ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ || ১১ আশ্বিন ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ বাংদেশের মান এখন অনেক উঁচুতে ■ কক্সবাজারের ৮ থানায় নতুন ওসি ■ অতিরিক্ত সচিব হলেন ৯৮ কর্মকর্তা (তালিকা) ■ ক্যাম্পাসে তরুণীকে গণধর্ষণ, বিক্ষোভে উত্তাল এমসি কলেজ ■ আ.লীগের তৃণমূলে কঠোর বার্তা ■ বিএনপিতে আসছে ব্যাপক রদবদল ■ এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৯ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ■ পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে ■ ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে আরও সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ■ এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে খুঁজছে পুলিশ ■ সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে তরুণীকে গণধর্ষণ ■ ইউক্রেনে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৫
আবুধাবির সঙ্গে সম্পর্ক বাতিলের হুমকি
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Friday, 14 August, 2020 at 7:49 PM, Update: 14.08.2020 9:45:31 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই দেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান এবং তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চুক্তিতে পৌঁছানোর এই ঘটনাকে ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। অন্যদিকে ইরান বলছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘মুসলিম বিশ্বের পিঠে ছুরি চালানো’ হয়েছে।

শুক্রবার পৃথক বিবৃতিতে ইসরায়েল-আমিরাতের শান্তি চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছে তুরস্ক এবং ইরান। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রত্যাহার করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে এক টুইট বার্তায় নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরের যেসব এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ স্থগিত করতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোদমে শুরু হবে বলেও জানানো হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ‘এই চুক্তি মুসলিম বিশ্বের পিঠে ছুরি মারার’ শামিল বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। তেহরান বলছে, এটি আমিরাতের ‘কৌশলগত নির্বুদ্ধিতা’ এবং নিঃসন্দেহে এই অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিকে আরও জোরাল করবে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরায়েল-আমিরাতের চুক্তিটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল এবং এটি বাতিল হওয়া উচিত। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সমর্থনে এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হওয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ভণ্ডামিপূর্ণ আচরণ’র কথা এই অঞ্চলের মানুষ কখনও ভুলে যাবে না এবং ক্ষমা করবে না।

ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, আবু ধাবিতে দূতাবাস বন্ধ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে তুরস্ক। ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে পৌঁছানোয় এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তার দেশ।

ইরানবিরোধী জোট?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের একটি অংশ হলো- ইসরায়েল এবং মার্কিন উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করা।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে ইসরায়েলকে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়ার বিরুদ্ধে আবু ধাবিকে সতর্ক করে দিয়েছে তেহরান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য সহযোগী রাষ্ট্রের সরকারকে এই চুক্তির সব ধরনের পরিণতির দায় নিতে হবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক এবং সামরিক সংঘাত দিনে দিনে বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে তেহরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের শীর্ষস্থানীয় সমর্থক আবু ধাবি।

এই চুক্তির সমর্থক কারা?

চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম দেশ। এছাড়া মিসর এবং জর্ডানের পর আরব বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করছে আমিরাত।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং আবু ধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনায় এই চুক্তি নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন রাষ্ট্রনেতা ইসরায়েল এবং আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছেন।

‘ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা শিগগিরই বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ ও অন্যান্য বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বৈঠক করবেন।’ এছাড়াও শিগগিরই উভয় দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস স্থাপন করা হবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলকরণ বন্ধের প্রতিশ্রুতির জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের চুক্তির প্রশংসা করেছেন। এই অঞ্চলে চুক্তিটি শান্তি বয়ে আনবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

জর্ডান বলছে, শান্তি প্রক্রিয়াতে এই চুক্তির প্রভাব ইসরায়েল কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তার ওপর নির্ভর করছে। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান আল-সাফাদ বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।

আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ইসরায়েল এবং আমিরাতের রাষ্ট্রনেতারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, এপি।

দেশসংবাদ/জেএন/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  ইসরায়েল   সংযুক্ত আরব আমিরাত   মধ্যপ্রাচ্য   ইরান   তুরস্ক  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে আরও সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up