মানবতাবাদী, দেশপ্রেমী ও আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে যদি রাখতে চান আপনার ভূমিকা তাহলে আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষকদের জ্ঞানধর্মী ক্লাস!

আসুন, নিজেকে পরিপূর্ণ করুন এবং বিশ্বকে জয় করুন!

লেখক
মোঃ শাহ জালাল
শিক্ষার্থী, চতুর্থ বর্ষ, ১৩ তম ব্যাচ
ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  অপরাধ বিজ্ঞান   মোঃ শাহ জালাল  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft