ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৭ মে ২০২০ || ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত ■ গণপরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ ■ দিনাজপুরে মদ পানে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু ■ হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন ডাক্তার-নার্স! ■ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ঘরে, ৩ জনের মৃত্যু ■ সিলেটে পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ ■ চীন-ভারত সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা, দু’পক্ষের যুদ্ধ প্রস্তুতি ■ বাংলাদেশে সাংবাদিক নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান ■ কুমিল্লায় শুরু হচ্ছে করোনা চিকিৎসা ■ ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঙ্কার নেপালের! ■ সৌদিতে দুপক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৬ ■ চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না
দেশজুড়ে করোনা আতঙ্ক
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Wednesday, 8 April, 2020 at 1:20 AM, Update: 09.04.2020 9:08:47 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

দেশজুড়ে করোনা আতঙ্ক

দেশজুড়ে করোনা আতঙ্ক

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৫ জন মারা গেছে। এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ জনে। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সর্বোচ্চ ৪১ জনের আক্রান্তের মধ্যদিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১৬৪ জনে। তবে গত দুইদিনে কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়নি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় আইইডিসিআর। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ২০, নারায়ণগঞ্জে ১৫ জন।

নারায়ণগঞ্জ

করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি রোগী আক্রান্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা ২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়নগঞ্জে রোগী সনাক্ত হয়েছে ১৫ জন। এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২জন।

এছাড়া জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ওই রোগীর বয়স ১০ বছর। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি উত্তর পাড়া এলাকায় ওই রোগীটি শনাক্ত করেছে নারায়ণগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক করোনা আক্রান্ত রোগীর কথা স্বীকার করে জানান, আমরা খবর পাওয়ার পর থেকে ওই বাড়িটির সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছি। ওই বাড়ির কাউকেই বাড়ি থেকে বাইরে বের হতে নিষেধ করে দিয়েছি। এবং কেউ বাইরে থেকে যেন ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারেও আমরা নজরদারি করছি।

ফেনী

নোভেল করোনা ভাইরাস সন্দেহে নতুন করে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজ (বিআইটিআইডি) সেন্টারে পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ফেনী জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।এর আগে করোনা সন্দেহে সংগৃহীত নমুনায় ১০ জনের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হয়েছে।

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ছয়জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছে। শেষ হয়েছে ২৬ জনের। এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১ হাজার ১৩৪ জন। শেষ হয়েছে ৯৮৮ জনের।

রাজবাড়ী

জেলার পাংশায় করোনার উপসর্গ নিয়ে রুহুল শেখ(৩৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বাহাদুপুর ইউপির সেনগ্রাম এলাকার মৃত হবির শেখের ছেলে। এ ঘটনায় সেনগ্রাম এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত সপ্তাহে রুহুল ঢাকা থেকে শ্বশুর বাড়ি পাবনা হয়ে বাড়িতে এসেছেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতো। তিন-চারদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ঠান্ডা কাশিতে ভুগছিলেন। আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানায়, মৃত ব্যক্তির নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সেনগ্রাম এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

খুলনা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেএমপির এডিসি (মিডিয়া) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, সরকার নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহনের গমনাগমন ছাড়া অন্য সব ব্যক্তি ও যানবাহনের খুলনা মহানগর এলাকা থেকে বের হওয়া এবং নগরীতে ঢোকা বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সালেহা বেগম নামে ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। তিনি ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান জানান, ওই বৃদ্ধা এক সপ্তাহ আগে তার ২২ বছর বয়সী নাতি রাসেলের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তিনি তথ্য গোপন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নেন। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে তিনি বাড়িতে মারা যান। তিনি জানান, মৃত বৃদ্ধার নাতীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।

যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের করোনার রিপোর্ট পাওয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসনকে ওই এলাকা লকডাউন করে রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয়তলায় মাইক্রোবাইলোজি বিভাগের ল্যাবে পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিনের উদ্বোধন করার পর করোনা ভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমদিনে পরীক্ষার জন্য পিসিআর মেশিনে ১৫টি স্যাম্পল দেওয়া হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, করোনা শনাক্তকরণ মেশিন দিয়ে একসঙ্গে ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে যাবে। মঙ্গলবার প্রথমদিনে পরীক্ষার জন্য পিসিআর মেশিনে ১৫টি স্যাম্পল দেওয়া হয়েছে। মেশিন থেকে বেরুনোর পর বিস্তারিত জানানো যাবে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হবে। তবে যে কেউ চাইলে নিজে নিজে এসে পরীক্ষা করাতে পারবেন না।

মাদারীপুর

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে মাদারীপুর তৃতীয়। এরমধ্যে জেলার শিবচর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা তিন জনের শরীরে ফের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই তিন জনকে গত ২৭ মার্চ সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত তিন জন ইতালিফেরত এক যুবকের স্ত্রী, শাশুড়ি ও বন্ধু।

তাছাড়া সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো এক জন। তিনি ইতালিফেরত ঐ যুবকের শ্বশুর। চার জনের মধ্যে তিন জন মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ইতালিফেরত যুবকের স্ত্রীকেও গতকাল রাতে ঐ হাসপাতালে ভর্তি করার প্রক্রিয়া চলছিল।

