ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ || ১৩ মাঘ ১৪২৬
শিরোনাম: ■ বিএনপি তো অ্যানালগ, ডিজিটাল না ■ ইশরাকের বাসায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার ■ স্থগিত হতে পারে বাংলাদেশ-চীন গমনাগমন ■ ৩ দিনে ই-পাসপোর্টের জন্য ২ হাজার আবেদন ■ তাবিথ আউয়ালের প্রার্থিতা বাতিলে হাইকোর্টে রিট ■ করোনাভাইরাসের তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন ■ ইসির অভ্যন্তরেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই ■ ১১ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ■ দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস ■ গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি চীন ■ ময়মনসিংহে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ ■ চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১ লাখ
ছাত্রলীগ বাংলার সোনালী অর্জন
নাহিদ মাহমুদ সাকিব
Published : Saturday, 4 January, 2020 at 12:19 PM, Update: 04.01.2020 12:23:31 PM

নাহিদ মাহমুদ সাকিব

নাহিদ মাহমুদ সাকিব

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে ভারত এবং ১২০০ মাইলের ব্যবধানে দুই ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতির দুই দেশ মিলে হল পাকিস্তান নামক এক অবাস্তব রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরে এলেন। ফেরার সময় তিনি তাঁর বন্ধুদের বলেছিলেন, ‘যে পাকিস্তানের জন্ম হলো তা আমাদের জন্য নয়, আমাদের আবার লড়াই করে আপন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।’ ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি প্রথম পর্বে ভর্তি হন। তিনি শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানে বাঙালিরা অবহেলিতই থাকবে। বঙ্গবন্ধু বাঙালিরদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন তারুণ্যের শক্তি অপ্রতিরোধ্য। তাদের পিছুটান নেই। তাই তরুণদের নিয়েই সংগঠনটি হওয়া দরকার। তিনি তরুণদের সংগঠিত করতে থাকলেন।

দেশ ভাগের মাত্র ৬ মাস পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের এ্যাসেম্বলিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনকার একঝাঁক সাহসী তরুণদের নিয়ে গঠন করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। একই সাথে সকল জাতি ধর্ম তথা সর্ব বর্ণবাদবিহীন তরুণদের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ থেকেও  মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ নামকরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের প্রথম আহ্বায়ক নির্বাচিত করেন নাঈমুদ্দিন আহমদকে, এরপর যখন ছাত্রলীগ রাজপথে কার্যক্রম শুরু করে তখন দবিরুল ইসলামকে সভাপতি, খালেক নেওয়াজ খানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।

১৯৫২ সালের ‘মহান ভাষা আন্দোলন’ এ নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সংগ্রামী যাত্রা পথের সূচনা হয় ছাত্রলীগের। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাষা আন্দোলন জোরালো করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ গৌরবোজ্জল ভূমিকা রাখে। ‘রাষ্টভাষা বাংলা চাই’ আন্দোলনে যে কজন তেজোদীপ্ত তরুণ ছাত্রনেতা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে প্রথম সারির নেতা ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মুহাম্মদ দবিরুল ইসলাম।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

১৯৬২ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের অনুকূলে তৎকালীন আইয়ুব খান সরকার একটি গণবিরোধী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিল। সেই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণআন্দোলন ও গণজাগরণ সৃষ্টি করে।

১৯৬৬ সালে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সারা বাংলার মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সনদ ৬ দফার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধু’র নির্দেশে সেসময়কার ছাত্রনেতারা জেলায় জেলায় অবস্থান সুদৃঢ় করে ছয় দফার সপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান।

১৯৬৯ সালে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালে বাংলার ছাত্রসমাজ সারাদেশে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলে, যা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বাংলার ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেন, যা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করে।

১৯৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুস জয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের সমাবেশে বলেছিলেন, ‘দানবের সঙ্গে লড়াইয়ে যে কোনো পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। ২৩ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি। প্রয়োজনবোধে বুকের রক্তগঙ্গা বইয়ে দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে  ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে ছাত্র সংগ্রাম পষিদ গঠিত হয়। নূরে আলম সিদ্দিকী, তোফায়েল আহমেদ, আসম রবসহ তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে প্রতিটি জেলায়, উপজেলায়, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে এই সংগঠনের ১৭ হাজার বীর যোদ্ধা তাদের বুকের তাজা রক্তে এঁকেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক সার্বভৌম মানচিত্র।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নিকৃষ্টতম দিনে খন্দকার মোশতাক আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বাংলার গৌরব রবি যায় অস্তাচলে, কালো মেঘ গ্রাস করে বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশ।

বাঙালির ভাগ্যাকাশ পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। সেই থেকে তার পাশে থেকে পরীক্ষিত ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করছে ছাত্রলীগ।

১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শিক্ষা আন্দোলন ও  ছাত্রঐক্যের ১০ দফা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

২০০১-২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলেও ছাত্রলীগের অগণিত নেতা কর্মীরা জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলে ঢুকে ছাত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ছাত্রলীগ সেদিন শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীদের সম্ভ্রমহানির হাত থেকে রক্ষা করে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বিতর্কিত সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আটক করলে, নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে প্রথম সাহসী উচ্চারণ তুলেছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের কর্মীরাই।

আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ঘূর্ণিঝড়-বন্যা সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাঠদান কর্মসূচি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের নিয়মিত চর্চা।

ছাত্রলীগ কর্মীদের বুকপকেটে তিনবেলা খাবার খাওয়ার টাকা না থাকলেও, বুক পাঁজরে থাকে প্রিয় স্বদেশ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা। স্বদেশের প্রশ্নে ছাত্রলীগ কোনোদিন আপোষ করেনি। যতবারই বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা হয়েছে ততবারই ছাত্রলীগের অকুতোভয় যোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে কলজে কাঁপানো মিছিলে। বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ছাত্রলীগের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্বর্নাক্ষরে লেখা আছে। তাইতো বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস’।

বাঙালির স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে দীর্ঘ সাত দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে স্বদেশ গড়ার সংগ্রামে আত্মত্যাগের ইতিহাস সংঠনটিকে পরিনত করেছে বাংলার সোনালী অর্জনে। সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে পদার্পণ করতে চলছে গৌরব, ঐতিহ্য,সংগ্রাম ও সাফ্যলের ৭২তম বছরে। এভাবেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ ধারণ করে ছাত্রলীগ দীপ্তি ছড়াবে যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী।

নাহিদ মাহমুদ সাকিব
শিক্ষা ও পাঠচক্র উপ-সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
Email: [email protected]


দেশসংবাদ/এনএমএস/এফএইচ/mmnh


আরও সংবাদ   বিষয়:  ছাত্রলীগ   নাহিদ মাহমুদ সাকিব  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft