ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৭ মে ২০২০ || ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ ডা. জাফরুল্লাহর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী ■ নতুন স্বাস্থ্য সচিব হচ্ছেন আবদুল মান্নান! ■ দেশে নতুন করে শনাক্ত ১৫৪১, মৃত্যু ২২ ■ যমুনায় নৌকাডুবির ঘটনায় আরও দুজনের লাশ উদ্ধার ■ লকডাউন বাড়ছে কিনা, জানা যাবে কাল ■ জয়পুরহাটে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ৪০ গ্রাম, নিহত ৪ ■ খালেদা জিয়ার সঙ্গে মান্না’র সাক্ষাৎ ■ ভারতে আক্রান্ত ছাড়ালো দেড় লাখ ■ আ.লীগের এমপি এবাদুল করিম করোনায় আক্রান্ত ■ করোনায় মৃত্যু সাড়ে ৩ লাখ ছাড়াল! ■ করোনার যেসব উপসর্গে অবাক চিকিৎসকরা ■ ছয়দিন পর ব্যাংক খোলা আজ
নসুরাতের মায়ের কান্না থামেনি ১ বছরেও, দ্রুত বিচার চায় পরিবার
সাহদে সাব্বির, ফেনী
Published : Monday, 6 April, 2020 at 3:05 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

নুসরাত জাহান রাফি

নুসরাত জাহান রাফি

চাঞ্চল্যকর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে নৃশংস অগ্নিসন্ত্রাসের এক বছর আজ। অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার করা হয়। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সকালে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলিম পরীক্ষার আরবী প্রথম পত্র পরীক্ষা  দিতে গেলে হল থেকে ডেকে নিয়ে পাশের ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়।

চারদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টায় মৃত্যুবরণ করে নুসরাত জাহান রাফি। ১০ এপ্রিল বিকালে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সেই কবরেই চিরনিদ্রায় শায়ীত রয়েছেন রাফি। তার ওপর অগ্নি সন্ত্রাসের এক বছর উপলক্ষে তার বাড়িতে গেলে দেখা যায় সুনসান নিরবতা। এখনো মেয়ের জন্য নসুরাতের মায়ের কান্না থামেনি, অপেক্ষার প্রহর গুণছেন কবে দেখবেন আসামিদের ফাঁসি কার্যকর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন নুসরাতের মা শিরিন আখতার। ওইদিনই অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার অনুগত কিছু সাবেক ও বর্তমান ছাত্র জনমত গঠন করে সিরাজকে জেল থেকে বের করে আনার জন্য।

তারা ৩ এপ্রিল সিরাজের সঙ্গে কারাগারে পরামর্শ করে এসে ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে খুন করার পরিকল্পনা নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে খুনিরা পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে হত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর তাকে স্থানান্তর করা হয় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় সেখান থেকে নুসরাতকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। কয়েকদিন নির্মম যন্ত্রণা নিয়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

এই মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়।

২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে একলাখ টাকা করে জরিমানা দণ্ডেও দণ্ডিত করেন।

আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু জানান, রাফিকে যৌন হয়রানির মামলাটিও স্বাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) ছাপানো শেষ করা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি হাসান ইমাম ও সৌমেন্দ্র সরকার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ মামলার শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতি কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির শুনানি হবে।

এ প্রসঙ্গে, মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমরা প্রথমে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি চেয়েছেন বলেই এত দ্রুত সময়ে আমারা নিম্ন আদালত থেকে সুবিচার পেয়েছি। আদালত সব আসামিকে ফাঁসি দিয়েছে। আমারা জানতে পেরেছি মামলাটি উচ্চ আদালত থেকে নিষ্পত্তির বিষয়েও সর্বোচ্ছ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আশা করি, সেখানেও আমরা সুবিচার পাবো, সব আসামির ফাঁসি কার্যকর হবে।

নোমান আরো বলেন, আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দৃষ্টান্তস্থাপন হবে। আর কোনো ভাইয়ের-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয় সেজন্য আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি আদালত যে রায় দেয় আমরা তা মাথা পেতে নেবো।

নোমান বলেন, আসামিপক্ষের লোকজন আমাদের সরাসরি থ্রেট না দিলেও ‘বিভিন্ন পক্ষ থেকে আমরা শুনি- ‘পুলিশ কতদিন বাড়ি পাহারা দিয়ে রাখবে?’।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার কান্না জর্জরিত কণ্ঠে বলেন, মাইয়াগা (মেয়েটা) অ্যাঁর (আমার) বুকের ধন আছিলো (ছিলো), ঘর আলো করি রাইখতো (রাখতো)। এক বছর হয়ে গেলেও এখনো দু’চোখ এক করলেই ভেসে ওঠে মেয়ের মুখখানি। ‘আমরা উচ্চ আদালতের দিকে চেয়ে আছি, আশা করছি উচ্চ আদালতও আসামিদের ফাঁসির রায় বহাল রাখবে। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকেও সে দাবি জানাচ্ছি।
 
দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  নুসরাত জাহান রাফি   পরিবার  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
টিকা না আসা পর্যন্ত করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up