ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১ জুন ২০২০ || ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ স্ত্রী-পুত্রসহ আক্রান্ত নজরুল ইসলাম মজুমদার ■ আগামি ১ মাসে আক্রান্ত হবে দেশের ৮০ ভাগ মানুষ ■ ধেয়ে আসছে আরেক ঘূর্ণিঝড় ■ ফল ভাল করেও পছন্দের কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত ■ জুলাইয়ে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার ■ স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চে চলাচল করতে হবে ■ উবার-পাঠাওসহ সব রাইড শেয়ারিং সেবা বন্ধ ■ মাস্ক না পরলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, ৬ মাসের জেল ■ জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলের বিলম্ব মাশুল নেয়া হবে না ■ ঢাকার বাইরে যাওয়াদের সংসদে প্রবেশ বারণ ■ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অব্যাহত, সাংবাদিক গ্রেপ্তারে ক্ষমা প্রার্থনা ■ শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু, সূচকের বড় উত্থান
মালয়েশিয়ায় লকডাউনে কেমন আছেন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা
কায়সার হামিদ হান্নান, মালয়েশিয়া
Published : Thursday, 2 April, 2020 at 11:29 PM, Update: 03.04.2020 12:25:08 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে ক্রমশই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আজ ০৫ জন মারা গেছেন। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২০৮ জন। সর্বমোট- মৃত্যু ৫০ জন, আক্রান্ত ৩১১৬ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ঠেকাতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পর্যটন নগরী মালয়েশিয়ায় চলছে লকডাউন। ঘোষিত লকডাউনের আজ ১৬তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ বেঁধে দেয়া এ আদেশ বাড়িয়ে তা চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। মরণঘাতি করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সর্বসাধারণের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে আনতে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। বিনাকারণে ঘর থেকে বের হলেই করা হচ্ছে জেল জরিমানা। সরকারের দেয়া নিয়ন্ত্রণ অমান্য করায় আটক করা হয়েছে প্রায় ৮২৮ জনকে। এ অবস্থায় বাংলাদেশিসহ সকল প্রবাসী সহ প্রবাসী বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীরা চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করছেন। এই লক ডাউনে তাদের সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন দেশ সংবাদের সাথে। নিম্নে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হলো-

জহিরুল ইসলাম

জহিরুল ইসলাম

আমি জহিরুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়াতে পিএইচডি করছি। পাশাপাশি বাংলাদেশী স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছি। করোনা ভাইরাস কবলিত মালয়েশিয়ায় আমরা ভালো আছি। আমাদের ইউভার্সিটিতে প্রায় চারশত বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী অধ্যায়ন করছেন। যারা হোস্টেলে আছেন তাদের জন্য ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে তিন বেলা ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং যারা বাহিরে আছেন ইউনিভার্সিটি পক্ষ থেকে তাদেরও খোঁজ খরব নিচ্ছেন।

এখানকার গ্রোসারি সুপারশপগুলো বিকাল পর্যন্ত খোলা থাকে। আমরা প্রয়োজনমত জিনিস কিনতে পারি। তবে বিনা প্রয়োজনে বাহিরে বের হওয়া উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমরা ভালো আছি আমাদের নিয়ে আপনারা চিন্তা কবরবেন না। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাদেরকে ভালো রাখুন। এছাড়াও বাংলাদেশী স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মালয়েশিয়া(বিএসইউএম) এর পক্ষ থেকেও আমরা মালয়শিয়র সকল ছাত্র ছাত্রীদের খুঁজ খবর নিচ্ছি। এখনো মালয়েশিয়ায় প্রায় ছয় হাজার বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী  অবস্থান করছেন।

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (পিএইচডি অধ্যায়নরত) সভাপতি
বাংলাদেশী স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মালয়েশিয়া (বিএসইউএম)

জয়নাবা রাত্রী

জয়নাবা রাত্রী

চা হাতে জানালায় দাড়িয়ে নিজ মনে এতটুকু উপলব্ধি করলাম, ভালো আছি সুস্থ আছি এটাই অনেক বড় পাওয়া। সম্প্রতি দেখা দেওয়া কভিড-১৯ এ মালশিয়াতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্দি পাচ্ছে। আমেরিকা আর জার্মানের মত উন্নত দেশগুলোকেও আজ খুব অসহায় লাগছে। 

