ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ || ১৩ কার্তিক ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ দ্রুত হাওয়া পাল্টাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে! ■ ইরফানের নামে আরো মামলা হচ্ছে ■ ইতালিতে ব্যাপক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ ■ নির্বাচন নিয়ে তৎপর ট্রাম্প ও বাইডেন ■ নাগরিকদের সতর্ক করে ফ্রান্সের বিশেষ বার্তা ■ গাড়িসহ উড়ে গেল কারাবাখের প্রতিরক্ষামন্ত্রী (ভিডিও) ■ ওয়ার্ড কমিশনার ইরফান সেলিম বরখাস্ত ■ ইরফানকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ ■ ৩ দিনের রিমান্ডে ইরফান সেলিমের সহকারী দিপু ■ দেশে করোনায় আরো মৃত্যু ২০, আক্রান্ত ১৩৩৫ ■ ইরফানকে শিগগিরই বরখাস্ত করা হবে ■ ৬ জনের ১০, ৪ জনের ৫ ও ১ জনের তিন বছরের কারাদণ্ড
বগুড়ায় নিখোঁজের ১১ মাস পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
জিএম মিজান, বগুড়া
Published : Friday, 29 May, 2020 at 8:09 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

বগুড়ায় নিখোঁজের ১১ মাস পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বগুড়ায় নিখোঁজের ১১ মাস পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার রাণীরপাড়া গ্রামে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর হয়ে রেহেনা খাতুন নামে এক গৃহবধু তার স্বামী রফিকুল ইসলামকে হত্যা করিয়েছেন নিজ সন্তানকে দিয়ে। হত্যার মিশন সফল করতে কাজে লাগিয়েছেন প্রেমিক ও রেহেনার বোনের ছেলেকেও। 

প্রায় এক বছর আগে সেই হত্যাকান্ড ঘটিয়েও প্রেমিকের সঙ্গে তার ঘর করা হয়নি। তার স্থান হয়েছে কারাগারে। ঘটনাটি ঘটেছে একটি জিডির সূত্র ধরে পুলিশ দেরিতে হলেও রেহেনা খাতুনের ওই নৃশংসতার কথা জানতে পেরে শুক্রবার দুপুর ১১টায় তাদের গ্রামের পার্শ্বে জমিতে পুঁতে রাখা তার স্বামী রফিকুল ইসলামের (৪৭) অর্ধগলিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ এই হত্যাকান্ডে জড়িত রেহেনা খাতুন (৩৭), তার প্রেমিক একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মহিদুল ইসলাম (৪৭), ছেলে জসিম (১৮) ও রেহেনার বোনের ছেলে তেকানিচুকাইনগর গ্রামের করিম আকন্দের ছেলে শাকিলকে (২১) গ্রেফতারও করেছে। 

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সোনাতলা স্টেশন থেকে প্রায় ৪ কিলোামিটার দক্ষিণে রাণীরপাড়া গ্রামের পার্শ্বে রেহেনা খাতুনের প্রেমিক মহিদুলের বর্গা নেওয়া জমিতে রফিকুল ইসলামের লাশ পুঁতে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে মহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সকাল ১১টায় রেললাইনের পাশে জমিতে খনন কাজ শুরু করা হয়। 

বগুড়ার মানবিক পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার)সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে খোঁড়াখুড়ির পর দুপুর ১টায় রফিকুলের অর্ধগলিত লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। এসময় রাণীরপাড়াসহ আশ-পাশের কয়েক গ্রামের গ্রামে হাজার হাজার উৎসুক জনতা রফিকুলের লাশ দেখার জন্য সেখানে জড়ো হয়। লাশটি উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ এ প্রতিবেদক-কে বলেন, সোনাতলা  পাকুল্লা গ্রামের আজাদ আলীর মেয়ে রেহেনা খাতুনের (৩৭) সঙ্গে অনেক আগে রাণীরপাড়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মরিচ চাষী রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। 

কয়েক বছর আগে একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মহিদুল ইসলামের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রেহেনার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দু’জন ঘর বাঁধা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। সে ক্ষেত্রে পথের কাঁটা রফিকুল ইসলামকে তারা পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। যেহেতু প্রেমিক মহিদুল ইসলামের একার পক্ষে স্বামী রফিকুল ইসলামকে হত্যা করা সম্ভব নয় সেজন্য লোকবল বাড়ানোর জন্য রেহেনা খাতুন তার তৃতীয় সন্তান জসিম এবং রেহেনার বোনের ছেলে শাকিলকেও সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। জসিম যেহেতু একটু সরল প্রকৃতির এবং ঠিকমত পড়ালেখা না করার কারণে ঘন ঘন বকুনি খেয়ে বাবার ওপর একটু বিরক্ত তাই নিজের জন্মদাতাকে শায়েস্তা করার কাজে তাকে ব্যবহারের সুযোগটি নেয় রেহেনা খাতুন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৪ জুন রাতে রফিকুল যখন খেতে বসে তখন বেগুন ভর্তার মধ্যে মহিদুলের এনে দেওয়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন রেহেনা খাতুন। এরপর তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলে মহিদুল ও জসিম মিলে রফিকুলের বুকের ওপর উঠে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। 

পরবর্তীতে শাকিলকে ডেকে এনে তারা তিনজন মিলে রফিকুলের লাশটি মরিচের বস্তায় ভরে মহিদুলের বর্গা নেওয়া জমিতে পুঁতে রেখে চলে আসে। তিনি আরও বলেন, রফিকুল ইসলাম খুন হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর ২০১৯ সালের ১ জুলাই তার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, গত ১৪ জুন থেকে তাকে পাওয় যাচ্ছে না। 

কিন্তু পুলিশ জিডির সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকদিন আগে মহিদুলের সঙ্গে রেহেনা খাতুনের পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। শুক্রবার সকালে মহিদুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক বছর আগে রফিকুল ইসলামকে খুন করার কথা স্বীকার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রেহেনা তার ছেলে জসিম ও রেহেনার বোনের ছেলে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। মায়ের প্ররোচনায় বাবাকে হত্যা করায় ছেলে জসিম কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ হয়েছে। জসিমের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু নিজ হাতে বাবাকে হত্যা করার পর সে মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েছে। যে কারণে তার আর পরীক্ষায় দেওয়া হয়নি। জিডি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। বড় ভাই শফিকুল ইসলামকে বাদী করে মামলাটি দায়ের করা হবে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আইশি


আরও সংবাদ   বিষয়:  বগুড়া   অর্ধগলিত   মরদেহ   উদ্ধার  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
দেশে করোনায় আরো মৃত্যু ২০, আক্রান্ত ১৩৩৫
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up