ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৬ জুন ২০২০ || ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট বিক্রি! ■ রাশিয়ার ২ নদীতে লাল পানির স্রোত, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক! ■ স্ত্রীর পর সাবেক মেয়র কামরানও আক্রান্ত ■ করোনায় তরুণদের আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি ■ করোনায় শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ■ করোনায় অধিক ঝুঁকিতে টাক মাথা ■ প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত, প্রথম পুরস্কার ০৯৬২৩০৭ ■ মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবি’র হাই অ্যালার্ট ■ ৩ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ■ দেশের প্রথম রেড জোন কক্সবাজার পৌর এলাকা ■ করোনায় প্রমাণ হয়েছে স্বাস্থ্যখাত কতটা ভঙ্গুর ■ সীমান্তে মিয়ানমারের ব্যাপক গুলিবর্ষণ, সতর্ক বিজিবি
‘লকডাউন’ আরও শিথিল হবে?
ডা. জাহেদ উর রহমান
Published : Thursday, 7 May, 2020 at 8:58 AM, Update: 08.05.2020 11:06:13 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

‘লকডাউন’ আরও শিথিল হবে?

‘লকডাউন’ আরও শিথিল হবে?

দেশে সাধারণ ছুটির নামে একটা অঘোষিত লকডাউন চলছে, যার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই এই সময়টা খুব কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করা গেলে করোনার পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত, কিন্তু সেটা হল না। তাতে অর্থনীতি ঠিকই ক্ষতিগ্রস্ত হল, কিন্তু করোনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়ল না।

এর মধ্যেই অল্প কিছু গার্মেন্ট কারখানা খোলার কথা থাকলেও কিছুদিন আগেই খুলে গেছে বেশির ভাগ গার্মেন্ট। শুধু ঢাকায় থাকা শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা খোলার কথা থাকলেও পত্রিকায় এসেছে ঢাকার বাইরের শ্রমিকদেরও ফোনে হুমকি দেয়া হয়েছে, তারা ফিরে না এলে তাদের চাকরি থাকবে না।

ফলে ৪ এপ্রিলের মতো আবারও রাতের অন্ধকারে পিকআপ-ট্রাকে গাদাগাদি করে, অনেকেই হেঁটে আবার ঢাকায় ফিরছে দূর-দূরান্তের জেলা থেকে। স্বাস্থ্যবিধির বালাই না রেখে দলে দলে গাদাগাদি করে কারখানায় গেছে, যাচ্ছে।

সবাই যখন সব খুলে ফেলছে, তখন অন্যসব দোকানও কেন বন্ধ থাকবে? ঈদ সামনে রেখে শপিংমল-দোকানপাটও খুলছে ১০ মে। একটা আভাস কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিয়েছেন- লকডাউন শিথিলের পক্ষে তিনি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- স্বাস্থ্যগত বিবেচনায় বাংলাদেশের কি লকডাউন শিথিল করার পক্ষে যুক্তি আছে?

তথাকথিত লকডাউন শুরুতে যতটুকু নিয়মের মধ্যে ছিল, সেটাও গত দুই সপ্তাহ প্রায় ভেঙে পড়েছে এবং পরিস্থিতি প্রতিদিন আগের চেয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নানা সংবাদমাধ্যমে এসেছে, ঢাকায় অন্তত পুলিশের যে ধরনের কর্মকাণ্ড শুরুর দিকে ছিল সেটা ধীরে ধীরে কমে এসেছে।

এর প্রধান কারণ হতে পারে, আটশ’র বেশি পুলিশের করোনায় আক্রান্ত হওয়া এবং পাঁচজনের মারা যাওয়া পুলিশের মধ্যে কিছুটা হলেও ভীতি তৈরি করেছে। এমনকি যখন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আক্রান্ত হতে শুরু করেননি, তখনও সরকারি সিদ্ধান্তেই লকডাউন খুব শক্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

গার্মেন্ট কারখানাগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রাখার কথা বলা হলেও সেটা মানা হচ্ছে না, এমন তথ্য এখন প্রকাশিত। এর ফল দেখা যাচ্ছে খুব স্পষ্টভাবেই। নারায়ণগঞ্জের করোনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হওয়ার হার অন্তত ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। কিছুদিন আগে গাজীপুরে করোনা ভীষণ রকম ছড়িয়ে পড়ার পেছনে গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেয়াকে দায়ী করেছিলেন গাজীপুরের এসপি।

কয়েকদিন আগে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ার পর করোনা রোধ করতে সাভারের সব গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ করে দেয়ার জন্য প্রশাসনকে চিঠি লিখেছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা।

অনুমান করতে পারছি আমরা- সব খুলে দিলে কী হবে পরিস্থিতি। তাহলে সরকার কেন এমন ঝুঁকি নিতে যাচ্ছে যেখানে অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে এবং বহু মানুষ মারা যাবে?

