ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ || ৮ আশ্বিন ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়ে গেছে ■ কে হচ্ছেন বিএনপি’র নতুন মহাসচিব? ■ বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সৌদিকে চিঠি ■ কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘে এরদোগানের উত্তপ্ত বক্তব্য ■ ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছে হাটহাজারী মাদ্রাসা ■ জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা! ■ জেনারেল সারওয়ার্দীসহ ৪০ জনের ব্যাংক হিসাব তলব ■ করোনায় আরো সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ■ জাহালম কাণ্ড নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর রায় ■ আজও সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ চলছে ■ এবার ‘টুইনডেমিক’ আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র ■ ওমরাহ পালনে খুলছে পবিত্র কাবা ঘর
ধুলার নগরী চট্টগ্রাম
এম. মোশাররফ হোসাইন, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে
Published : Tuesday, 8 September, 2020 at 10:33 AM, Update: 08.09.2020 1:16:31 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম

রীতিমত ধুলার নগরীতে পরিণত হয়েছে দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ডখ্যাত বানিজ্যিক রাজধানি চট্টগ্রাম। ধুলাবালিতে দূষিত হচ্ছে প্রাকৃতিক বাতাস। বিষাক্ত হয়ে উঠছে ধুলায় ধূসর চট্টগ্রামের বাতাস। বাড়ছে অসহনীয় যন্ত্রণা, ভোগান্তি। সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

শীত আসার আগে বাড়ছে রোগ-বালাই। শিশু থেকে বুড়ো সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে। রাস্তায় নেমে দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করেও ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড সম্প্রসারণসহ উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের কারণে নগরীর বেশির ভাগ এলাকা ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নগরীর আশপাশের ইট ভাটার দূষণ। কল-কারখানার ধোঁয়াও প্রতিনিয়ত দূষিত করছে চট্টগ্রামের বাতাস। খোঁড়াখুঁড়ি নেই এমন সড়কেও ধুলাবালির অভাব নেই।

নগরীর বিমানবন্দর থেকে কাটগড় হয়ে সিমেন্ট ক্রসিং, সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বোট ক্লাব হয়ে বিমানবন্দর, পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বহদ্দারহাট থেকে সিঅ্যান্ডবি হয়ে কালুরঘাট সড়কসহ কয়েকটি এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ির ফলে সড়কজুড়ে ধুলাবালির স্তুপ জমেছে। মহানগরীর ১২শ কিলোমিটার পাকা সড়কের ৭৫৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয়হীন রাস্তা কাটাকাটি ও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কে ধুলাবালি জমে আছে। যানবাহনের চাকায় উড়ছে এসব ধুলাবালি।

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম


নগরীর কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কদ্বীপের গাছপালা থেকে শুরু করে দুই পাশের ভবনগুলোও ধুলায় ধূসর হয়ে গেছে। যানবাহন চালকেরা জানান, রাস্তায় ধুলার পরিমাণ এত বেশি কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ির গ্লাসে ধুলা জমে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ধুলার কারণে সামনের গাড়ি দেখতে পান না চালকেরা। গণপরিবহনের যাত্রীরা ধুলায় নাকাল হচ্ছে। পথচারী এবং রিকশা আরোহীদের অবস্থা আরও কাহিল। পথ চলতে গিয়ে ধুলাবালিতে গায়ের পোশাক নোংরা হয়ে যাচ্ছে। নাকে রুমাল চেপে ধরে পথচারীদের এসব এলাকা পার হতে দেখা যায়। সড়কের আশপাশের বাসাবাড়ির বাসিন্দারা পড়েছেন মহাবিপাকে। দরজা, জানালা বন্ধ রেখেও ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কের দুই পাশের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়কে চলতে গিয়ে নগরবাসীকে দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মুখে মাস্ক পড়া থাকলেও ধুলায় ধূসর হচ্ছে পুরো শরীর।

জানা যায়, নগরের সড়কে পানি ছিটাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক)  ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫০ লাখ ৩০ হাজার টাকায় একটি সুইপিং গাড়ি কিনেছিল। তাছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ৮ জুন এক কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা দুটি ‘সুইপিং গাড়ি’ দিয়েছিল চসিককে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধুলাবালি পরিষ্কারে সক্ষম গাড়ি তিনটিই বর্তমানে নষ্ট।