নভেল করোনা আমাদের কাছ থেকে যা নিয়ে গেছে তা অপূরনীয় কিন্তু আমরা যদি এর থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অহিংস পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি তাহলে ক্ষতি কি।

গত তিন বছর মালয়েশিয়াতে পড়াশুনা করছি, মাস কয়েক পরে গাউন পরে কনভেনশন নিয়ে দেশে ফিরে যাবো। আমাদের প্রত্যাশায় অপেক্ষায় আছে পরিবার ও আপনজনেরা। পড়াশুনার পাশাপাশি চাকুরী করছি একটি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিতে। আগেও যেমন একটা সময় পেতাম না, সময় এখনো নেই এত ভাবার। সময় মতো অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম মানে হোস্টেলে বসে অফিসের কাজ ও করছি নিয়মিত। 

নিজেই রান্না করে খাচ্ছি আর ইউনিভার্সিটি খাবাদের দায়িত্ব নিয়েছে হেস্টেলে থাকা সকল শিক্ষার্থীদের। হ্যা ভয় কাজ করে তবে  আতঙ্কিত হয়ে ভুল তথ্য দিয়ে বা সব কিছু বিশ্বাস করে ঘাবড়ে যওয়ার চেয়ে থাকি না সব কিছু থেকে একটু দুরে কয় এক টা দিন নিজের সাথে না হয় সময় কাটাই। আমরা যারা বাবা-মায়ের কাছ থেকে দুরে আছি আমরা যা বলবো বাবা-মা বা পরিবার কিন্তু তা সহজেই বিশ্বাস করবে চিন্তিত হবে, তাদের শরীর খারাপ হবে তাই আমি মনে করি হুট-হাট করে যে কোন তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করে করে পরিবারের সাথে যতক্ষন কথা হয় হাসিখুশি ভাবে স্বাভাবিক কথা বলাই ভালো। 

আর যদি নিজেকে একটু সময় দেওয়া যায় বা সেলফ ডেভেলপমেন্ট যাকে বলে, তা হলে আর একটু ভালোর সাথে থাকা যায়। আমি ভালোর সাথে থাকায় বিশ্বাসী। প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিক ও আছে। যেহেতু এখনো কোনো ঔষধ এই ভাইরাসের জন্য কার্যকর ভাবে কাজ করছে না সেহেতু ঘরে থেকে নিজেকে সময় দেওয়াই বড় ঔষধ বলে মনে করছি।

এই মুহুর্তে সকল কে অনুরোধ করবো মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে সবাই প্রাথনা করুন, তিনি যেনো আমাদের ভালো রাখেন। আর এই জীবন টাকে বন্ধি কারাগার না ভেবে নিজের কাজে সময় দিন। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন মানষিক ভাবে শক্ত হোন। নিজের যদি কোন ইচ্ছে থাকে তা পুরন করুন, ভালো আঁকতে পারলে আঁকুন, ভালো ডিজাইন পারলে ডিজাইন করুন৷ হাতে পযাপ্ত সময় থাকলে অনলাইনে বিভিন্ন ক্লাস করুন৷ আর যারা রান্না না পারার কারনে মজার মজার ঘরোয়া স্বাস্থকর খাবার থেকে বঞ্চিত হতেন তারা রান্নাটাও শিখে নিতে পারেন ইউটিউব দেখে আর সাহায্য প্রয়োজন হলে আমরা তো আছি। ভেঙ্গে যাওয়া বা দুশ্চিন্তার কিছু নেই এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সচেতনতাই মূখ্য।

জয়নাবা রাত্রী
ব্যাচেলর অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সেগি বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা-দামানসারা।