করোনা মোকাবেলায় একটা শক্ত লকডাউন নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের ওপরে একটা দায়িত্ব চেপে যায় সমাজের নিু আয়ের মানুষের খাবার এবং আরও জীবনধারণের জরুরি কিছু জিনিস জোগান দেয়া। অন্যকিছু বাদই দিই, যথেষ্ট পরিমাণ খাবার দিতে না পারলে এই মানুষকে ঘরে ধরে রাখা যাবে না।

সরকার নিয়মিত জানাচ্ছে কয়েক কোটি মানুষকে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা। কিছুদিন আগের প্রাপ্ত তথ্যের হিসাব করলে দেখা যায়, এর পরিমাণ সর্বসাকুল্যে মাথাপিছু ২.৫ কেজি চাল, প্রায় ২১ টাকা এবং পরিবার পিছু শিশুখাদ্যের জন্য পৌনে ৪ টাকা।

এই সামান্য পরিমাণ ত্রাণের একটা ভগ্নাংশই পৌঁছেছে মানুষের কাছে; এর মধ্যেই ত্রাণের শত শত টন চাল চুরির খবর মিডিয়ায় একেবারেই নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ‘প্রতীকী’ সাহায্য দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখতে পারার কোনো কারণ নেই।

এর অনিবার্য ফল হিসেবে আমরা এখন নিয়মিতই দেখছি অভুক্ত মানুষ রাস্তা আটকে রাখছেন, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বাড়ি ঘেরাও করছেন, খাবারবাহী গাড়ি থামিয়ে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন।

কেউ কেউ বলছেন, সবকিছু মোটামুটি খুলে দিয়ে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরির পথে আছে সরকার। দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ সামনে আনছেন কেউ কেউ; লকডাউন না করেই দেশটি করোনামুক্ত হয়ে গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া যেভাবে গণহারে টেস্ট করে, তাদের কন্ট্যাক্ট হিস্ট্রি বের করে কোয়ারেন্টিন করে এই সমস্যা মোকাবেলা করেছে, সেরকম করার সম্পদ কিংবা দক্ষতার আশপাশেও নেই আমরা।

শুধু একটা বিষয় উল্লেখ করতে চাই এখানে, প্রতি ১০ লাখ মানুষে কোরিয়া করেছে ১২১৫৩টি টেস্ট, বাংলাদেশের ২৯ গুণ। আরেকটি ব্যাপার আমরা মনে রাখব, এই পথ খুবই অনিশ্চিত- এই পথে গিয়ে সুইডেনের মতো সম্পদশালী রাষ্ট্রও আবার বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

এ অবস্থায় সরকারের সামনে দুটো পথ আছে- ১. খুব শক্ত একটা লকডাউন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য কারফিউ দেয়া। এতে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে, কিন্তু অতি তুচ্ছ পরিমাণ সরকারি সাহায্যের কারণে কোটি কোটি মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে থাকবে, যাদের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে।

রাস্তা বন্ধ হবে, ভুখা মিছিল হবে। ২. কাগজে-কলমে একটা অঘোষিত লকডাউন রেখে লিখিত বা অলিখিতভাবে সব ব্যবসা দ্রুত খুলে দেয়া।

এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ পেয়ে খাদ্য সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে; কিন্তু অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে, হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। মারা যাবে অনেক মানুষ করোনায় কিংবা ‘জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্টে’।

দ্বিতীয় পরিস্থিতি সরকারের জন্য অনেক সমালোচনা তৈরি করলেও অন্তত কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না; কিন্তু প্রথমটি করবে। তাই সবকিছুই ধাপে ধাপে ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে, স্বল্প পরিসরে’ খুলে দেবে সরকার।

ডা. জাহেদ উর রহমান : শিক্ষক, অ্যাক্টিভিস্ট

দেশসংবাদ/জেআর/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  লকডাউন   




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
গণস্বাস্থ্যের কিট অনুমোদন দিতে লিগ্যাল নোটিশ
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up