ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ || ১১ আশ্বিন ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ বাংদেশের মান এখন অনেক উঁচুতে ■ কক্সবাজারের ৮ থানায় নতুন ওসি ■ অতিরিক্ত সচিব হলেন ৯৮ কর্মকর্তা (তালিকা) ■ ক্যাম্পাসে তরুণীকে গণধর্ষণ, বিক্ষোভে উত্তাল এমসি কলেজ ■ আ.লীগের তৃণমূলে কঠোর বার্তা ■ বিএনপিতে আসছে ব্যাপক রদবদল ■ এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৯ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ■ পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে ■ ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে আরও সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ■ এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে খুঁজছে পুলিশ ■ সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে তরুণীকে গণধর্ষণ ■ ইউক্রেনে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৫
বদলে যাচ্ছে এশিয়ার ভূ-রাজনীতি
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Thursday, 16 July, 2020 at 12:56 PM, Update: 16.07.2020 6:39:03 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

বদলে যাচ্ছে এশিয়ার ভূ-রাজনীতি

বদলে যাচ্ছে এশিয়ার ভূ-রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু তোয়াক্কা না করে চীন ও ইরান তাদের মধ্যে ২৫ বছরের একটি ‘কৌশলগত সহযোগিতার’ চুক্তি নিয়ে বোঝাপড়া চূড়ান্ত করে ফেলেছে বলে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ স্বয়ং গত সপ্তাহে জানান, ইরানের মন্ত্রিসভা চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করেছে। বাকি রয়েছে দুই দেশের পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং দুই প্রেসিডেন্টের সই।

পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য ডজন-খানেক মিডিয়ায় বিভিন্ন নিবন্ধে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও ইরানের এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য তথা এশিয়ার বিরাট একটি অংশের ভূ-রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে দেবে।

ইরানে চীনা সৈন্য মোতায়েনের সুযোগ

চীন ও ইরানের সরকার এখনও এই চুক্তির বিস্তারিত কিছু ভেঙে বলছে না। তবে, নিউইয়র্ক টাইমস ও হংকং-ভিত্তিক এশিয়া টাইমসসহ বেশকিছু শীর্ষ সারির মিডিয়া বলছে, তারা ১৮ পাতার খসড়া চুক্তিটি দেখেছে।

সেই সূত্রে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত নানা তথ্যের ভিত্তিতে যা জানা গেছে তাতে ইরানের তেল-গ্যাস, ব্যাংকিং, টেলিকম, বন্দর উন্নয়ন, রেলওয়ে উন্নয়ন এবং আরও কয়েক ডজন খানেক গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীন ব্যাপক বিনিয়োগ করবে।

এই বিনিয়োগের পরিমাণ আগামী ২৫ বছরে কমপক্ষে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ হতে পারে। সেই সাথে প্রস্তাবিত চুক্তিতে সামরিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ, মহড়া, গবেষণা, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের’ কথা রয়েছে।

মিডল-ইস্ট আই নিউজ ওয়েবসাইটে একটি রিপোর্টে লেখা হয়েছে, চুক্তির আওতায় চীন তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষায় ইরানে পাঁচ হাজার পর্যন্ত সৈন্য মোতায়েন করতে পারবে। সুতরাং এই চুক্তি সই হলে, মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রথম সরাসরি চীনা সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগের বদলে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে চীনকে অনেক ছাড় দেবে ইরান। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে তেল-গ্যাস পাবে চীন এবং চীনা মুদ্রায় দেয়া সেই দাম পরিশোধ করতে পারবে।

মিডিয়ায় ফাঁস হওয়া চুক্তির এসব শর্ত নিয়ে ইরান বা চীনের সরকারের পক্ষ থেকে খোলাসা করে কিছু বলা হয়নি। তবে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন : ‘(চীনের সাথে প্রস্তাবিত এই চুক্তি) ইরানের কূটনীতির জন্য গর্ব করার মতো একটি অধ্যায়।’

ইরান কেন এই পথে

ওয়াশিংটনে আরব গালফ স্টেটস ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ইরান এখন অস্তিত্বের স্বার্থে চীনের দ্বারস্থ হচ্ছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস মজুদের হিসাবে ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানি বিক্রি করা তাদের জন্য দুরূহ কাজ হয়ে পড়েছে। সেই সাথে বিনিয়োগের অভাবে তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পথও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