জেসমিন মোহাম্মাদ জেবারাল হক

জেসমিন মোহাম্মাদ জেবারাল হক

আমি জেসমিন মোহাম্মাদ জেবারাল হক, মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটির একজন পিএইচডি ক্যান্ডিডেট। লকডাউনের সরকারি ঘোষণার পরই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ও পুরোপুরি লকডাউন করে দেয়া হয়। কেও বের হতে পারবে না এবং বাহির থেকে কিছু সময়ের জন্য ঢুকতে হলে ফ্যাকাল্টি ডিন এবং নিরাপত্তা প্রধানের অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে। হোস্টেলে অবস্থানরত ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রি খাবার সরবরাহ করছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভালই সহযোগিতা করছে। আন্ডারগ্রেড ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে এবং পোস্টগ্রেজুইয়েট রিসার্চ এসিস্ট্যান্টদের বাসায় বসে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সকল স্টাফদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, ফলে যে কোন সমস্যায় আমরা ইমেইল কিংবা ফোনে সমাধানের জন্য সহজেই যোগাযোগ করতে পারছি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকি, সবাই যেহেতু অতিরিক্ত খাবার আগেই কিনে রেখেছিলাম এবং সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মুদির দোকান খোলা থাকে, তাই খাবার নিয়ে কোন ঝামেলায় আমরা এখনো পড়িনি।

জেসমিন মোহাম্মাদ জেবারাল হক
মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটির

সামছুন নাহার ইরা

সামছুন নাহার ইরা

আমি সামছুন নাহার ইরা। আমি মলোশিয়ার জিওমাটিকা ইউনিভার্সিটি কলেজ এ বিবিএতে পড়ি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে আমাদের সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন। তবে এই সময় সকল প্রকার পাঠদান বন্ধ আছে তবে অনলাইনে পাঠদান এর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য চেষ্টা করছি। সরকার এবং প্রশাসন থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম লকডাউন ছিল যা আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আশা করি যদি এই সময় আমরা সঠিক নিয়ম কানুন মেনে চলি এই অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি পাবো। সর্বশেষ বলতে চাই সকল পক্ষের আন্তরিক চেষ্টায় আমরা সকলে ভালো আছি, নিরাপদে আছি। আলহামদুলিল্লাহ।

সামছুন নাহার ইরা
জিওমাটিকা ইউনিভার্সিটি কলেজ

মির্জা মুস্তাফিজুর রহমান

মির্জা মুস্তাফিজুর রহমান

মালয়েশিয়াতে ধীরে ধীরে করোনা ভাইরাস ব্যাপক আকার ধারন করছে। এখানে অবস্থিত আমরা যারা বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী আছি, তারা প্রথম দিকে কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম তার মধ্যে অন্যতম হলো-

১। যদি কোনো ছাত্র করোনা তে আক্রান্ত হয় তাহলে কার সাথে কিভাবে যোগাযোগ করতে হবে, আমাদের ইন্সুরেন্স চিকিৎসার খরচ বহন করবে কি না।

২। লোকডাউনের সময়ের মধ্যে যাদের ভিসা পুনরায় নবায়নের সময় হবে তারা কি করবে । কারণ লোকডাউন এর এই সময়কালীন সকল প্রকারের ভিসা নবায়ন স্থগিত করা হয়েছে।

এই বিষয় নিয়ে আমরা নিজ নিজ ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্ট এর সাথে যোগযোগ করলে তারা আমাদের কে আসস্থ করে যে, যে কোনো ধরণের সমস্যা হলে তাদের কে ভার্সিটিকে আগে জানাতে হবে এবং ভার্সিটি সকল ধরণের সহযোগিতা করবে। এছাড়া ও আমাদের ইউনিভার্সিটি তাদের অনলাইনে একটি ডাটাবেজ তৈরী করেছে যেখানে আমাদেরকে প্রত্যেকদিন আমাদের অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আপডেট দিতে হচ্ছে। এছাড়াও আমাদেরকে মাঝে মাঝে ফ্রি প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বাসায় এসে দিয়ে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা এখানে ভালো আছি। এছাড়া ও মালয়েশিয়া তে অবস্থিত বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন বিএসইউএম ও আমাদের সার্বক্ষণিক খোজখবর রাখছে।তবে দেশ কে নিয়ে আর দেশে অবস্থিত আমাদের পরিবার পরিজনদের নিয়েই আমরা বেশি চিন্তিত।

মির্জা মুস্তাফিজুর রহমান
ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলিক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং
আল মাদীনাহ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া।

