ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ || ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ করোনায় জাপা নেতা খালেদ আখতারের মৃত্যু ■ মায়ের কবরেই সমাহিত হলেন সাহারা খাতুন ■ করোনা চিকিৎসায় ভারতে চর্মরোগের ইনজেকশন ■ ধর্ষণ মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত ■ পাপুল কাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ■ ব্রাজিলে মৃত্যু ৭০ হাজার ছাড়াল ■ পৌঁছেছে সাহারা খাতুনের মরদেহ, দাফন বনানীতে ■ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ২ লাখ ২৮ হাজার ■ সাবেক এমপি নুরুল হক আক্রান্ত, অবস্থা সংকটাপন্ন ■ বিদেশে ১৩৭৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, বেশি মধ্যপ্রাচ্যে ■ রাষ্ট্রপতির ভাই অধ্যাপক আবদুল হাই করোনা আক্রান্ত ■ পরিবারসহ চিত্রনায়িকা তমা মির্জা আক্রান্ত
শাওয়ালের মাসের সুন্নাত আমল ও ফজিলত
প্রফেসর ড সাইফুল গনি নোমান
Published : Wednesday, 27 May, 2020 at 3:09 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

শাওয়ালের মাসের সুন্নাত আমল ও ফজিলত

শাওয়ালের মাসের সুন্নাত আমল ও ফজিলত

শাওয়াল হলো আরবি চান্দ্র বছরের দশম মাস। রমজানের সিয়াম পালনের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা সুন্নাত/মুস্তাহাব। এ রোজা পালনের মর্যাদা অনেক বেশি । তাতে প্রভূত সওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি এ রোজাগুলো পালন করবে সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল। ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যক্তি যাতে শুধু মাহে রমাদানের ফরয রোজা রেখে থেমে না যান, বরং তিনি কীভাবে সহজেই পূর্ণ বছর মহান আল্লাহ্ তায়ালার প্রিয় বান্দা ও ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকতে পারেন এবং চিরস্থায়ী জান্নাতের বাসিন্দা হতে পারেন। রাসুল (সা.) উম্মতের সামনে সেই পথ সুস্পষ্ট করে দিয়ে গেছেন। শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা পালন সারা বছর রোজার সওয়াব প্রাপ্তির সুযোগ এনে দেয়। আর এ রোজাকে শাওয়ালের ছয় রোজা বলে। এই রোজা পালনে অনেক ফজীলত রয়েছে যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আবু আইয়ুব আনসারী রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রমাদান মাসের রোজা রাখল এবং এরপরে শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখল সে যেন সারা বৎসর রোজা রাখল।(সহিহ মুসলিম : ২৬২৪)

‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো উঁচু করা, উন্নতকরণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া,গৌরব ও বিজয়ী হওয়া ইত্যাদি। কথিত আছে যে এ মাসে আরববাসী আনন্দ-উল্লাসের জন্য ভ্রমণে বের হয় এজন্য শাওয়ালকে শাওয়াল বলা হয়।

মুসলিম কারশী (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন একদা আমি রাসুল (সা .)কে জিজ্ঞেস করলাম সারা বছর রোজা রাখা সম্পর্কে; রাসুল (সা .) বললেন তোমার উপর তোমার পরিবার-পরিজনের হক রয়েছে। অত:এব তুমি রমাদান মাস ও এর পরবর্তী মাস তাতে রোজা রাখবে এবং প্রত্যেক বুধবার, বৃহস্পতি বার রোজা রাখবে। আর যখনই এরূপ করলে যেন সারা বছর রোজা রাখলে। (আবু দাউদ, তিরমিযি: হাদীস নং-৭৪৮)

এই হাদিসে বলা হয়েছে যে, রমযানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। এ
হাদিসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য বাণী দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পরে ছয়দিন রোজা রাখবে সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল। যে ব্যক্তি একটি নেকি করবে সে দশগুণ সওয়াব পাবে।”

অন্য বর্ণনাতে আছে- “আল্লাহ এক নেকিকে দশগুণ করেন। সুতরাং এক মাসের রোজা দশ মাসের রোজার সমান। বাকী ছয়দিন রোজা রাখলে এক বছর হয়ে গেল। (সুনানে নাসায়ী, সুনানে ইবনে মাজাহ)

এই সওয়াব এভাবে যে, মহান রাব্বুল আলামিন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন কারীমে বলেন, “কেহ কোন ভাল কাজ করলে সে তার দশ গুণ প্রতিদান পাবে, আর কেহ পাপ ও অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু ততটুকুই প্রতিফল দেয়া হবে যতটুকু সে করেছে, আর তারা অত্যাচারিত হবেনা।(আন-আম:১৬০)