চীনা বিনিয়োগ তাদের সেই ‘মহা-সংকট‘ থেকে বের করে আনতে পারবে। জ্বালানি খাতের জন্য বিশেষ সাময়িকী পেট্রোলিয়াম ইকোনমিস্ট গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম প্রকাশ করে যে, ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রো-কেমিক্যাল খাতে ২৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীন।

ওই সাময়িকী সে সময় বলে, ‘চীন ও ইরানের এই চুক্তি বিশ্বের তেল ও গ্যাস খাতের ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। যেখানে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

তবে অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, চীন ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি। নব্বইয়ের দশকে থেকেই এই দুই দেশ সহযোগিতা নিয়ে কথা বলছে। ২০১৫ সালে ইরানের সাথে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে আমেরিকার সরে যাওয়া এবং ইরানের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।

চীনের স্বার্থ কী

২০১৬ সালে শি জিন পিংয়ের ইরান সফরের সময় ২৫ বছরের একটি ‘কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি’ নিয়ে দুই সরকারের মধ্যে প্রথম প্রাথমিক একটি বোঝাপড়া হয়। গত চার বছর ধরে তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউ আব চায়নার অধ্যাপক ড মাহমুদ আলী বলেন, ইরানকে তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের মধ্যে শক্তভাবে আনার জন্য চীন অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছে।

‘মলাক্কা প্রণালি দিয়ে তাদের বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরতা কমানোর জন্য চীন বহুদিন ধরে উদগ্রীব, কারণ ওই সমুদ্র রুটটির নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের হাতে, সুতরাং ইরানকে পাশে পেলে সমুদ্র রুটকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা চীনের জন্য অনেক সহজ হবে। সুতরাং চীনের জন্য এটা বিরাট এক ভূ-রাজনৈতিক উদ্যোগ।’

ইতোমধ্যেই অবশ্য চীন ও ইরানের মধ্যে সরাসরি রেল লিংক রয়েছে। এই রেল রুট ‘নতুন সিল্ক রোড নামে’ পরিচিত যা শিনজিয়াং থেকে কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান. কিরগিস্তানকে যুক্ত করে তেহরান পর্যন্ত ২৩০০ কিমি দীর্ঘ। তবে এই রুটকে আরও সংহত , আধুনিক ও কার্যকরী করতে উদগ্রীব চীন।

সহযোগিতা চুক্তি হওয়ার আগেই চীন ইরানের রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের কাজে জড়িয়ে পড়েছে। চীনা কোম্পানি সিনোম্যাক পশ্চিম ইরানে নতুন একটি রেলর লাইন তৈরির চুক্তি সই করেছে। তবে বেইজিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রকল্প তেহরান এবং মাশাদের মধ্যে ৯২৬ কিলোমিটার রেল লাইনের বৈদ্যুতিক-করণ। তেহরান-কোম-ইস্পাহানের মধ্যে একটি দ্রুতগতির রেল লাইন নির্মাণ নিয়েও কথা হচ্ছে চীনের সাথে। এসব রেল প্রকল্প ‘নতুন সিল্ক রোডে‘র অংশ হবে।

চীন-ইরান এই সম্পর্কের প্রভাব কী হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিরিন হান্টার মিডল-ইস্ট আইতে এক নিবন্ধে বলেছেন, ইরানের সাথে চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে চীনের অবস্থান সংহত করবে। সেই সাথে ইরানের অর্থনীতির প্রভূত উন্নতি হবে। ফলে তাদের রাজনীতিও স্থিতিশীল হবে।

মিজ হান্টার মনে করেন, ইরানের সাথে সংঘাতের ব্যাপারে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মধ্যে আগ্রহ কমবে। এমনকি উপসাগরের অনেক দেশে চীনের সাথে এই ধরণের বিশেষ চুক্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন কাবেহ আফছার সারসাইয়াবি। হংকংয়ের দৈনিক এশিয়া টাইমসে এক নিবন্ধে তিনি বলেন, ইরান যদি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয় তাহলে ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির কৌশলগত সমীকরণ বদলে যাবে।

তিনি বলেন, ‘খুব ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে চীন-ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি কৌশলগত জোট দানা বাঁধছে, যার সাথে অদূর ভবিষ্যতে যুক্ত হবে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া।’

তার মতে, নতুন এই ভূ-রাজনৈতিক সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, তার মিত্র ভারতের জন্যও এটা নিঃসন্দেহে মাথাব্যথার কারণ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

দেশসংবাদ/জেএন/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  যুক্তরাষ্ট্র   চীন   ইরান  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে আরও সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up