ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৩০ মে ২০২০ || ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ ৫ম দফায় ভারতে লকডাউন আরও ১ মাস বৃদ্ধি ■ জ্বলছে আগুন, চলছে ভাঙচুর-লুটপাট, জরুরি অবস্থা জারি ■ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ■ ঢাকা মেডিকেল করোনা ইউনিটে ২৩ জনের মৃত্যু ■ করোনা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের আরো সম্পৃক্ত হতে হবে ■ বাড়ছে না ট্রেনের ভাড়া, টিকিট অনলাইনে ■ চীনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিশোধের ঘোষণা ■ ভারতে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি ■ শপথ নিলেন ১৮ বিচারপতি ■ দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল! ■ ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ১৭৬৪, মৃত্যু ২৮ ■ লিবিয়ায় যেভাবে প্রাণ গেল ২৬ বাংলাদেশির
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ৭ হাজার, আক্রান্ত ৩ লাখ
বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক
Published : Saturday, 4 April, 2020 at 11:51 AM, Update: 07.04.2020 9:39:44 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

করোনাভাইরাসে মৃত্যু

করোনাভাইরাসে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার একদিনেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৩ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। মার্কিন বাংলা গণমাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৭৫ হাজার ৬৭১। এর মধ্যে সাত হাজার ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪১ জন। এদিন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫০জন।

এদিকে দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৮১টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪। এর মধ্যে ৫৮ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছে দুই লাখ ২৫ হাজার ৪২২ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

করোনাভাইরাসে মৃত্যু

করোনাভাইরাসে মৃত্যু


এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৫ জন প্রবাসীর। এর মধ্যে নাম পরিচয় জানা গেলেও পারিবারিক আপত্তির কারনে তা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ৬০ জন বাংলাদেশি। প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আগামী দুই সপ্তাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আশংকাজনহারে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এক দু’সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটির বেশি মানুষ কর্মহীন ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। শুধু নিউ ইয়র্কে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন প্রায় চার লাখ লোক। নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি ও কানেকটিকাটের কর্মহীন মানুষদের অনেকেই জানিয়েছেন, বেকার ভাতার জন্য ওয়েবসাইটে আবেদন করার কথা বলা হলেও, বিষয়টি খুব সহজ নয়। এত আবেদনের চাপ নিতে পারছে না সাইটগুলো। বারবার চেষ্টা করে অনেকেই বিফল হচ্ছেন। অনেকেই ১০/১২ ঘণ্টা চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট বিভাগে ফোনে সংযোগ পাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ ৭ দিন ধরে অনবরত ফোন ক্রেই যাচ্ছেন কিন্তু কোনো জবাব পাচ্ছেন না। বারবার চেষ্টা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নানা মহল থেকে। এসব আবেদন সামাল কীভাবে দেওয়া হবে, কেউ জানেন না।

বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, নাগরিক সুবিধার অর্থ দুই সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। যাদের ২০১৯ বা ২০১৮ সালের ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে ব্যাংকের তথ্য দেওয়া নেই, তাদের ব্যাংকের তথ্য দেওয়ার জন্য আইআরএস তাদের ওয়েবসাইটে নির্দেশনা দিচ্ছে। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা স্বেচ্ছাকর্মী, তারা করোনা দুর্যোগের জন্য ‘এসবিএ’ অনুদান বা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজে বা কারও সহযোগিতা নিয়ে এসব অনলাইন আবেদন দ্রুত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কবে আবার লোকজন কাজে ফিরবে-কেউ কিছু বলতে পারছে না।

কুইন্স হসপিটাল

কুইন্স হসপিটাল


এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বৃহস্পতিবার বলেছেন, তাঁদের হাতে আর মাত্র ছয় দিনের ভেন্টিলেশন দেওয়ার সরঞ্জাম মজুদ আছে। ফেডারেল সরকার থেকে দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

এর মধ্যে নিউ ইয়র্ক নগরীতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জন্য রোগীকে প্যারামেডিকরা ‘অন দা স্পট’ ফেরাতে না পারলে হাসপাতালে না আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো হাসপাতালেই নিয়মিত রোগীদের জন্য কোনো ঠাঁই নেই। আগে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার পর ডাক্তাররা শেষ চেষ্টা করতেন রোগীকে বাঁচানোর জন্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালে স্থান না থাকার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে আরও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

নিউ ইয়র্কে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫শ'র বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। নগরীর ঘনবসতি এলাকাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশি আমেরিকান একজন চিকিৎসক জানান, ‘আমাদের পরিবারগুলো এখনো পুরো কোরেন্টাইন ব্যবস্থা মেনে চলছেন না। অনেকে নিজেই জানেন না, তিনি ভাইরাস বহন করছেন। অনেকের শরীরে এ ভাইরাসের লক্ষণ তীব্র নয়। কিন্তু তাঁর মাধ্যমে অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশি ডায়াবেটিক রোগী। ডায়াবেটিক ও অ্যাজমা রোগীদের বেশি করে কাবু করছে ভাইরাসটি।’

অপর এক বাংলাদেশি চিকিৎসক জানিয়েছেন, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও রোগীদের মধ্যে ৩০ শতাংশের ফলাফল নেগেটিভ আসছে। ফলে নেগেটিভ আসলেই করোনামুক্ত বলা যাবে না। এ বাহকের কাছ থেকে অন্যদের শরীরে তা ছড়িয়ে পড়ছে অজান্তে। ফলে এ সময়ে সর্বক্ষেত্রে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি প্রত্যেকের ঘরে থার্মোমিটার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে শরীরের জ্বর মাপা সম্ভব হবে। এ ছাড়া 'পালস অক্সিমিটার নামের একটি ছোট যন্ত্র রাখতে হবে, যা সহজলভ্য। অক্সিমিটার দিয়ে সহজেই রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করা যাবে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪, ৯৩ বা তার নিচে নামলেই রোগীকে হাসপাতালে দ্রুত যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পরীক্ষিত না হলেও অক্সিমিটারের 'অ্যাপস'ও প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে বেল তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  যুক্তরাষ্ট্র   করোনাভাইরাস  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ইউনাইটেডে আগুনে পুড়ে ৫ করোনা রোগীর মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up