এহসানুল হক খান শুভ

এহসানুল হক খান শুভ

আমি এহসানুল হক খান শুভ, ইউনিভার্সিটি টেকনিক্যাল মালয়েশিয়া মেলাকা (ইউটিইএম) এ অধ্যয়নরত আছি। মালয়েশিয়ার অন্যান্য স্টেটের চেয়ে মেলাকাতে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ তূলনামূলক কম। দু’জন মৃত্যু বরণ করেছে। উল্লেখঃ মেলাকাতে প্রায় ৫০-৬০ বাংলাদেশি ছাত্র পড়াশোনা করছে। বেশির ভাগ অফ ক্যাম্পাসে থাকছে। যারা হোস্টেলে আছে তাদেরকে ইউনিভার্সিটি থেকে প্রয়োজনীয় খাবার ও ইন্যান্য সহযোগীতা করছে। বাহিরে অবস্থানরত ছাত্র-ছাত্রীদের শুকনা খাবার দেয়া হচ্ছে। কোন ইন্টারন্যাশনাল ছাত্র-ছাত্রী যদি করোনায় আক্রান্ত হয় ইউনিভার্সিটি সকল ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা দিয়েছে। আপাত ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ আছে। এর পর অনলাইনে ক্লাস হবে কিনা এ বেপারে কোন নির্দেশনা এখনো আসেনি। কিছু কিছু কোর্সের মিড-সেমিস্টার টেস্ট অনলাইনে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। চলমান সেমিস্টার বাতিল বা পেছানো হবে কিনা এ ব্যাপারে  কিছুই জানা যায়নি এখনো। সব মিলিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা অনিশ্চয়তায় মর্ধে  আছে।
 
এহসানুল হক খান শুভ
ইউনিভার্সিটি টেকনিক্যাল মালয়েশিয়া, মেলাকা।

মোহাম্মাদ বুরহান উদ্দিন

মোহাম্মাদ বুরহান উদ্দিন

আমি একজন পিএইচডি ক্যান্ডিডেট হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটি মালয়শিয়া এ পড়াশোনা করছি। এর পাশাপাশি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট সোসাইটি এর সাধারণ সম্পাদক এবং বিএসইউএম এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বেলাই বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে যার জন্য খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। 

এছাড়াও কিছু মুদির দোকান সীমিত পরিশরে খোলা আছে তাই যার যা দরকার তা কিনতে পারছে। আর এর সবই হচ্ছে ক্যাম্পাস এলাকার ভেতর, যার জন্য আমাদের বাইরে যাবার প্রয়োজন হচ্ছে না আর প্রশাসনও আমাদের ক্যাম্পাস এলাকার বাইরে যাবার অনুমতি দিচ্ছে না। তবে যেহেতু এখন লকডাউন চলছে তাই যারা বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী এখানে আছে তারা নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারছে না বিভিন্ন কারনে। তবে বাংলাদেশি ছাত্র ছাত্রীরা দেশে যাবার জন্য মালয়শিয়াতে বাংলাদেশ এম্বাসীর সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। একই সাথে ভিসা নবায়ন নিয়েও চিন্তিত তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার থেকে যথাযথ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর ভেতরের ক্লিনিকও চালু আছে যার ফলে সাধারন রোগের চিকিৎসা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে এতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যদিও আশেপাশের এলাকাকে রেড জোন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কিন্তু আশার কথা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখনো করোনায় আক্রান্ত এর খবর পাওয়া যায়নি। আশা করি আমরা ধীরে ধীরে এই পরিস্তিতি থেকে মুক্তি পাবো।

মোহাম্মাদ বুরহান উদ্দিন
পিএইচডি ক্যান্ডিডেট
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটি মালয়শিয়া।

অনিক বরকত

অনিক বরকত

আমি অনিক বরকত ,ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া পড়ছি। লক ডাউন পিতা মাতা ছেড়ে থাকা  খুব কষ্টকর। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে আমাদের সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন। তবে এই সময় সকল প্রকার পাঠদান বন্ধ আছে তবে অনলাইনে পাঠদান এর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য চেষ্টা করছি। সরকার এবং প্রশাসন থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন থেকে আমাদের খোঁজ নিচ্ছে।তবে এই পরিস্থিতে সবাইকে ঘরে থাকা উচিত। 
 
অনিকা বরকত
ইকোনোমি এন্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্যাকাল্টি বিবিএ (৩য় সেমিস্টার)
ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (ইউপিএম)

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আইশি


আরও সংবাদ   বিষয়:  মালয়েশিয়া   বাংলাদেশ   শিক্ষার্থী  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
আপনি কি করোনা আক্রান্ত? তাহলে যা করবেন
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up