হবিগঞ্জ

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার হামুয়া ও আলাপুর গ্রামে রাজধানী ঢাকার করোনাভাইরাস উপদ্রুত এলাকা মুগদা ও বাসাবো থেকে আগত দুই যুবককে হোম কোয়ারেন্টাইনে পুলিশের নজরধারীতে রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার শামীমুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত রবিবার ভোরে ওই যুবকরা ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন। এরই মধ্যে ঢাকার মুগদা ও বাসাবো এলাকা করোনাভাইরাস উপদ্রুত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২ যুবকের আগমনে গ্রামের লোকজন ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন।

পাবনা

সাঁথিয়ার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের এক পরিবারকে লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও কয়েকজনের করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে ক্ষেতুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুনসুর আলম পিনচু বলেন, এলাকাবাসীর তথ্যে থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওই পরিবারকে লকডাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাম পুলিশের পাহাড়া বসানো হয়েছে। ওই পরিবারকে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়া হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ

ফরিদপুর থেকে আসা মানিকগঞ্জের সিংগাইরে শা’দ পন্থি তাবলিগ জামাতে আসা ১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় আব্দুল বাকীর (৬০) পর আরও তিনজনের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন- মজিবর রহমান মোল্লা (৮০) ও হায়দার মোল্লা (৬৫) ফরিদপুরের ও আমিনুল ইসলাম (৪১)।

ওই তিনজনকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনের রাখার প্রস্তুতি চলছে। সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সেকেন্দার আলী মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. সেন্দোর আলী মোল্লা জানান, তাবলিগ জামাতের নতুন করে আরো ২৬ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। তবে এর মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে।

মাগুরা

শহরের পুরাতন বাজার চালপট্টি এলাকায় করোনা সন্দেহে একই পরিবারের ৩ জনকে আইসোলেশন রাখা হয়েছে। সোমবার রাতে তাদেরকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় উক্ত এলাকার একটি বাড়ি ও ৭-৮টি দোকান লকডাউন করা হয়েছে। ওই এলাকায় লাল পতাকা টানিয়ে প্রবেশ পথে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লোক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় একদিনে শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরে তিন জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ওই নারীর মৃত্যু হয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের একজন ও ইশ্বরগঞ্জ পৌরসভার ২ জন শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এরইমধ্যে নমুনা সংগৃহীত তিনজনের মধ্যে এক নারী মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হুদা খান জানান, মৃত ওই নারীর বাড়ির সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। গত তিনদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ নেই বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

ভোলা

জেলার লালমোহনে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকার আশংকায় এক ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনে থাকা ওই ব্যক্তির বাড়ির ৯টি ঘর লকডাউন করছে প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান রুমি জানান, গত ২-৩ দিন আগে কলেজ পাড়া এলাকার মানু মিস্ত্রির ছেলে নাজিম উদ্দিন (৩০) ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে আসে। পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়। যার কারণে নাজিম উদ্দিনকে আলাদা একটি ঘরে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া ওই বাড়ির ৯টি ঘর লকডাউন করা হয়েছে।

ভোলার সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী বলেন, নাজিমের শরীরে এখনও করোনা ভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া যায়নি বলে আমাকে জানিয়েছেন লালমোহনের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে ঢাকা থেকে ফেরা এক পোশাক শ্রমিকসহ (১৮) তার বাড়ির দু’জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম এ লকডাউনের ঘোষণা দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত পোশাক শ্রমিক ওই তরুণ রবিবার ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। সে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত জেনেও ওই তরুণ বাড়িতে না থেকে এলাকার বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অসুস্থতার কথা জানতে পেরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক সন্দেহভাজন ওই তরুণ ও তার বিমাতার (৩২) রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর বাড়ি লকডাউন করা হয়।

লক্ষ্মীপুর

রামগতিতে করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে (৭ এপ্রিল) উপজেলার চরসীতা এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রহিম জানান, মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ নমুনা ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্রে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ১১ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মোমিন জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির বাড়িসহ ৩ টি বাড়ির ১৭ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে।

নীলফামারী

জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পুরো উপজেলার ৯টি ইউনিয়নকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার(৭এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) নীলফামারীতে করোনা সন্দেহে সাত জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। ওই সাতজনের মধ্যে একজনের করোনা পজিটিভ প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) নীলফামারী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে আসে। ওই একজন হলেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। তাকে উক্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি লকডাউন করা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যারা আছেন তাদের কোয়ারেন্টাইন করা হবে। এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও হাটবাজার লকডাউন ঘোষণা করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

এদিকে, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে চার নারীসহ ছয় বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তারা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পরই তাদেরকে স্থলবন্দর থেকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য বিজয়গর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবরোধে ভারতজুড়ে চলা লকডাউনের কারণে ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ওই ছয় বাংলাদেশি আটকা পড়েছিলেন। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, দেশে ফেরা ছয় বাংলাদেশির কারো শরীরেই করোনা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই।তবে নিয়ম অনুয়ায়ী তাদের সবাইকে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালে যদি তাদের শারীরিক কোনো সমস্যা হয় তাহলে তাদেরকে আইসোলেশনে নেয়া হবে।

দেশসংবাদ/আইএফ/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  করোনা ভাইরাসে  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
টিকা না আসা পর্যন্ত করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up