পরিবেশ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কয়েকটি জনবহুল এলাকায় বাতাসে বিভিন্ন প্রকার বস্তু কনার পরিমাণ সহনীয় মাত্রার চেয়ে ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। এই পরিস্থিতিতে বায়ু দূষণ জনিত রোগবালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে আশংকাজনক ভাবে। দূষণজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য অধিক ধুলাবালি প্রবন এলাকা পরিহার করাসহ অনান্য সাবধানতার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম


জানা যায়, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে প্রলম্বিত বস্তুকনার সহনীয় মাত্রা ২০০ মাইক্রোগ্রাম হলেও গত ডিসেম্বরে নগরীর জিইসি মোড়ের গড় মাত্রা ছিলো ৪১০, ষোলশহরে ৪০৫ এবং নিউমার্কেট মোড়ে ছিলো ৩৭৬ মাইক্রোগ্রাম। চট্টগ্রামের বাতাসে ১০ মাইক্রোগ্রাম সাইজের বস্তুকনা প্রতি ঘনমিটারে সহনীয় মাত্রা ১৫০ হলেও এখন তা গড়ে ২০০ এর বেশি থাকে। বস্তু কনা ছাড়াও কার্বন, সালফার, শিশা ও নাইট্রোজেনর পরিমানও সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

পরিবেশ দফতর পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন, একটি ফ্লাইওভার ও ওয়াসার একটি বড় প্রকল্পের কারণে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় বাতাসে দুষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। বায়ু দূষণ রোধে ইতোমধ্যে নেয়া ব্যবস্থাগুলো তেমন কার্যকর নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি অবনতি ঠেকাতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করছে এখানে, এসব যানবাহনের উল্লেখযোগ্য অংশই ফিটনেস বিহীন, কালো ধোয়াসহ অনান্য বিষাক্ত গ্যাস ছড়াচ্ছে এসব যানবাহন থেকে, উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, দূষণ রোধ করার জন্য পরিবেশ দফতর পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৭ ধারা অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও তা যথেষ্ট নয়, বিআরটিএ (সড়ক পরিবহন কর্তপক্ষ), পুলিশ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

নগরীর অলঙকার মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জেরিন আক্তার বলেন, এই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া যায় না, নাক চেপেও রেহাই পাওয়া যায় না, সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হয়।

এ কে খান মোড়ের ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীন বলেন, ধুলার যন্ত্রনায় দোকান খোলা রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। দোকানের সামনে দিনে তিন-চারবার পানি ছিটাতে হয়, তারপরও মালপত্র ধুলায় ঢেকে যায়।

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম

ধুলার নগরী চট্টগ্রাম


বায়ু দূষণ পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যেতে খাকায় প্রতিনিয়ত হৃদরোগী ও শ্বাস প্রশ্বাসজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। এছাড়া এ্যাজমা, ব্রংকাইটিস ও চর্ম রোগের আশংকাও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ইউএসটিসির চিকিৎসক ডা. হামিদ হোছাইন আজাদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে ধুলাবালি বেশি মাত্রায় উড়ে। ফলে বাতাসও দূষিত হয়। এ কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। এ সময় এলার্জিজনিত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়।  তাছাড়া শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, হাঁপানি, ফুসফুস সমস্যাসহ নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। তাই এ সময় সবার মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ধুলাবালি বিশেষ করে বায়ু দূষণের কারণে অনেক জটিল রোগের শিকার হচ্ছেন অনেকে। নাক, চোখ এবং কানে ধুলাবালি ঢুকছে। এতে করে নাক, কান, গলার জটিল রোগসহ নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ধুলাবালি থেকে রক্ষায় মুখে মাস্ক পড়ার পাশাপাশি মাথায় ক্যাপ বা টুপি পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া বাসায় ফিরে যতদূর সম্ভব হাত, মুখ এমনকি মাথা পরিষ্কার করা পারলে গোসল করে ফেলা জরুরি বলে জানান তিনি।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  ধুলা   চট্টগ্রাম  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়ে গেছে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up