রাসুল (সা.) বলেন আল্লাহ তায়ালা বলেন নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক দয়ালু যে ব্যক্তি একটি সৎকাজের মনস্থ করেছে কিন্তু আমল করেনি তার জন্য একটি নেকী লিখা হয়। আর যদি কর্মটি করা হয় তবে দশ থেকে সাতশো পর্যন্ত নেক লেখা হয়। এমনকি তার চেয়েও বেশি । পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি খারাপ কাজের মনস্থ করে কিন্তু বাস্তবে করল না তার জন্য একটি নেকী লেখা হয় ।আর যদি করেই ফেলে তাহলে একটি গুনাহ লেখা হয় ।আল্লাহ তাকেই ধ্বংস করেন যে নিজেকে ধ্বংস করে ।(বুখারি:৬৪৯ ১)

সে হিসেবে রমযানের ত্রিশ রোজায় তিনশত রোজার সওয়াব হয়। আর শাওয়ালের ছয় রোজায় ষাট রোজার সওয়াব হয়। এভাবে রমজানের ৩০ রোজা এবং শাওয়ালের ৬ রোজা মোট ৩৬ রোজা দশ দিয়ে গুণ দিলে ৩৬০ রোজার সমান হয়ে যায়, আর ৩৬০ দিনে এক বছর। সুতরাং ৩৬ টি রোজায় সারা রছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।
শাওয়াল মাসের এ ছয়টি রোজা মূলত সুন্নাত। যেহেতু রাসুল (সা.) নিজে তা আমল করেছেন এবং আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু পরিভাষায় এগুলোকে নফল রোজা বলা হয়। কারণ, এগুলো ফরজ ও ওয়াজিব নয়, অতিরিক্ত তথা নফল।

অপর রেওয়ায়েতে আছে, যে ব্যক্তি রমযানের রোজা শেষ করে ছয়দিন রোজা রাখবে সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। আহমদ: ৫/২৮০, দারেমি : ২৬২৪)
হাম্বলি মাযহাব ও শাফেয়ি মাযহাবের ফিকাহবিদগণ স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, রমজান মাসের পর শাওয়াল মাসে ছয়দিন রোজা রাখা এক বছর ফরজ রোজা পালনের সমান। অন্যথায় সাধারণ নফল রোজার ক্ষেত্রেও সওয়াব বহুগুণ হওয়া সাব্যস্ত। কেননা এক নেকিতে দশ নেকি দেয়া হয়।

এ ছাড়া শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার আরও ফায়দা হচ্ছে- অবহেলার কারণে অথবা গুনাহর কারণে রমজানের রোজার উপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে সেটা পুষিয়ে নেয়া। কেয়ামতের দিন ফরজ আমলের কমতি নফল আমল দিয়ে পূরণ করা হবে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: কেয়ামতের দিন মানুষের আমলের মধ্যে সর্ব প্রথম নামাযের হিসাব নেয়া হবে।তিনি আরো বলেন: আমাদের রব ফেরেশতাদেরকে বলেন –অথচ তিনি সবকিছু জানেন- তোমরা আমার বান্দার নামায দেখ; সেকি নামায পূর্ণভাবে আদায় করেছে নাকি নামাযে ঘাটতি করেছে। যদি পূর্ণভাবে আদায় করে থাকে তাহলে পূর্ণ নামায লেখা হয়। আর যদি কিছু ঘাটতি থাকে তখন বলেন: দেখ আমার বান্দার কোন নফল নামায আছে কিনা? যদি নফল নামায থাকে তখন বলেন: নফল নামায দিয়ে বান্দার ফরজের ঘাটতি পূর্ণ কর। এরপর অন্য আমলের হিসাব নেয়া হবে। (সুনানে আবু দাউদ) অপর বর্ণনায় পাওয়া যায়, প্রিয় নবী (সা.) বলেন, আল্লাহ্ তায়ালা শাওয়াল মাসের ৬ দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই ৬ দিন রোজা রাখবে আল্লাহ্ তায়ালা প্রত্যেক সৃষ্টি জীবের সংখ্যা হিসাবে তার আমলনামায় নেকি লিখে দেবেন, সমপরিমাণ গুনাহ দূর করে নেবেন এবং পরকালে তার দরজা বুলন্দ করে দেবেন।

যেহেতু রাসুলের হাদীস দ্বারা এই ছয় রোজার অনেক ফজীলত পাওয়া গেল এবং রাসুল (সা.) নিজেও শাওয়ালের এ ছয় রোজা রাখতেন এবং উম্মতকে রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, সেজন্য এ রোজা রাখা তথা রাসুলের সুন্নাত আমল পালনে আমাদের চেষ্টা করা উচিত। আমাদের নেক আমলের কারণে বিপদ, আপদ, বালা-মুসিবত, মহামারী থেকে মুক্তি দিন।

সুতরাং আসুন, আমরা এই মহান ফজীলত ও বরকতময় শাওয়াল। মাসে ছয়টি নফল রোজা পালনের নেক আমলে নিজেদের মশগুল রাখি। আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের ইহকাল ও পরকালে সফলকাম হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক পরিচিতি:

প্রফেসর ড সাইফুল গনি নোমান আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রফেসর ড সাইফুল গনি নোমান   




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
করোনায় জাপা নেতা খালেদ আখতারের মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফাতেমা হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up